অভিমানী বউ

ভালবাসার গল্প
Razia Aktar Moni || 03 June, 2018 ! 8: 08 am

রাত ১০ঃ২৫ মিনিট……
বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম।
হঠাৎ ফোনের #Messager টোন বেজে উঠলো….,
পকেট থেকে ফোনটা বের করে Message’টা seen করলাম।……..
মেসেজে লিখা ছিল এমন!……,
তুই যদি ১৫মিনিটের ভিতরে বাসায় না আসিস,
তবে আমি আজকে আবার হাত কাটবো!…
।।
পাগলীটা ৯ঃ০০টার পর থেকেই একের পর এক ফোন দিয়ে যাইতে’ছিল।
একবার রিসিভ করে বলেছি,
একটু পরে আসতেছি বলে রেখে দিয়ে ছিলাম।
তারপর আর রিসিভ করিনি।তাই রাগ করে এই Message’টা করেছে আমায়।ওয় যা বলে তাই করে,
সে খুবই রাগি,
এর আগেও অনেকবার আমার উপর রাগ করে হাত কেটেছে।তাই আর এক মুহুর্ত দেরী না করে,বাড়ির দিকে দৌড় দিলাম!……….
।।
#দরজায় একবার নক করতেই পাগলীটা একটা মোমবাতি হাতে বেরিয়ে এলো!.(তখন কারেন্ট ছিলনা)
– এই তুই এতক্ষন বাইরে কি করলি?…সেই কখন থেকে তোকে ফোন দিচ্ছি!….সত্যি করে বল কোথায় ছিলি?
– ওইতো বন্ধুদের সাথে ছিলাম।অনেকদিন পর ওদের সাথে দেখা হলো তাই একটু আড্ডা দিলাম।
– আমার চেয়ে তোর আড্ডায় বড় হয়ে গেল…?তুই জানিস না বাসায় একা একা আমার ভয় করে।
বলেই কান্না শুরু করে দিয়েছে।.(ওর কান্নাটা আমি একদম সহ্য করতে পারি না)
।।
আমি- আচ্ছা সোনা আমি আর কখনও রাতে বাইরে থাকবো””””না,,,,,,এবারের মত ক্ষমা করে দেও!প্লীজ
– তুই এর আগেও অনেকবার একথা বলেছিস,কিন্তুু পরে আর মনে থাকে না।তুই আর আমার সাথে কথা বলবিনা বলে দিলাম।
– আমার জানটা দেখি আমার উপর খুব রাগ করেছে।আমার সাথে কথা না বলে আমার রাগি বউ””টা কি থাকতে পারবে…?(আমি)
– হ্যা পারবো, তুই আমার সাথে কথা বলবি’না ভাল করে বলে দিচ্ছি,
(কথা গুলো বলার সময় আমার বউ”টার প্রতি খুব মায়া হচ্ছিলো,চোখ দিয়ে অঝরে পানি পড়ছিলো,মেয়েটা খুব অভিমানী)
আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে কতক্ষন থাকতে পারিস দেখাই যাবে,
– খেয়েছিস….?
– কুত্তা,বান্দর,সঝাড়ু…(আমার চুল গুলো একটু খাড়া খাড়া, তাই পাগলীটা আমাকে সজাড়ু বলে ক্ষ্যাপায়, পাগলীটা আমাকে ছাড়া কখনও খাইনি,তাই এইসব
বলছিল)………….
আমিঃ- জানি,আমার জানটা আমাকে ছাড়া খেতেই পারে না,চল খাই….
– যা তুই একাই গিল,আমি খাবো না,,,,(বলেই শুবার ঘরে চলে গেল)
।।
প্লেটে কিছু ভাত নিয়ে ঘরে গিয়ে ওকে বোঝানো শুরু করলাম,কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না।
এক সময়….
আমিঃ- জান, আমার না খুব খিদে লাগছে।
– খিদে লাগছে তো খা, আমাকে কেন বলছিস….?
আমিঃ- তুই একটু খাওয়াই’দে প্লীজ!…….
– পারবো না,,,যা তো এখান থেকে।(বুঝতে পারলাম পাগলী’টা আজকে খুব বেশি রাগ করে ফেলেছে)
।।
প্লেট’টা টেবিলে রেখে শুয়ে পড়লাম।
কেবল চোখে ঘুম ঘুম ভাব তখনি দেখি পাগলী”টা ভাতের প্লেট হাতে নিয়ে আমাকে ডাকছে।
– ঐ ওঠ,নে গিল,আমাকে ছাড়া তো আর খাবি না!…
আমিঃ- তোকে ছাড়া আমি কি করে খাবো বল…?
– মুখ ভেটকি দিয়ে বলে উঠলো,তোকে ছাড়া কি করে খাবো বল।কুত্তা আর একদিন যদি বাসায় আমাকে একা ফেলে বাইরে থাকিস,তোকে আমি ঠিকই মেরেই ফেলবো।
– আচ্ছা ঠিক আছে,দে খিদে লাগছে!……ও আমাকে তুলে খাওয়াচ্ছিল,(আসলে আপন মানুষের হাতে খাওয়ার মজাই আলাদা)
আমিও পাগলীটা’কে খায়িয়ে দিলাম,তারপর দুজনে শুয়ে পড়লাম…
।।
কিছুক্ষন পর……….
– এই শুনছিস,ওঠ না একটু……..
কিরে শুনতে পাচ্ছিস না,কান্না ভরা কন্ঠ আমার কানে ভেসে উঠল এই কুত্তা,এই বান্দর ওঠ বলছি।……
আমিঃ- কিরে,কি হইছে ডাকছিস কেন?..ঘুমাতেও দিবি না নাকি?…..
– আমাকে একটু বুকে জড়িয়ে নিবি,আমার না খুব ভয় করতেছে!….(বাইরে খুব বৃষ্টি আর বজ্রপাতের শব্দ
শোনা যাচ্ছে ,বজ্রপাতের শব্দ পাগলী খুব ভয় করে)
।।
পাগলীটাকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে নিলাম!…
ওয় আমার বুকে ছোট বাচ্চাদের মতো লুকিয়ে গেল!..
আসলেই ওর সব কিছু ছোট বাচ্চাদের মতই
বাচ্চাদের মত ঠোট ফুলিয়ে বলতে লাগলো,,
,,
,,
,,
– তোকে কখন থেকে ডাকছি,এতক্ষন উঠলি না কেন….?
আমিঃ ঘুমিয়ে পড়েছিলাম সোনা।
– ঘুমাবিই তো আমাকে তুই একটুও ভালোবাসিস না, আমার কথা তোর একটুও মনে থাকে না।
আমি যেদিন মরে যাবো,দেখবি সেদিন ঠিকই আমাকে মনে করে কাদবি!…
আমিঃ- না সোনা এভাবে বলিস না,তুই ছাড়া আমি একটা মুহূর্তও ভাল থাকতে পারবো নারে।
তোর যদি কিছু হয় আমি প্রতিদিন মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করবো……..রে।(চোখ থেকে দু’ফোটা জল গড়িয়ে
পড়লো,পাগলীটার গালে)
– মাথাটা একটু উঠিয়ে,কিরে কাদছিস কেন?
আমিঃ- তোকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো নারে,প্লিজ আমাকে ছেড়ে তুই কোথাও যাইস’নে কোনোদিন!……
– না সোনা,তোকে ছেড়ে আমি কোথায় যাবো না।
আমি তোর উপর রাগ করি ঠিক আছে,কিন্তুু আমি
তোকে অনেক ভালোবাসিরে,অনেক ভালোবাসি।
আমিঃ- আমি জানি,আমার আপন মানুষ আমাকে অনেক ভালবাসে,তা এখন একটু ঘুমাও….
– হ্যা ঘুমাচ্ছি,সারারাত জড়িয়ে ধরে থাকবি কিন্তুু, একটুও ছাড়বি না,
না হলে সকালে আমি খুব কান্না করবো।……
আমিঃ- আচ্ছা সোনা,তোকে আমি আমার বুক থেকে কখনই আলাদা করবো না।
অনেক রাত হয়েছে এখন একটু ঘুমাও সুন্দরী!…….
– আচ্ছা,উম্মাহ্…
(আমার গালে একটা চুমু দিয়ে পাগলীটা ঘুমিয়ে পড়লো)……
আমি ওকে জেগে জেগে বুকে জড়িয়ে পাহারা দিচ্ছিলাম।……
আমাদের ভালবাসা দেখে মনে হয় বৃষ্টিরাও আজকে অনেক হিংসে করছিলো।
হঠাৎ চোখের পাতাটা ভারি হয়ে এলো!😰
পাগলীটার কপালে একটা চুমু দিয়ে,ওকে বুকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম!…………….
।।
পাগলীটাকে নিয়ে ভালই কেটে যাচ্ছিল দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসার দিন গুলো!…….
কিছুদিন পরই পাগলীটা মা হবে,আর আমি হবো বাবা!!….
আজকাল ওকে একটু বাড়তি কেয়ার করা শুরু করেছি।
ওকে দেখে শুনে রাখার জন্য একটা কাজের
মেয়েকেও রেখেছি।
।।
একদিন আমি বাইরে ছিলাম,হঠাৎ কাজের মেয়েটা ফোন দিয়ে বললো,
ভাইয়া ভাবির অবস্থা খুব খারাপ……..
কথাটা শুনে বুকের মধ্যে কেমন জানি চিন চিন ব্যথা শুরু হয়য়ে গেল।
সেদিন কিভাবে বাসায় এসেছি আমার খেয়াল নেই।
এসে দেখি, পাগলী’টা শুয়ে থেকে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে, আমি দৌড়ে গিয়ে আমার জানটাকে মুহূর্তেই বুকে
জড়িয়ে নিলাম!……………………….
//
\\
//
আমার জান”টার আজ ডেলিভারি পেইন শুরু হয়েছে,,,
আমি তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে আছি।
খুব ছটফট করছিল আর কান্না করছিল পাগলীটা।
আমি আমার জানটার কষ্ট একদমই সহ্য করতে পারি না।
ওর সামান্য খারাপ লাগা টুকু আমার কাছে মৃত্যুের চেয়ে ভয়াবহ।
এককথায় নিজের জান নিজের দেহে আছে তা কখনোই মনে করিনা।ওকে বিয়ে করার পর কোনো কিছুর অভাব এবং কষ্ট কি জিনিষ কখনো ওকে বুঝতে দেইনি।
কোনো চাওয়া অপূর্ন রাখিনি…
সে খুব অভিমানী ছিল,অল্পতেই অভিমান করতো আর কাদতো।আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে ওর কান্না থামাতাম।
কিন্তুু আজ আর ওর কষ্টের কান্না থামানোর মত কোনো উপায় জানা নেই!
(চোখের পানিটুকু আটকাতে পারলাম না)
।।
দেরী না করে খুব তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে গেলাম!…..
সময় যতই যাচ্ছে পাগলীটার যন্ত্রনার পরিমাণ ততই বাড়ছে,চিৎকার করে কাদছিল আমার বউ।
ওর কান্নায় আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছিলো।
আজ একটা কথাও বলেনি আমার সাথে,কারন অসহ্য যন্ত্রনায় তার জানটা বেরিয়ে যাচ্ছিল।
আসলে মা হতে হলে একটা মেয়েকে কতটা কষ্ট আর ত্যাগ স্বীকার করতে হয়,
সেদিন আমি আমার জানটা”কে দেখে বুঝেছি।
।।
ডাক্তার তাকে ডেলীভারি রুমে নিয়ে যাচ্ছে,সাথে সাথে আমিও যাচ্ছিলাম।……
কিন্তুু ডাক্তার আমাকে রুমে ডুকতে দিল না।
ডাক্তার”কে অনেকবার অনুরোধ করলাম!….
ডাক্তার আমার জানটা খুবই ভিতু……
আমার ওর সাথে থাকা খুব দরকার,প্লীজ আমাকে সাথে নিন।ডাক্তার কোনো কথায় শুনলো না।
এই দিকে আমার জান’টা চোখ বন্ধ করে যন্ত্রনায় ছটফট করছিল।
আমাকে বাইরে রেখে ওরা আমার জান’টা কে ভিতরে নিয়ে গেল।
যাওয়ার সময় আমার লক্ষি সোনাটা চোখ মেলে একবার আমার দিকে তাকালো……………”কি মায়া যে ওর চোখে বলে বুঝাতে পারবোনা।
।।
আমি বাইরে অপেক্ষা করছি,আল্লাহ’কে ডাকছি আর কাদছি!…
আধা ঘন্টা পর ডাক্তার বেরিয়ে আসলেন।
এসে বললেন;
– আপনি একটু আমার চেম্বারে আসেন….
ডাক্তারঃ- আপনার স্ত্রীর অবস্থা খুব একটা ভাল না, দুঃখের সাথে বলছি আমরা যেকোনো একজন’কে
বাচাতে পারবো!…হয় মা অথবা সন্তান!!
এখন আপনিই বলুন কাকে চান…….?
আমি কি বলবো ভেবে পাচ্ছি না।কারন আমি পাগলীটাকে ছাড়াও থাকতে পারবোনা, আবার…………….
ডাক্তারের হাত ধরে বলেছিলাম ডাক্তার আমি দু’জনকেই চাই।
যত টাকা লাগে ডাক্তার আমি আপনাকে দিব!,
দরকার হয় আমার ঘর বাড়ি,জায়গাজমি এমনকি আমার দুটো কিডনী সব কিছু বিক্রি করে দিয়ে
আপনাকে টাকা দেব!….#প্লিজ ডাক্তার…
– আচ্ছা আপনি ভেঙ্গে পড়বেন না,আমরা দেখছি, আল্লাহ’কে ডাকুন….ডাক্তার আবার ডেলীভারি রুমে ঢুকলেন।বাইরে আমি, আমার জানা সবগুলো দোয়া কালেমা পড়ছিলাম,আর আল্লাহকে ডাকছিলাম।
প্রায় ১ ঘন্টা পর ডাক্তার বেরিয়ে আসলেন……
আমি উঠে দাড়িয়ে ডাক্তারকে জিজ্ঞাস করলাম ডাক্তার আমার জান’টার এখন কি অবস্থা,আর আমার সন্তান কেমন আছে…?
আমি কি এখন একটু আমার জান’টার সাথে দেখা করতে পারি!,
কেবল একনজর আমার সন্তান’কে দেখতে পারি…..?
ডাক্তার নীরব………
দু’চোখে দু’ফোটা বেদনার জল নিয়ে বলতে লাগলো,
– আপনার স্ত্রীর কন্যা সন্তান হয়েছে, কিন্তুু………..
– কিন্তু কি ডক্টর…. ?😰
– আমরা খুব দুঃখিত, আমরা মা মেয়ে কাউ’কেই বাচাতে পারিনি…………
ডাক্তারের মুখে কথাটা শোনার পর আমার কেন জানি মনে হলো!…..
আকাশ তার নিজের জায়গা”য় নেই,মাটিও আমার পায়ের নিচ থেকে সরে গেছে।চারিদিকে অন্ধকার হতে শুরু করলো,নিশ্বাস’টা বন্ধ হয়ে এলো।
শেষবারের মত একটাবার নিশ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করলাম।কিন্তুুু পারলাম না, মনে হচ্ছে আমিও মরে
যাচ্ছি!…….জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম……
।।
জ্ঞান ফিরে আসার পর বাবা মাকে পাশে পেলাম;
সবাই কাদতেছিল তখন…….
আর একটা অন্ধকার ঘরে আমার নিষ্পাপ মেয়ে আর আমার জানটাকে রাখা আছে।
আমি আমার জানটার কাছে গিয়ে দেখি একটা সাদা চাদর দিয়ে তাকে ঢেকে রেখেছে,পাশেই আমার নিষ্পাপ সন্তানও।
চাদর’টা সরালাম,আমার জানটা মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে আছে।আমার মেয়েটা দেখতে খুব সুন্দর,একবারে মায়ের মতো।আস্তে করে ডাক দিলাম,জান ……
জান ওঠ আমি এসেছি,,
কিরে,মেয়ে পেয়ে আমাকে ভুলে গেলি নাকি….?
ওঠ না, ওঠ না সোনা, একটু কথা বল আমার সাথে!,
দেখ,আমি কিন্তুু কেঁদে ফেলবো ওঠ বলছি।
আচ্ছা না উঠলি,এখন থেকে আমি আবার রোজ অনেক রাত করে বাড়ী ফিরবো।
তখন বুঝবি কেমন লাগে!…
আমাকে দেখে,আমার মা হাউ মাউ করে কেদে উঠলো। বাবা’রে বউ’ মা আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেছে,
ও আর কোনোদিন উঠবে না।(মা)
আমিঃ- এইটা কি করে হয় মা…আমি জান ছাড়া বাচতে পারবো নাকি?
পাগলী’টা প্রমিজ করেছিলো আমাকে ছেড়ে ঔ কোথাও যাবেনা কোনদিন।
দেখ,ও এখনই উঠে পড়বে, উঠেই আমাকে বলবে..
কুত্তা, বান্দর,সজাড়ু,,,তুই এতক্ষন কৈ ছিলি,তুই জানিস না অন্ধকারে একা একা ভয় করে আমার।….
।।
আমি আবার ডাকলাম,কিন্তুু আমার জানটা আজ আর কিছুতেই উঠছে না,
একটাবারও আমাকে দেখলো না।😰
একটা’বার আমার সাথে কথা বললো’না।
বলবে কি করে,আমার জানটা যে সত্যি সত্যিই তার প্রমিজ ভঙ্গ করে আমাকে ছেড়ে চলে গেছে অনেক
দূরে!………..যেখান থেকে পৃথিবীর সবকিছু বিনিময়ে কাউকে আবার ফেরানোর অপশন নেই!
আমার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে চিৎকার করে কাঁদতে ছিলাম।
আজ থেকে আমি একা,আমি বড়ই একা হয়ে গেলাম।আমার জান আমাকে ছেড়ে চলে গেছে খুব বহুহু দূরে,
কাদতে কাদতে আবার জ্ঞান হারালাম।
।।
জ্ঞান ফিরে নিজেকে বাড়িতে আবিষ্কার করলাম।
আমার মেয়ে আর আমার জানটাকে সবাই গোসল করাচ্ছে।…………………(এটাই শেষ গোসল)
এইদিকে সবাই আমাকে বোঝাচ্ছিল!..
বাস্তবতা বড়ই নিষ্ঠুর,বড়ই পাশান,কেদে আর কি হবে, নিজেকে একটু শক্ত কর…কারন বেচে থাকতে হবে যে।
নিজেকে আমি কিভাবে শক্ত করবো……..?
নিজেকে শক্ত করার কোনো কিছু জানা নেই তো আমার।
জীবনের শেষবারের মত একবার দু’চোখ ভরে ২জন কে দেখলাম।
কথা বলার বাকশক্তি অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছি,
কথা বলার কোনো শক্তিই নেই!…
আছে শুধু দু’চোখের ক্ষীণ দৃষ্টি…….😰
সন্ধা হয়ে এলো,মা মেয়েকে পাশাপাশি কবর দিলাম আমাদের বাড়ীর আমবাগানে….
স্বার্থপরের মত আমার ভীতু বউ’টাকে একাকি অন্ধকার ঘরে রেখে আসলাম।
ওকে ছেড়ে আসতে মন চাইছিল না।
মন চাইছিলো ওদের সাথেই থেকে যাই।
সবাই আমাকে জোর করে টেনে হেচড়ে ঘরে নিয়ে আসলো!…
।।
অনেক রাত হয়ে গেছে…
গতকাল রাতে আমার পাশে আমার জান ছিল।
কালকে কেন জানি,আমাকে একটু বেশি আদর করেছিল।
সারারাত আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়েছিল……
-কিন্তুু আমার পাশে আজ পাগলীটা নেই,আজ আমি একা!…
চোখে ঘুম নামের কোনো অস্তিত্বই আমার নেই।
লাইট’টা অন করলাম,সারা ঘর জুড়ে জড়িয়ে ছিল পাগলীটার স্মৃতি।
যেদিকেই তাকাচ্ছি কেবল ওকেই দেখতে পাচ্ছি!
– এই সেই আয়না যে আয়নার সামনে পাগলীটা সাজতো,আর আমি ওকে জ্বালিয়ে মারতাম।
মাথা আচড়ানোর সময় কতবার যে চুল
এলোমেলো করে দিয়েছি!..
কিন্তুু আজ থেকে পাগলী’টাকে আর জ্বালাতে পারবোনা আর কোনদিন।
শত ইচ্ছে করলেও তাকে আর দেখতে পাবোনা,তাকে ছুতে পারব না কিছুতেই।😰
হাজার ইচ্ছে করলেও তাকে বুকে জড়িয়ে একটু আদর করতে পারব না।
আমার সব কিছু এলোমেলো করে দিয়ে স্বার্থপরের মতো ও আমাকে একা ফেলে চলে গেছে।…
আজ থেকে সারারাত বাইরে থাকলেও কেউ বলবে না,
– কুত্তা,বান্দর এতক্ষন কোথায় ছিলি….?
সারাদিন না খেয়ে থাকলেও কেউ এসে বলবে না,
– নে গিল,আমাকে ছাড়া তো আর খাবি’না।
।।
মনে মনে আল্লাহ্ কে বলতেছিলাম,
নিজেকে এখন আমি কি দিয়ে সান্ত্বনা দেব তুমিই বলো শুনি।আমি এখন কি নিয়ে বেঁচে থাকবো এই পৃথিবীতে যেখানে আমার আপন মানুষটাই আজ আর নেই..?
এত বড় শাস্তি কেন দিলা আমারে,কি অপরাধ ছিলো আমার…?
।।
তার ব্যবহৃত সব জিনিস নাড়াচাড়া করতেছিলাম।
হঠাৎ ডাইরীর শেষ পাতায় চোখ আটকে গেল।
যেখানে লিখা ছিল!…….,

জান,
আমি জানি তুই আমাকে অনেক ভালোবাসিস…..
আমাকে ছাড়া থাকতেও তোর অনেক কষ্ট হবে।
আমিও তোকে অনেক ভালোবাসি সোনা,
এবং কি নিজের জীবনের থেকেও অনেক বেশি।
আর কিছুদিন পর’ই আমি তো মা হতে চলেছি!..
শুনেছি মা হওয়ার সময় নাকি অনেক কষ্ট হয়,অনেকে মারাও যায়।আমি যদি মরে যাই,
তাহলে একটুও কাদবি না কিন্তুু!
আমার সন্তানকে দেখে রাখিস,ওকে অনেক আদর করিস।
ঠিক মত খাস,শরীরের যত্ন নিস,আর হ্যা রাতে একদম বাসার বাইরে থাকবি না।তুই অনেক ভালো’রে,
আমি বিনা কারনে তোর উপর অনেক অবিচার করেছি,
রাগ করেছি,তোকে কষ্ট দিয়েছি।
আমাকে ক্ষমা করে দিস সোনা….
আমি যদি মরে যায় তুই একটা সুন্দরী মেয়েকে বিয়ে করবি।দেখিস ও আমার থেকেও তোকে বেশী ভালোবাসবে।আমাকে তুই কথা দে,সব সময় ভালো থাকবি!…….
এটা মনে রাখিস, আমি সব সময় তোকে দেখবো।
তুই যদি ভাল থাকিস আমিও ভাল থাকবো।
যদি কষ্টে থাকিস!…
তবে মনে রাখিস আমিও কষ্টে থাকবো।
ভালো থাকিস সোনা,
♥ইতি
তোর..
#___অভিমানী_বউ
।।
লেখাটা পড়ার সময় কখন যে ডাইরীর পাতাটা চোখের পানিতে ভিজে একাকার হয়ে গেছে বুঝতেই পারিনি।
ডাইরী’টা বুকে নিয়ে শুয়ে কাদতে লাগলাম।
বাইরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে,সাথে হালকা বজ্রপাতের শব্দ।
পাগলীটা এই বুঝি বলে উঠলো,জান,ওঠ!…..
আমার না খুব ভয় করছে,আমাকে একটু বুকে জড়িয়ে নিবি…………..?
কিন্তু এখন আর শত চাইলেও পূর্বের বাস্তব গুলো এখন শুধুই কল্পনা।
এইভাবে আমি নিরুপায় হয়ে হতাশার খাতায় এন্ট্রি হলাম।😰
#_____________________সমাপ্ত…………💘
।।
#লেখাটা_কাল্পনিক_ছিলো কিন্তু বাস্তব জীবনে যেনো এমনটা না হয় কারো সাথে!………কারন বাস্তবতা এরচেয়েও অধিক ভয়াবহ!………….তাই সাবধান মনের আপন মানুষ গুলো’কে সবময় খুব যতন করে আগলে রাখুন!…
যাতে করে পরবর্তীতে মায়ার আপসোস গুলো আপনাকে আজীবন কুড়েকুড়ে না খায়!….

Post Reads: 4899 Views