একজন দ্বীনি নারী হিসেবে স্বামির সাথে আপনার গুণাবালি কেমন হওয়া উচিৎ?

Islamic Question and Answer ইসলাম ও জীবন
Razia Aktar Moni || 06 May, 2020 ! 10: 23 pm

একজন দ্বীনি নারী হিসেবে স্বামির সাথে আপনার গুণাবালি কেমন হওয়া উচিৎ? দ্বীনি নারী হিসেবে, সালাত, সাওম, লজ্জাস্থানের হেফাজত, স্বামির আনুগত্য করা। এই ৪ টি বিষয় প্রত্যকটি মেয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। বোন আপনি বিবাহিত হোন বা অবিবাহিত এই বিষয় গুলো সম্পর্কে আপনার অবগত হওয়া টা জরুরী।
খুব ভয় হয় ভাবলে, নারীদের জান্নাতে যাওয়া সব চেয়ে সহজ অথচ আমাদের নারী জাতিরাই কিন্তু জাহান্নামী বেশি হবোঃ

রাসূল সাঃ বলেছেন, হে মহিলা সমাজ! তোমার সদাক্বাহ করতে থাক। কারণ আমি দেখেছি জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে তোমরাই অধিক।
তাঁরা জিজ্ঞেস করলেনঃ কী কারণে, হে আল্লাহ্‌র রাসূল? তিনি বললেনঃ তোমরা অধিক পরিমানে অভিশাপ দিয়ে থাক আর স্বামীর অকৃতজ্ঞ হও।
[সহীহ বুখারী ৩০৪, ১৪৬২]

আজকে স্বামীর অনুগত্য নিয়ে কিছু কথা বলবোঃ দেখুন বোনেরা আমরা কেনো জাহান্নামি হবো স্বামির প্রতি অকৃতজ্ঞতা তার মধ্য সব চেয়ে অন্যতম কারণ, আমরা কিন্তু নিজের অজান্তেই স্বামির অকৃতজ্ঞতা করি, একটি উধারণের মাধ্যমে সেটি বুঝবেনঃ

আমরা আধুনিকতা করতে গিয়ে আজ আমাদের ডিজিটাল সংসার কেমন? উদাহরণ দেখুনঃ
উদাহরণ১ঃ
⭕স্ত্রীঃ এই তোমার শার্ট থেকে ঘামের এত বাজে গন্ধ কেন.??ভালো মানের বডি স্প্রে ব্যবহার করতে পারো না.?

⭕স্বামীঃ ভালো মানের ইতো বডি স্প্রে ব্যবহার করি।কিন্তু অফিসের যে চাপ সারাদিন দৌড়াদৌড়ি করতে হয় প্রচুর ঘামাতে হয়।

⭕স্ত্রীঃ বাড়িতে এসে সাথে সাথে ধুয়ে নিতে পারো না.??

⭕স্বামীঃ সারাদিন অফিস করার পর আর ইচ্ছে করে না।খুব ক্লান্ত লাগে সকালে গোসল করার সময় ধুয়ে নিবো।

⭕স্ত্রীঃ তাই বলে আমার জামা কাপড়ের উপরে মেলে রাখতে হবে.??? তোমার শার্টের দুর্গন্ধে তো আমার জামা গুলো দুর্গন্ধ হয়ে যাচ্ছে।কাল থেকে বাসা এসেই বাথরুমে ফেলা রাখবা সকালে গোসল করতে ধুয়ে নিবা।

⭕স্বামীঃ তুমি তো গোসল করার সময় ধুয়ে দিতে পারো।তাহলে আমার একটু কষ্ট কম হতো.?

⭕স্ত্রীঃ তোমার কি মনে হয় আমি সারাদিন বসে থাকি.??সংসারের কত কাজ করতে হয় খবর আছে। তোমার জামা কাপড় তুমি ধুয়ে নাও আমি পারবো না।স্বামী না জবাব…

আমরা অধিকাংশ মেয়েরাই কিন্তু স্বামীদের সাথে এরকম ব্যাবহার করে ফেলি, কিন্তু মাথায় রাখিনা স্বামি কে কটু কথা বলার জন্যই আমাদের নারী জাতি অধিকাংশ জাহান্নামে যাবো।

কিন্ত প্রকৃত দ্বীনদার স্ত্রী হিসেবে আপনার এমন হওয়া উচিৎ ছিলোঃ
উদাহরণঃ২

💙স্বামীঃ এই তুমি প্রতিদিন আমি আসার পর পাঞ্জাবিকে এভাবে ধরে রাখো কেন.?? তোমার নাকে দুর্গন্ধ লাগে না.?

💙স্ত্রীঃ লাগেতো কিন্তু দুর্গন্ধ না আমার নাকে আতরের ঘ্রাণ লাগে।

💙স্বামীঃ মানে…?

💙স্ত্রীঃ আপনার হালাল উপর্জনের ঘামের গন্ধ টা আমার কাছে আতরের ঘ্রাণের চেয়ে বেশি ভালো লাগে।তাই প্রতিদিন এভাবে ধরে ঘ্রাণ উপভোগ করি। আমি চাই এই গন্ধে যেন হারাম উপার্জনের দুর্গন্ধ না হয়।

💙স্বামীঃ ইনশাআল্লাহ,, আমি কখনো তা হতে দিবো না।

💙স্ত্রীঃ আপনি একটু বিশ্রাম নিন আমি পাঞ্জাবি টা ধুয়ে দিচ্ছি তারপর একসাথে খাবো ইনশাআল্লাহ।

💙স্বামীঃ আপনাকে কষ্ট করতে হবে না আমি সকালে ধুয়ে নিবো আপনাকে সারাদিন কত পরিশ্রম করতে হয়।

💙স্ত্রীঃ কই আর পরিশ্রম করি সারাদিন ঘরেই বসে থাকি আর রান্না বান্না করি আপনাকে অফিসে কত কাজ করতে হয় আপনি একটু বসুন, আমি পাঞ্জাবি টা ধুয়ে আসছি তারপর একসাথে খাবো ইনশাআল্লাহ।

💙স্বামীঃ তাহলে আমিও খাবার টা বেড়ে নিচ্ছি।

💙স্ত্রীঃ ঠিক আছে। ( মুচকি হাসি দিয়ে)

আপনারাই বলুন কোনটিতে স্বামীর উত্তম কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা হলো? সালাত সাওম, পর্দা সব করেও স্বামীর মন জয় করতে না পারলে আপনি একজন স্ত্রী হিসেবে ব্যার্থ।
কিন্তু এখন অনেকেই ভাবতে পারেন আমার স্বামি আমার সাথে ভালো ব্যাবহার করেনা আমি কেনো করবো? আপনার স্বামি ভালো ব্যাবহার না করলেও তাকে খুশি রাখা আপনার কর্তব্য, আর এর জন্য উত্তম প্রতিদান অবশ্যয় আপনার আছে, আর তা হলো জান্নাত।
“রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,,,,
স্বামী খুশি থাকা অবস্থায়
কোনো স্ত্রী মারা গেলে সে জান্নাতি
(তিরমিজি:১১৬৯)

স্বামী কথা না শুনলে, তাকে ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকুন, নামাজের দাওয়াত দিতে থাকুন। একদিন সে বুঝবে ইনশাআল্লাহ। আর না বুঝলেও আপনার জায়গা থেকে ধৈর্য্য নিয়ে আপনি বুঝাবেন এটি আপনার কর্তব্য
আজ আমাদের দেশ আমাদের সমাজ এমন এক পর্যায় এ এসে পৌছেছে যে আমরা নারী পুরুষের সমঅধিকার আদায় করতে গিয়ে আমরা আমাদের গুনাহর খাতা ভারি করে ফেলি। স্বামি নামক ব্যাক্তিটির সাথে খারাপ আচরণ করি। আধুনিকতা ফলো করতে গিয়ে আমরা আখিরাত কে ভুলে যায়।
অথচ আমরা এই হাদীস টি জানিই না, আবার অনেকে জানলেও মানি না, যে স্বামীর সাথে অকৃতজ্ঞতা তাকে কটু কথা বলার জন্য আমরা জাহান্নামি হবো।

চিন্তা ভাবনা পাল্টানোর চেষ্টা করি আমরা, আমাদের দরকার নেই ২০২০ তে নিজেকে আধুনিক ডিজিটাল স্ত্রী তৈরী করার, আমরা ১৪০০ বছর পূর্বের খাদিজা আঃ, আয়েশা রাঃ, ফাতেমা রাঃ এর মত হবো, কারন আমরা দুনিয়া নয় আখিরাতের অনন্ত জীবন চাই।

ফেইসবুকে এক দ্বীনি বোনের তার স্বামি কে নিয়ে তার স্বপ্নর কথা পড়েছিলাম, সেইম টি আপনাদের সামনে তুলে ধরলামঃ

আমার বর হতে হলে……. শর্তসমূহ:
❤আপনাকে পাঁচওয়াক্ত নামাজ আদায়কারী হতে হবে।
ছেঁচা মেয়েলি পুরুষ হতে পারবেন না
শার্ট প্যান্ট পরলেও সমস্যা নেই,কিন্তু প্যান্ট টাখনুর উপর শরীয়ত মোতাবেক থাকা চাই।

❤আমাকে পূর্ণ পর্দায় রাখতে হবে,বাধ্যগত।
সপ্তাহে অন্তত দু’দিন রোজা রাখতে হবে এবং সেটা আমি, আপনি দুজনই।

❤তাহাজ্জুদের নামাজে ডেকে উঠানোর দায়িত্ব টা আপনাকেই নিতে হবে।আমি কিন্তু জেগেও ঘুমের ভান করে থাকবো।

❤আমি নামাজে আলসেমি করলে আমাকে খুব শাসন করতে হবে।যুদিও আল্লাহ আমাকে যেন স্ব-ইচ্ছায় নামাজ পড়ার তৌফিক দান করেন।

❤কোথাও বের হওয়ার আগে কপালে চুম্বন দিতে ভুলবেন না।যদি ভুলে যান ভুলের জন্য নির্দিষ্ট শাস্তি থাকবে।

❤আমার সাজসজ্জার জন্য যাবতীয় সামগ্রীর লিস্ট দিয়ে দিবো,আপনাকে সাধ্যমত কিনে আনতে হবে,আপনার জন্য সাজতে তো হবে!

❤আমার উপর রাগ করে থাকতে পারবেন না।আমার অভিমান আপনাকেই ভাঙ্গাতে হবে।
আমি রেগে গেলে আপনি চুপ থাকবেন আর আপনি রেগে গেলে আমিও চুপ থাকবো।

❤আমার মা-বাবা কে অসম্মান করতে পারবেন না,আমি আপনার বাবা-মা কে অসম্মান করবো না। এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে (দুজনকেই)।

❤টিভি,সিনেমা,নাটক ইত্যাদি সম্পূর্ণ বর্জন করতে হবে। আমার জন্য রোজ সন্ধ্যে বেলা কিছু না কিছু খাবার জিনিস আনতে হবে। তা না হলে রাতে ভাত বেরে খাওয়াবো না। হুম….

❤আপনার রোজগারের (হালাল) অল্পকিছু আমাকে দিতে হবে, যেন আমি অল্প অল্প জমিয়ে আপনার জন্য কিছু কিনে আপনাকে সারপ্রাইজ দিতে পারি।
আমাকে অনেক ভালবাসতে হবে।

❤কমপক্ষে দুইয়ের অধিক বাচ্চা নিতেই হবে। ( যদি আল্লাহ চান) ছেলেদের হাফেজ আর মেয়েদের হাফেজা বানাবো এই বিষয়ে একমত হতেই হবে (আপত্তি থাকলে কেটে পড়ুন)

❤আমি আধুনিক হয়ে,বেপর্দা হয়ে অনেক পাপ করেছি,আর না। (মহান রাব্বুল আলামিন আমাকে মাফ করুক) আর আমার সন্তানদের তা কখনোই হতে দিবোনা। ফিরে যাবো ১৪০০ বছর পূর্বে।
আরো অনেক কন্ডিশন আছে,তা জীবনে চলার পথেই না হয় অবগত করবো।
সবর আর ভালবাসায় দুজন দুজন কে পাল্টে দেবো। ,,,,,,,,ইনশআল্লাহ।♥

আমরা কি আমাদের দ্বীনকে ভালোবেসে এমন হতে পারিনা? ইনশাআল্লাহ! মনে রাখবেন আপনার স্বামির জন্যই আপনার অর্ধেক দ্বীন পূর্ণ হইছে, আমদের সকলের সংসার উধারণ ২ এর মতো করার চেষ্টা করবো আমরা, আর আমাদের চাওয়া গুলোও যেনো এই দ্বীনি বোনটির মত হয়। সব মেয়েদের জন্য কিন্তু অনেক শিক্ষা রয়েছে পোষ্টটিতে।

মনে রাখবেন, স্বামি শুধু ভালোবাসা আদায়ের ব্যাক্তিত্ব নয়, স্বামি সম্মানীয় ব্যাক্তিও বটে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় যেনো আখিরাত না ভুলে যায় আমরা।

আল্লাহ যেনো সব বোনদের, নামাজি, পর্দাশীল, এবং স্বামীর অনুগত্যশীল হওয়ার তাওফিক দান করেন।

জাজাকাল্লাহ খইরন!

Comments

Post Reads: 314 Views