নবীজির চার কন্যা

Islamic Question and Answer ইসলাম ও জীবন
Imran Khan || 10 September, 2019 ! 8: 17 pm

##নবীজির_চার_কন্যাঃ

মহানবী (সাঃ) ছিলেন কন্যা অন্তপ্রাণ পিতা। তিনি তাঁর কন্যাদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন। মহান আল্লাহও পবিত্র কুরআনে তাঁর কন্যাদের প্রসঙ্গের অবতারণা করে তাদের সম্মানিত করেছেন। এরশাদ হয়েছে : ‘হে নবী! আপনি আপনার পত্নী ও মেয়েদের এবং মোমিনদের স্ত্রীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের ওপর টেনে নেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে। ফলে তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’

[সূরা আহজাব : ৫৯]

নবী (সাঃ) এর কন্যা ছিলেন চারজন। জয়নব (রাযিঃ), রুকাইয়া (রাযিঃ), উম্মে কুলছুম (রাযিঃ) ও ফাতেমা (রাযিঃ)। সব মেয়েই তাঁর প্রথম স্ত্রী উম্মুল মুমিনিন খাদিজা (রাযিঃ) এর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁরা সবাই ইসলাম গ্রহণ এবং হিজরতের গৌরব লাভ করেন।

◾জয়নব বিনতে মুহাম্মদ (সাঃ)

তিনি মহানবী (সাঃ) এর প্রথম মেয়ে। নবুয়তের ১০ বছর আগে তার জন্ম। ইসলামপূর্ব যুগে খালাতো ভাই আবুল আস বিন রবির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তিনি ও তার তিন বোন মা খাদিজা (রাযিঃ) এর সঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করেন। নবী (সাঃ) মদিনায় হিজরত করলে তিনি স্বামীর সঙ্গে মক্কায় থেকে যান। স্বামী ইসলাম গ্রহণ না করায় তিনি মদিনায় বাবার কাছে চলে যান। পরবর্তী সময়ে স্বামী আবুল আসও ইসলাম কবুল করে মদিনায় গিয়ে মিলিত হন। নবী (সাঃ) তার কাছে নিজ মেয়েকে ফিরিয়ে দেন। স্বামী ইসলাম কবুলের পর জয়নব (রাযিঃ) বেশি দিন হায়াত পাননি। হিজরতের অষ্টম বছর তিনি ইন্তেকাল করেন। তিনি ছিলেন এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী। আলী নামের ছেলেটি শিশুকালেই মারা যান। উমামা নামের মেয়েটিকে রাসূল (সাঃ) কাঁধে তুলে নিতেন। তিনি সেজদায় গেলে শিশু উমামা নানার কাঁধে গিয়ে বসে পড়তেন। তিনি নামলে নবী (সাঃ) সেজদা থেকে মাথা তুলতেন।

◾রুকাইয়া বিনতে মুহাম্মদ (সাঃ)

নবুয়তের সাত বছর আগে মক্কায় জন্ম। হাবশা ও মদিনা উভয় জায়গায় হিজরতের সৌভাগ্য লাভ করায় তাকে বলা হয় ‘দুই হিজরতের অধিকারিণী’। তাকে উম্মে আবদুল্লাহ নামেও ডাকা হতো। ১০ বছর বয়সে প্রথম বিয়ে হয় চাচা উতবা বিন আবি লাহাবের সঙ্গে। বাবার ঘোর শত্রু শ্বশুর আবু লাহাবের বিরুদ্ধে পবিত্র কুরআনে সূরা নাজিল হলে স্বামী তাকে তালাক দেয়। নবী (সাঃ) এর কাছে ওসমান বিন আফফান (রাযিঃ) তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তার সঙ্গে বিয়ে দেন। মক্কায় পৌত্তলিকদের অত্যাচার সীমা ছাড়ালে তিনি স্বামী ওসমান (রাযিঃ) এর সঙ্গে হাবশায় হিজরত করেন। ঈমান রক্ষার্থে যারা ইসলামে প্রথম হিজরত করেন তিনি ও তার স্বামী ওসমান (রাযিঃ) ছিলেন তাদের প্রথম কাফেলার সদস্য।

হাবশায় আবদুল্লাহ নামে এক ছেলে জন্মলাভ করে। কিছুদিন পর মুহাজির কাফেলার কিছু সদস্য মক্কায় ফিরে আসেন। তারাও ছিলেন সে কাফেলায়। ক’দিন পর তারা সেখান থেকে হিজরত করে মদিনায় চলে যান। মদিনায় মাত্র ছয় বছর বয়সে তার ছেলে আবদুল্লাহ মারা যান। সন্তান শোকে তিনি কাতর হয়ে পড়েন। এমতাবস্থায় তাকে মারাত্মক জ্বর পেয়ে বসে। মহানবী (সাঃ) যখন ইসলামের প্রথম যুদ্ধ ঐতিহাসিক গজওয়ায়ে বদর অভিযানে বের হন, অসুস্থ স্ত্রীর শয্যাপাশে থাকায় তার স্বামী ওসমান (রাযিঃ) এতে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। তিনি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে অংশ নিতেই পারেননি। রাসূল (সাঃ) তাকে যুদ্ধে না গিয়ে অসুস্থ জীবন সঙ্গিনীর পাশে থেকে যাওয়ার নির্দেশ দেন। যেদিন জায়েদ বিন হারেস (রাযিঃ) বদর যুদ্ধে বিজয়ের সুসংবাদ নিয়ে মদিনায় আসেন, সেদিনই তিনি পরপারে যাত্রা করেন। এটি ছিল দ্বিতীয় হিজরির রমজান মাসের ঘটনা। তাকে মদিনার জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।

◾উম্মে কুলসুম বিনতে মুহাম্মদ (সাঃ)

মহানবী (সাঃ) এর তৃতীয় মেয়ে। নবুয়তের ছয় বছর পূর্বে জন্ম। বোন রুকাইয়া (রাযিঃ) এর ইন্তেকালের পর শোকবিহ্বল মুহূর্তে রাসূল (সাঃ) তাকে ওসমান (রাযিঃ) এর সঙ্গে বিয়ে দেন। নবী (সাঃ) এর দুই মেয়ের স্বামী হওয়ার সৌভাগ্যের কারণে ওসমান (রাযিঃ) কে জুন্নুরাইন তথা দুই নূরের অধিকারী উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এ এমন এক সম্মান ও গৌরব, যা অন্য কোনো সাহাবির ললাটে জোটেনি। আল্লাহর নির্দেশেই এ ঘটনা ঘটে। মহানবী (সাঃ) বলেন, ‘আমার কাছে জিবরাঈল এসে বললেন, আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন উম্মে কুলসুমকে ওসমানের সঙ্গে রুকাইয়ার সমপরিমাণ মোহরানায় বিয়ে দিতে।’ তিনি তার বোন ফাতেমা (রাযিঃ) এর সঙ্গে মহানবী (সাঃ) প্রেরিত জায়েদ বিন হারেস (রাযিঃ) এর নেতৃত্বে ওসমান ও আবু বকর (রাযিঃ) এর পরিবারের সঙ্গে মদিনায় হিজরত করেন। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। হিজরতের নবম বছর শাবান মাসে তার ইন্তেকাল ঘটে। তাকে তার বোন রুকাইয়া (রাযিঃ) এর পাশে জান্নাতুল বাকিতে কবরস্থ করা হয়।

◾ফাতেমা বিনতে মুহাম্মদ (সাঃ)

রাসূল (সাঃ) এর সর্বকনিষ্ঠ মেয়ে। তার জন্ম নবুয়তের পাঁচ বছর আগে। মদিনায় হিজরতের দুই বছর পর আলী বিন আবি তালেব (রাযিঃ) এর সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। তৃতীয় হিজরিতে তার প্রথম সন্তান হাসান (রাযিঃ) ভূমিষ্ঠ হন। হিজরতের চতুর্থ বছর শাবান মাসে জন্মলাভ করেন হোসাইন (রাযিঃ)। পঞ্চম হিজরিতে প্রথম মেয়ে জয়নব জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মের দুই বছর পর দ্বিতীয় মেয়ে উম্মে কুলসুমের মা হওয়ার গৌরব লাভ করেন।

ফাতেমা (রাযিঃ) চলনে-বলনে ছিলেন পিতার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যশীল। ফাতেমা (রাযিঃ) রাসূল (সাঃ) এর কাছে প্রবেশ করলে তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন। তারপর তাকে চুমু দিয়ে নিজের পাশে বসিয়ে নিতেন। রাসূল (সাঃ) তাকে এত বেশি ভালোবাসতেন যে, তিনি বলেছেন, ‘ফাতেমা আমার অংশ। যে তাকে কষ্ট দেয় সে যেন আমাকেই কষ্ট দেয়।’

[সহিহ বুখারি]

আরেক হাদিসে নবী (সাঃ) তাঁর আদরের দুলালীর মর্যাদা তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, ‘জান্নাতের নারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতমরা হলেন খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রাযিঃ), ফাতেমা বিনতে মুহাম্মদ, মারইয়াম বিনতে ইমরান ও ফেরাউন-পত্নী আসিয়া বিনতে মুজাহিম।’

[মুসনাদ আহমদ]

রাসূল (সাঃ) এর ওফাতকালে তাঁর সন্তানদের মধ্যে কেবল তিনিই জীবিত ছিলেন। বাবার মৃত্যুর মাত্র ছয় মাসের মাথায় দ্বাদশ হিজরির রমজান মাসে তিনিও তাঁর সঙ্গী হন। তাকে মদিনার জান্নাতুল বাকিতে কবরস্থ করা হয় ||

মহানবী (সাঃ) ছিলেন কন্যা অন্তপ্রাণ পিতা। তিনি তাঁর কন্যাদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন। মহান আল্লাহও পবিত্র কুরআনে তাঁর কন্যাদের প্রসঙ্গের অবতারণা করে তাদের সম্মানিত করেছেন। এরশাদ হয়েছে : ‘হে নবী! আপনি আপনার পত্নী ও মেয়েদের এবং মোমিনদের স্ত্রীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের ওপর টেনে নেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে। ফলে তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’

[সূরা আহজাব : ৫৯]

নবী (সাঃ) এর কন্যা ছিলেন চারজন। জয়নব (রাযিঃ), রুকাইয়া (রাযিঃ), উম্মে কুলছুম (রাযিঃ) ও ফাতেমা (রাযিঃ)। সব মেয়েই তাঁর প্রথম স্ত্রী উম্মুল মুমিনিন খাদিজা (রাযিঃ) এর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁরা সবাই ইসলাম গ্রহণ এবং হিজরতের গৌরব লাভ করেন।

◾জয়নব বিনতে মুহাম্মদ (সাঃ)

তিনি মহানবী (সাঃ) এর প্রথম মেয়ে। নবুয়তের ১০ বছর আগে তার জন্ম। ইসলামপূর্ব যুগে খালাতো ভাই আবুল আস বিন রবির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তিনি ও তার তিন বোন মা খাদিজা (রাযিঃ) এর সঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করেন। নবী (সাঃ) মদিনায় হিজরত করলে তিনি স্বামীর সঙ্গে মক্কায় থেকে যান। স্বামী ইসলাম গ্রহণ না করায় তিনি মদিনায় বাবার কাছে চলে যান। পরবর্তী সময়ে স্বামী আবুল আসও ইসলাম কবুল করে মদিনায় গিয়ে মিলিত হন। নবী (সাঃ) তার কাছে নিজ মেয়েকে ফিরিয়ে দেন। স্বামী ইসলাম কবুলের পর জয়নব (রাযিঃ) বেশি দিন হায়াত পাননি। হিজরতের অষ্টম বছর তিনি ইন্তেকাল করেন। তিনি ছিলেন এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী। আলী নামের ছেলেটি শিশুকালেই মারা যান। উমামা নামের মেয়েটিকে রাসূল (সাঃ) কাঁধে তুলে নিতেন। তিনি সেজদায় গেলে শিশু উমামা নানার কাঁধে গিয়ে বসে পড়তেন। তিনি নামলে নবী (সাঃ) সেজদা থেকে মাথা তুলতেন।

◾রুকাইয়া বিনতে মুহাম্মদ (সাঃ)

নবুয়তের সাত বছর আগে মক্কায় জন্ম। হাবশা ও মদিনা উভয় জায়গায় হিজরতের সৌভাগ্য লাভ করায় তাকে বলা হয় ‘দুই হিজরতের অধিকারিণী’। তাকে উম্মে আবদুল্লাহ নামেও ডাকা হতো। ১০ বছর বয়সে প্রথম বিয়ে হয় চাচা উতবা বিন আবি লাহাবের সঙ্গে। বাবার ঘোর শত্রু শ্বশুর আবু লাহাবের বিরুদ্ধে পবিত্র কুরআনে সূরা নাজিল হলে স্বামী তাকে তালাক দেয়। নবী (সাঃ) এর কাছে ওসমান বিন আফফান (রাযিঃ) তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তার সঙ্গে বিয়ে দেন। মক্কায় পৌত্তলিকদের অত্যাচার সীমা ছাড়ালে তিনি স্বামী ওসমান (রাযিঃ) এর সঙ্গে হাবশায় হিজরত করেন। ঈমান রক্ষার্থে যারা ইসলামে প্রথম হিজরত করেন তিনি ও তার স্বামী ওসমান (রাযিঃ) ছিলেন তাদের প্রথম কাফেলার সদস্য।

হাবশায় আবদুল্লাহ নামে এক ছেলে জন্মলাভ করে। কিছুদিন পর মুহাজির কাফেলার কিছু সদস্য মক্কায় ফিরে আসেন। তারাও ছিলেন সে কাফেলায়। ক’দিন পর তারা সেখান থেকে হিজরত করে মদিনায় চলে যান। মদিনায় মাত্র ছয় বছর বয়সে তার ছেলে আবদুল্লাহ মারা যান। সন্তান শোকে তিনি কাতর হয়ে পড়েন। এমতাবস্থায় তাকে মারাত্মক জ্বর পেয়ে বসে। মহানবী (সাঃ) যখন ইসলামের প্রথম যুদ্ধ ঐতিহাসিক গজওয়ায়ে বদর অভিযানে বের হন, অসুস্থ স্ত্রীর শয্যাপাশে থাকায় তার স্বামী ওসমান (রাযিঃ) এতে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। তিনি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে অংশ নিতেই পারেননি। রাসূল (সাঃ) তাকে যুদ্ধে না গিয়ে অসুস্থ জীবন সঙ্গিনীর পাশে থেকে যাওয়ার নির্দেশ দেন। যেদিন জায়েদ বিন হারেস (রাযিঃ) বদর যুদ্ধে বিজয়ের সুসংবাদ নিয়ে মদিনায় আসেন, সেদিনই তিনি পরপারে যাত্রা করেন। এটি ছিল দ্বিতীয় হিজরির রমজান মাসের ঘটনা। তাকে মদিনার জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।

◾উম্মে কুলসুম বিনতে মুহাম্মদ (সাঃ)

মহানবী (সাঃ) এর তৃতীয় মেয়ে। নবুয়তের ছয় বছর পূর্বে জন্ম। বোন রুকাইয়া (রাযিঃ) এর ইন্তেকালের পর শোকবিহ্বল মুহূর্তে রাসূল (সাঃ) তাকে ওসমান (রাযিঃ) এর সঙ্গে বিয়ে দেন। নবী (সাঃ) এর দুই মেয়ের স্বামী হওয়ার সৌভাগ্যের কারণে ওসমান (রাযিঃ) কে জুন্নুরাইন তথা দুই নূরের অধিকারী উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এ এমন এক সম্মান ও গৌরব, যা অন্য কোনো সাহাবির ললাটে জোটেনি। আল্লাহর নির্দেশেই এ ঘটনা ঘটে। মহানবী (সাঃ) বলেন, ‘আমার কাছে জিবরাঈল এসে বললেন, আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন উম্মে কুলসুমকে ওসমানের সঙ্গে রুকাইয়ার সমপরিমাণ মোহরানায় বিয়ে দিতে।’ তিনি তার বোন ফাতেমা (রাযিঃ) এর সঙ্গে মহানবী (সাঃ) প্রেরিত জায়েদ বিন হারেস (রাযিঃ) এর নেতৃত্বে ওসমান ও আবু বকর (রাযিঃ) এর পরিবারের সঙ্গে মদিনায় হিজরত করেন। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। হিজরতের নবম বছর শাবান মাসে তার ইন্তেকাল ঘটে। তাকে তার বোন রুকাইয়া (রাযিঃ) এর পাশে জান্নাতুল বাকিতে কবরস্থ করা হয়।

◾ফাতেমা বিনতে মুহাম্মদ (সাঃ)

রাসূল (সাঃ) এর সর্বকনিষ্ঠ মেয়ে। তার জন্ম নবুয়তের পাঁচ বছর আগে। মদিনায় হিজরতের দুই বছর পর আলী বিন আবি তালেব (রাযিঃ) এর সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। তৃতীয় হিজরিতে তার প্রথম সন্তান হাসান (রাযিঃ) ভূমিষ্ঠ হন। হিজরতের চতুর্থ বছর শাবান মাসে জন্মলাভ করেন হোসাইন (রাযিঃ)। পঞ্চম হিজরিতে প্রথম মেয়ে জয়নব জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মের দুই বছর পর দ্বিতীয় মেয়ে উম্মে কুলসুমের মা হওয়ার গৌরব লাভ করেন।

ফাতেমা (রাযিঃ) চলনে-বলনে ছিলেন পিতার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যশীল। ফাতেমা (রাযিঃ) রাসূল (সাঃ) এর কাছে প্রবেশ করলে তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন। তারপর তাকে চুমু দিয়ে নিজের পাশে বসিয়ে নিতেন। রাসূল (সাঃ) তাকে এত বেশি ভালোবাসতেন যে, তিনি বলেছেন, ‘ফাতেমা আমার অংশ। যে তাকে কষ্ট দেয় সে যেন আমাকেই কষ্ট দেয়।’

[সহিহ বুখারি]

আরেক হাদিসে নবী (সাঃ) তাঁর আদরের দুলালীর মর্যাদা তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, ‘জান্নাতের নারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতমরা হলেন খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রাযিঃ), ফাতেমা বিনতে মুহাম্মদ, মারইয়াম বিনতে ইমরান ও ফেরাউন-পত্নী আসিয়া বিনতে মুজাহিম।’

[মুসনাদ আহমদ]

রাসূল (সাঃ) এর ওফাতকালে তাঁর সন্তানদের মধ্যে কেবল তিনিই জীবিত ছিলেন। বাবার মৃত্যুর মাত্র ছয় মাসের মাথায় দ্বাদশ হিজরির রমজান মাসে তিনিও তাঁর সঙ্গী হন। তাকে মদিনার জান্নাতুল বাকিতে কবরস্থ করা হয় ||

Post Reads: 78 Views