boat-man-poem

পদ্মা পাড়ের পরান মাঝি

কবিতা
Imran Khan || 04 September, 2019 ! 9: 07 am

পদ্মা পাড়ের পরান মাঝি… []
“””””””””””””””” জাহানারা খাতুন।
“””””””””””””””” তাং ৩১/০৮/২০১৯ ইং

পদ্মা পাড়ের পরান মাঝি –
সকাল সন্ধ্যা ক্লান্ত দেহে বৈঠা চালায়
নদীর দুই পাড়ে যাত্রীদের করে পারাপার
সকলের প্রিয় পরান মাঝি,
ভাবে না কি করে চলবে তার সংসার।

ঘেমে নেয়ে ক্লান্ত দেহে শ্রান্ত হয়ে
প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে পরান মাঝি ঘরে ফিরে!
সাত বছরের ময়না দৌড়ে এসে বাবাকে জড়িয়ে ধরে,
আদরে আদরে ভরিয়ে তোলে, হেসে খেলে এমনিভাবেই
কেটে যায় পরান মাঝির নৌকার জীবন

ময়নার হাসি হাসি মুখ দেখেই ভরে যায়
পরান মাঝির ক্লান্ত দেহের অবসাদগ্রস্ত বুক
ময়না হেসে খেলে নেচে নেচে চলে,
তাতেই পরান মাঝি অনুভব করে সংসার সুখ;
এই সুখ বেশি দিন পরান মাঝির কপালে সয় না।

হঠাৎ পরান মাঝির অসুস্থ হয়ে পড়ে,
কাশিতে রক্ত ঝরে মেঝের মাটি রক্তাক্ত হয়ে যায়,
বুকে খুব ব্যথা হয়, ব্যথা আর কমে না বাড়তেই থাকে।
খুক খুক কাশি আর বুকে ব্যথা নিয়েই
চলে পরান মাঝির খেয়া পারাবার।

পরান মাঝি ক্লান্ত দেহে ঘরে ফিরলে
ময়না ব্যথিত হৃদয়ে বাবার সেবা যত্ন করে
তেল মালিশ করে বাবার বুকে পিঠে গলায়,
খানিকটা জলপড়াও খাইয়ে দেয়
কোন কিছুতেই আর পরান মাঝি সুস্থ হয় না।

গ্রামের ডাক্তার পরেশ বাবু পরানের খেয়ার যাত্রী বলে,
পরান কাকু শহরে গিয়ে ডাক্তার দেখান, চিকিৎসা নেন
আপনার যক্ষা রোগ হয়েছে, শহরে এর ভাল চিকিৎসা আছে
চিন্তার করবেন না, আপনি ভাল হয়ে যাবেন!
পরান মাঝি কোন গুরুত্ব দেয় না?

প্রাণহীন শুস্ক হাসি দিয়ে পরান মাঝি বলে,
ডাক্তার বাবু, আমার কি আর সময় আছে!
সামনের পৌষ মাসে আমার দুই ম্যাইয়ার বিয়া,
ছেলে দেখে বিয়া ফাইনাল করে রাখছি,
হাসপাতাল গেলে টাকা যোগাড় করবো কেমনে?

নৌকা না চালাইয়া খেয়া বন্ধ রাখলে
খামু কি? মাইয়াগো বিয়ার যোগাড়ের জন্য
টাকা যোগাড় করবো কেমন করে?
টাকার যোগাড় না হলে, মাইয়াগো বিয়া
কেমন করে দিবো।

খেয়ার পরান মাঝি পৌষ মাসের দেখা আর পায়না
অসুস্থ হয়ে ময়নার কোলে ঢুলে পড়ে!
ময়না অবাক নয়নে স্থির ভাবে বাবার দিকে
ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে।
কিংকর্তব্যবিমূঢ় ময়না কি করবে বুঝতে পারে না!

পরান মাঝির স্বপ্ন আর পূরণ হয় না!
স্বপ্নেই থেকে যায় পরান মাঝির মেয়ের বিয়ে!
শহরে চিকিৎসার জন্য আর যাওয়া হয় না;
পরান মাঝির প্রাণহীন দেহটা পড়ে থাকে খেয়ায়
যাত্রী পারাবারের ঠিকানা দূর অজানায়।

হাসোৎজ্জ্বল ময়নার হাসিতে আজ বিষাদের ছায়া
ময়না বাবার প্রতিচ্ছায়া আর খুঁজে পায় না;
কৈশোরেই ময়না জীবন এর বাস্তবতা বুঝতে পারে
বাঁচার তাগিদে ময়নাকে জীবন সংগ্রামে নামতে হয়
ময়না তার সংগ্রামী জীবনে লড়াকু বিজেতা সৈনিক।

হারিয়ে গেছে ময়নার হাসি মুখ, ছেলেবেলার চপলতা
ঘাটে ঘাটে ময়নারা হোচট খায়, আবার উঠে দাঁড়ায়
থামে না ময়নারা, চলতেই থাকে বাঁচার আশায়
ঘাত প্রতিঘাতে ধাক্কা খেতে খেতে ময়নারা এগিয়ে যায়
এভাবে ময়নারা ধাক্কা খেতে খেতে বাঁচতে শিখে যায়।

রচনকালঃ
৩১/০৮/২০১৯ইং

Post Reads: 59 Views