pichi bow

পিচ্চি বউ-পর্ব–২

ভালবাসার গল্প
Imran Khan || 16 August, 2019 ! 12: 16 pm

আমার পিচ্চি বউ

পর্ব–২

ওয়াশ রুম থেকে বের হয়েই আমার চা’ কই?
-বানিয়ে খান।
আমি বানাবো তো আপনি আছেন কি
করতে?
:কি?(বড় বড় চোখে তাকিয়ে)
আমি নরম গলায় বললাম, দেখো বউ আমিতো
চা বানাতে পারিনা।
:ঐ মিয়া ঐ, আমি আপনার কোন জন্মের বউ?
-কেন এই জন্মের।
:আপনাকে না কালকে বললাম। আমি ‘রাফি’
কে ভালোবাসি।
-আচ্ছা ঠিক আছে,আমার ভুল হয়েগেছে
sorry!
: শুধু sorryতে কাজ হবেনা।
-তো বউ আমাকে কি করতে হবে?
:আবার?

  • কি বলব, আমিতো তোমার নাম ও এখনো
    জানিনা।

: হুম, বলদ হলে যা হয়। আমার নাম অবনী।
নাম না জেনে কেউ বিয়ে করে? আমি না
হয় ঠ্যালায় পড়ে করেছি।
আমিওতো ঠ্যালায় পড়েই করে ছিলাম (মনে
মনে বললাম)
:কি বিড়বিড় করছেন? যা বললাম তাই
করেন?

-কি করব বউ থুক্কু অবনী।
: কান ধরে উঠাবসা করুন গুনে গুনে ১০বার,
তারপর চা বানিয়ে আনুন।
মেয়ে বলে কি? এতোটুকু পিচ্চি মাইয়া
আমাকে দিয়ে কান ধরে ওঠাবসা করাবে?
আমার ম্যাম ও আমাকে দিয়ে জীবনেও
কান ধরে ওঠাবসা করাতে পারেনি। ক্লাস
সেভেন এ থাকতে, একবার ক্লাস ফাঁকি
দিয়ে হলে গিয়েছিলাম। ছবি দেখতে
যায়নি। এক হিরো এসেছিল তাকে দেখতে
গিয়েছিলাম। যখন ক্লাসে ফিরলাম। তখন
ম্যাম বলল জিসান কান ধরে দাঁড়িয়ে থাক।
আর আমি বই পত্র না নিয়ে ক্লাস থেকে
সোজা বাসায় পালিয়ে এলাম। তারপর
টানা ৩০দিন পর স্কুলে গিয়েছিলাম। তাও
ম্যাম আমাদের বাসায় এসে আব্বুকে বুঝিয়ে
সুঝিয়ে আমাকে নিয়ে গিয়েছিল। আর এখন
এই পিচ্চিটার কথা আমাকে শুনতে হবে? ও
আল্লাহ উপর থেকে দড়ি ফালাও উইঠা যায়।
কি হল? দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি বিড়বিড়
করছেন? কান ধরে উঠাবসা করবেন? না
আপনার আব্বুকে ডাকবো।
আমিতো মহাখুশি হয়ে বললাম ডাকুন আমি
ভাবলাম আব্বুকে ডাকলে হয়ত আমি কান
ধরা শাস্তি থেকে অন্তত রেহাই পাবো।
তিনি তার ছেলেকে এই শাস্তির হাত
থেকে রক্ষা করবেন।

কিন্তু না ঠিক তার উল্টাটা করলেন। আব্বুও
মেয়েটির সাধে জুড়ি বাধলো। আর আমায়
১০বারের জাগায় ২০বার উঠাবসা করতে
হলো। এটা মেয়ে না, একটা জিনিষ বটে?
একদম ধানি কাঁচা লংকা। আমাকে এক
হাটে কিনে আরেক হাটে বেচতে এর বেশি
সময় লাগবেনা। আমি চা বানালাম আর
ইচ্ছামতো দিলাম লবণ। যেনো আমার
শাস্তির কিছুটা হলেও উশুল হয়। কিন্তু
পিচ্চিটা কি করল আব্বুর কানের কাছে
যেয়ে আমার নামে নালিশ দিলো।
মেয়েটা যাদু জানে নির্ঘাত।

এ দুইদিনে আব্বুকে ওর হাতের মুঠোয় করে
ফেলছে। আব্বু আমাকে ডাকল।
জিসান….এই….জি…..সা……ন
জ্বি আব্বু
:তুই নাকি অবনীর চায়ে লবন ঢেলে দিছস?
-কই নাতো আব্বু।
:অবনী মা, যে বলল ও কষ্ট করে তোর জন্য চা
বানিয়েছিল। আর তুই তোর চা’টা খেয়ে ওর
চায়ে লবণ ঢেলে দিছস?

আমিতো বকা বোণে গেলাম। চা কষ্ট করে
বানাইলাম আমি আর নাম নিলো উনি।
লবণটা না হয় আমিই দিয়েছি। এটা কি বউ?
নাকি অন্য কিছু….(মনে মনে বললাম)
নাতো আব্বু আমি লবণ দিতে যাবো কেন?
:কিন্তু অবনী মা যে বলল।
-মিথ্যে বলছে।

: ও মিথ্যে বলছে। না তুই বলতেছিস। আজ
সকালের নাস্তা তোর বন্ধ।
-আব্বু অনেক ক্ষুধা লাগছে তো? না খেয়েই
অফিসে যাবো? আমার কিন্তু আলছার হয়ে
যাবে?
:বাবাকে ব্লাক মেইল করছিস?

  • সে সাধ্য কি আমার আছে!
    :মানে?
  • ওকে আমি বাহিরে থেকেই খেয়ে নেবো।
    আমি আব্বুর রুম থেকে আমার রুমে এসে
    দেখলাম পিচ্চিটা বানদরের মতো
    লাফাচ্ছে, মানে নাচছে।
    কি হল নাচতেছো কেন?
    -খুশির ঠ্যালায়।

আমার নামে আব্বুর কাছে মিথ্যে বলছ
কেন?
-আমাকে বিয়ে করার কি মজা সেটা
বোঝাইলাম।
আমি এরপর অফিসে চলে আসলাম।
‘সকালেরনাস্তা’ একটা হোটেল থেকে করে
নিলাম। অফিস থেকে ফেরার পথে আমার
পিচ্চি বউয়ের জন্য রজনীগন্ধা ফুলের মালা
আনলাম। আমার হাতে ফুলের মালা দেখে
বলল হাতে কি ওটা?
-মালা
কারজন্য?
কারোজন্য না……..
পিচ্চিটা হেসে হেসে বলল, ও তারমানে
আপনি গলায় পরবেন বলে নিয়ে এসেছেন?
-তুমি সব বুঝো আর এটা বুঝোনা কার জন্য
এনেছি?

কি করে বুঝবো? আগে কি কখনো বলদের
সাথে বিয়ে করেছি?
-কি আমি বলদ?
:১৫০ বার আপনি বলদ।
আমি বলদ হলে তুমি ধানি লংকা।
:আব্বুকে ডাকবো?
-নাহ্!
:তাহলে আমার একটা কথা শুনতে হবে।
-কি কথা?

:আমার সাথে এখন কুতকুত খেলতে হবে।
আমি চোখ কপালে তুলে বললাম। আমি এ
খেলা জীবনেও খেলিনি।
: এই জন্যইতো খেলতে বলছি। যেনো
সবাইকে বলতে পারেন জীবনে একবার হলেও
বউয়ের সাথে কুতুকুত খেলেছি।
-কি বললে? পিচ্চিটার মুখে আমার বউ শুনে
কেমন জেনো এক ভালোলাগা কাজ করল।
: না, কিছুনা। বললাম আপনি না পারলে
আমি শিখিয়ে দিবো।

এই বলে সে এক পা উপরে তুলে বলল এভাবে
আপ্নিও পা তুলুন তারপর কিতকিত বলুন আর
গুটি টাকে একেক ঘরে নিয়ে আসুন।
আমিতো মহা ঝামেলায় পড়লাম। এই
রাতের বেলা এক ঠ্যাং তুলে আমাকে
লাফাইতে হবে। আর এটা কিতকিত খেলা?
ও আল্লাহ কি বউ জুটালে আমার কপালে.
আমি এক ঠ্যাঙ উঠাইয়া যেই কিতকিত
বললাম। আর ওমনি পড়ে গেলাম। মেয়েটার
সে কি হাসি। ওর হাসির মাঝেও একটা
মায়া আছে। এই হাসিটার জন্য নিজের
জীবনটাও কোরবানি করা যায়।
পিচ্চি তখন হাসতে হাসতেই বলল, থাক
আপনাকে আর কিতকিত খেলতে হবেনা।
খাটের নিচে ফুটবল আছে সেটা বের করুন।
দুজনে আজ ফুটবল খেলবো।
-কে বলল খাটের নিচে ফুটবল আছে?
:আমি নিজে দেখেছি। এখন আর না বলতে
পারবেন না। এখন খেলতেই হবে। আবার এটা
বলবেন না যে আমি ফুটবল খেলতে পারিনা।
-বললেও কি তুমি রেহাই দিবে? যে জল্লাদ!
:কি বললেন, দাঁড়ান দেখাচ্ছি মজা। এই বলে
এই রাতেও আব্বুকে ডাকতে লাগলো। ওর
ডাকার স্টাইল দেখে আমি হেসে মরছি ও
বলতেছে ও টাক শশুর আব্বা! শশুরকে কে
কেউ টাক শশুর আব্বা বলে? আমার হাসি
দেখে ও আরো জোরে চিল্লাতে শুরু করল।
আমি তখনি মুখটা চেঁপে ধরলাম। আর আমার
হাতে দিলো এক কামড় বসিয়ে উঁহু,

চলবে….

গল্পগুলো ভালো লাগলো অবশ্যই লাইক কমেন্ট এবং শেয়ার করবেন।

Post Reads: 2499 Views