বানভাসির সাতকাহন…জাহানারা খাতুন।

কবিতা
Imran Khan || 01 August, 2019 ! 8: 59 am

] বানভাসির সাতকাহন… [] “”””””””” জাহানারা খাতুন।

বর্ষায় মুষলধারে বৃষ্টি…
চারিদিকে পানিতে ভরে যায়।
বাড়ি- ঘর, মাঠ- ঘাট পানিতে ভরে
মানবকূল, গবাদি-পশুর কষ্ট বাড়ায়।

বানভাসি মানুষের হাহাকারে…
বর্ষারানী বিচলিত হন না
থাকা-খাওয়া, চলা ফেরার কষ্টে
বানভাসি মানুষের দুঃখের শেষ থাকেনা।

বন্যার পানিতে ক্ষেতের ফসল নষ্ট…
দুঃখ -কষ্ট,  অভাবে, মানসিক যন্ত্রণায়
পাগল হয়ে বাঁচার তাগিদে যুদ্ধ শুরু হয়
যা অনেক দিন ভোগায়।

নৌকাই একমাত্র ভরসা…
সাপের উপদ্রব এতো বেড়ে যায় যে
বাধ্য হয়ে আশ্রয় শিবিরে যেতে হয়
নিরাপত্তা ও নিরাপদ আশ্রয়ের আশায়।

আশ্রয় শিবির, বাড়ি ঘর কে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনে হয়
খাদ্য, পানির অভাবে কষ্ট বেড়ে যায়;
থাকে ত্রাণের আশায়।
ত্রাণকর্মকর্তারা এই সুযোগে নিজের আখের গুছাতেই বেশি ব্যস্ত দেখা যায়।

এই কষ্টময় সময়ে…
প্রকৃতি খেলে তার অপরুপ খেলা
শাপলা, শালুক,  কদম,  পলাশ, শিমুল
নানা রঙ্গে প্রকৃতিকে অভিবাদন জানায়।

সুজলা- সুফলা, শস্য- শ্যামলা বাংলাদেশের
গ্রামে গ্রামে বানভাসি মানুষেরা অসহায় হয়ে পড়ে
বন্যার পরে নতুন করে বাঁচার আশায়
নতুন ভাবে জীবন শুরু করে।

প্রকৃতিও থেমে থাকে না…
পানিতে সব গাছ পালা নষ্ট হয়ে মরে যায়
কিছু কিছু গাছ পালায় নতুন পাতা গজায়
নতুন করে ফুল হয়, ফল হয়।

সময় থেমে থাকে না…
জীবন চলে জীবনের বহমান ধারায়
প্রতি বছর বন্যা হয়, ঋতুর পরিক্রমায়
আসে দুঃখের সাগর নিয়া।

আমরা থেমে যাই না…
বাঁচার জন্য নব উদ্যমে চেষ্টা করে যাই
স্বপ্ন দেখি, বাস্তবায়নের রুপ দিয়ে
আশার আলো নিয়ে বেঁচে থাকি।

রচনাকালঃ
২৭/০৭/২০১৯ইং

Post Reads: 57 Views