hijol-gacher-atto-kotha

হিজল গাছের আত্মকথা – জাহানারা খাতুন।

কবিতা
Imran Khan || 20 June, 2020 ! 9: 03 am

হিজল গাছের আত্মকথা…[]
“”””””জাহানারা খাতুন।
“”””””””””””””” ১৬/০৬/২০২০ইং
আমি হিজল গাছ, পায়রা নদীর তীরে করি বাস…
আষাঢ়ের ঘন বরষায় উথাল-পাথাল জোয়ার ভাটায়-
ছলাৎছলাৎ ধ্বনি শুনি…! বিজলির চমক দেখি…!!
দেখি মেঘেদের গর্জন, আলো আঁধারির খেলা।
দেখি ঝড়, বন্যা, সাইক্লোন, হ্যারিকেন, ঘুর্ণিঝড়…
দেখি সারি সারি লাশ, ঘর বাড়িহীন মানুষের আজাহারি
দেখি অসহায় মানুষের বর্ণনাতীত দুঃখ-কষ্ট, বঞ্চনা।
এই সব দেখে দেখে আমি বেড়ে উঠি আমার মতো।
দিনের বেলা মানুষের কোলাহলে সরগরম থাকি
রাত কাটে নদীর তীরে বন্ধুবিহীন নিরব নিঃসঙ্গতায়…
রাতের প্রহর কাটে না… কাটতে চায় না…
লম্বা সময় নিরব, নির্জন, নিসঙ্গ কাটে আমার।
এভাবে দেখতে দেখতে কেটে যায় দিন, মাস, ক্ষণ
গত বছরের শীতের শুরুতে সাইবেরিয়া থেকে
শীতের পরিযায়ী পাখিরা আসে আমাদের দেশে
পাখিরা নানা গাছের ডালে অভয়ারণ্যে আশ্রয় নেয়।
একটি পরিযায়ী বুনো হাঁস কি মনে করে আমার ডালে
বাসা বাধে পরম যত্ন নিয়ে মমতায় ভালবাসায়
ভাবলাম…! নিসঙ্গতায় বন্ধু পেলাম এবার…!!
কিছু দিন ভাল যাবে আমার।
আমি মহানন্দে নদীর মাঝে বুনো হাঁসের সাতার দেখি
টুপ করে জলে ডুব দিয়ে মাছ ধরা দেখি
বিভিন্ন গাছের ডালপালা এনে বাসা বানাতে দেখি
আরও দেখি কি নিপুন দক্ষতায় বাসা নির্মাণের কৌশল।
বুনো হাঁসটি সুখে দুঃখে পরম সঙ্গী হলো আমার…
শীত শেষে বুনোহাঁসটি আমাকে নিঃসঙ্গ করে
চলে গেলো তার আপন নিবাস সাইবেরিয়ায়।
এভাবে কয়েক দিন মন খারাপ গেলো আমার।
এরপর ঋতুরাজ বসন্তের দক্ষিণা সমীরনে…
আমার ডালে কাকের বাসায় ডিম দিল কোকিল
সারা দিনমান থেমে থেমে কোকিলের কুহুতানে
আমি কেমন যেনো মোহাবিষ্ট হয়ে থাকি।
কিভাবে যেনো কোকিলের সাথে আমার ভাব হলো…
আমি ওর কালো রুপের লাবন্যে, সুরের যাদুতে
সব দুঃখ কষ্ট ভুলে, খুব খুশি হয়ে তার বন্ধু হলাম
কিন্তু সুখ আমার বেশি দিন সইলো না।
এরপর এলো বৈশাখী ঝড়…! এই ঝড়ে…
আমি, আমার ডালপালাসহ নদীর পাড় ভেঙ্গে
একা…! একদম একা নিসঙ্গ হলাম
কোথাও আর কোকিল বন্ধু কে খুঁজে পেলাম না।
প্রভাতে দেখি…
ধ্বংস স্তুুপের মাঝে আমি অর্ধেক নদীর পাড়ে
বাকি অর্ধেক নদীর ভিতরে ডালপালাহীন দাঁড়িয়ে
নিজে নিজেকে আর চিন্তে পারি না।
এরপর এলো বর্ষা…
আমার কান্নায় নদীর জল আকাশের সাথে মিশেছে
দিগন্তের ঐ নীল নীলিমার সীমান্ত রেখায়…
আমি অশ্রুজল মুছে ক্লান্ত পথিক কে ছায়া দিয়ে যাই।
আমার সুখ, ভালবাসা বেশিদিন টিকে না…
কেনো… কেনো… আজোও আমি জানি না।
কেনো… আমার ভালবাসারা হারিয়ে যায়…?
আমি খুঁজে পাই নি তার কোন কারন…?
আমি তো খুব মায়াবতী হিজল গাছ…
খুব ভালবেসে আশ্রয়হীন কাঠ ঠোঁকরাকে
আমার বক্ষ বিদীর্ণ করে জায়গা দিয়েছি
তবুও তাকে বুকের মাঝে ধরে রাখতে পারি নি।
অবশেষে, নদীর ভাঙ্গন শুরু হলো…
সর্বগ্রাসী পায়রার ভাঙ্গনে আমি অতল গভীরে হারাই
প্রবল স্রোতের টানে অজানা গন্তব্যের পানে…!
কেউ, আমাকে আর খুঁজে পায় নি! জানি, পাবে না..!
রচনাকালঃ
১৭/০৬/২০১৭ ইং

Comments

Post Reads: 349 Views