আপনি আল্লাহর নবী হলেও আপনার সাথে আমার একটা মিল আছে…..

ইসলাম ও জীবন
Razia Aktar Moni || 02 August, 2018 ! 1: 06 pm

মহানবী সাঃ দেখলেন তাঁর ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে
একটি ছেলে অনবরত কেঁদেই যাচ্ছে। নবীজীকে দেখে
তার কান্না আরো বেড়ে গেলো। ছেলেটি নবীকে
বললো-আপনি আল্লাহর নবী হলেও আপনার সাথে আমার
একটা মিল আছে। আপনিও এতিম,আমিও এতিম। আর
মদীনায় এসে আপনার উট যে জায়গায় প্রথম বিশ্রাম
নিয়েছিলো সেই জায়গাটাও ছিলো এতিমের। তাই,
একজন এতিমের দুঃখ আপনি ছাড়া আর ভালো কে
বুঝবে? তাছাড়া শুনেছি মদীনায় আপনার চেয়ে উত্তম
বিচারক আর কেউ নেই। নবীজী ছেলেটির সাথে তার
বাড়ি পর্যন্ত আসলেন। নিজ উদ্যোগে ছেলেটির
প্রতিবেশীর সাথেও কথা বললেন। কিন্তু, মহানবী সাঃ
এর যে কিছুই করার নেই। কারণ- যে খেজুর গাছটি নিয়ে
বিরোধ-তার মালিক আসলে এক ইহুদী প্রতিবেশি। উনি
কোনো কিছুতেই গাছটির মালিকানা ছাড়তে রাজিনা।
নবীজি নিজে জামার আস্তিন দিয়ে ইয়াতিম
ছেলেটির চোখ মুছলেন। কিন্তু নিজের চোখের কান্না
বন্ধ করে রাখতে পারলেন না। সাহাবা আবু দারদা রাঃ
দেখেন প্রিয় নবীর চোখে অশ্রু।
নবী বললেন- তোমাদের মাঝে যে এই খেজুর গাছটি
কিনে ইয়াতীমকে দিতে পারবে-সে জান্নাতে এরকম
দশটি খেজুর গাছের মালিক হবে। ব্যবসায়িক
বুদ্ধিসম্পন্ন ইহুদি লোকটি কথাগুলো শুণলো। সে ভালো
করেই জানে, নবীর প্রেমে সাহাবারা জীবন দিতে
প্রস্তুত। ইহুদি লোকটি দশ, বিশ, পন্চাশ এমনকি
একশতটি খেজুর গাছের বিনিময়ে তার একটি খেজুর
গাছ দিতে রাজী না। শুধু এক শর্তে রাজি যদি আবু
দারদার পুরো ৬০০ খেজুর গাছের পুরো বাগানটিই
তাকে দিয়ে দেয়া হয়। জীবনে এমন সুযোগ তার আর
আসবেনা।
আবু দারদা রাঃ ইয়াতিম ছেলেটিকে বললেন- ঐ
খেজুর গাছটিই কেন তোমাকে নিতে হবে। এর
পরিবর্তে তুমি আমার বাগান থেকে দশটি খেজুর গাছ
নিয়ে নাও। তাহলে তো সব সমস্যার সমাধান হয়ে
যায়। ইয়াতিম ছেলেটি বললো- দশটি খেজুর গাছের
জন্যতো আমার কোনো লোভ নেই। ওখানে আমার
পিতার কবর। তাই গাছসহ জায়গাটুকু চাচ্ছি আমার
নিজের আঙ্গিনার সাথে ঘিরে রাখতে।
আবু দারদা রাঃও মনে মনে ভাবছেন- যদি গাছটি
কিনে দিতে পারি। তাতে শুধু নবীর আর এতিমের
চোখের অশ্রু মুছবে না। মৃত্যুর পর যে জান্নাতই
ঠিকানা হয়ে যাবে। কারণ- জান্নাতে খেজুর গাছ
পাওয়া মানেইতো, আগে জান্নাতে যাওয়া। এখানে
গাছতো শুধুই একটা উপলক্ষ্য মাত্র। মৃত্যুতো সবার জন্য
নিশ্চিত। কিন্তু জান্নাততো নিশ্চিত না। মাত্র ৬০০
খেজুর গাছের বিনিময়ে জান্নাত প্রাপ্তির এমন
সুযোগ এই জীবনে আর আসবেনা। একজন মানুষের
চিন্তা দুনিয়ার জীবনে ছয়শত বৃক্ষের খেজুর বাগান
নিয়ে আর সাহাবার চিন্তা মৃত্যুর পর জান্নাত নিয়ে।
দুজন মানুষের চিন্তার তফাৎটা দেখছেন। একজন মানুষ
ভাবছেন- আহারে লোকটা কত বেবুক। এক গাছের জন্য
পুরো বাগান দিয়ে দিলো। আরেকজন মানুষ ভাবছেন-
আহারে জীবন কত সুন্দর। মৃত্যুর পর জান্নাত নিশ্চিত
হয়ে গেলো।
আবু দারদা রাঃ তার পুরো খেজুর বাগান ইহুদি
লোকটিকে দিয়ে বাড়ীর দিকে ছুটছেন। এতো দ্রুত
ছুটছেন- যেন তার পরিবারের কেউ আর একটি খেজুরও
যেন -বাগান থেকে না খায়। মালিকানা হস্তান্তর
করা না পর্যন্ত পুরো বাগানা এখন ইহুদী লোকটির
আমানত। একটা খেজুর খেয়েও যেন সেই আমানত নষ্ট
না হয়। শুধুমাত্র একটা খেজুরের জন্য আমানত খেয়ানত
হওয়ার ভয়ে যে মুসলমানরা কাতর ছিলেন- সেই
মুসলমানরা আজ অবলীলায় মিলিয়ন ডলার লুট করে,
লোন খেলাফ করে বাহাদুরি করে, ঘুষের টাকায়
বিলাসীতা করে, ফাইল আটকায়ে মসজদি বসে তসবিহ
পড়ে, ব্যাংক লুপাট করে এবং করার পর কিছুই মনে
করেনা বরং মুসলমান হিসাবে গর্ববোধ করে। একটা
খেজুর খেয়ানত হওয়ার ভয় যাদের ছিলো তারাইতো
আসলে জান্নাতবাসী হওয়ার যোগ্য। প্রতিটি মুহুর্তে
আমানতের গাফলতি করে যে জীবন আমাদের সেই
জীবনে কি জান্নাত প্রত্যাশা করা সাজে?
কিছুদিন পর ওহুদের যুদ্ধে আবু দারদা রাঃ শহীদ হলে-
নবী সাঃ বললেন- জান্নাতের নহর আবু দারদার তৃষ্ণা
মিটাতে আর জান্নাতের সুশীতল ছায়া আবু দারদাকে
ছায়া দেয়ার অপেক্ষায় আছে।
[মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১২৫০৪; ইবনে হীব্বান, হাদীস
৭১৫৯; আস-সিলসিলা সাহীহাহ, হাদীস ২৯৬৪;
মুস্তাদরাকে হাকীম, হাদীস ২১৯৪]

Please follow and like us:

Post Reads: 166 Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × four =