আপনি কি এখনই সন্তান গর্ভধারনে ইচ্ছুক নন? স্বল্পমেয়াদি জন্ম নিয়ন্ত্রন পিল খাওয় নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছেন?

নারী মেয়ে বনাম ছেলে স্বাস্থ্য টিপস
Imran Khan || 17 January, 2019 ! 10: 55 am

স্বল্পমেয়াদি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি
কর্মব্যস্তময় জীবনে ছোট্ট পরিবার সবারই
পছন্দ। ছেলে হোক মেয়ে হোক, দুটি সন্তানই
যথেষ্ট’ বা ‘ছোট পরিবার সুখী পরিবার’
কথাগুলো এখন সমাজে বেশ প্রচলিত।
সংসারকে সচ্ছল ও সুখী রাখতে কম সন্তান
নেওয়ার প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে সব
সময়।ব্যস্ততা এবং সচেতনতা দুটিই এখন
বেড়ে যাবার ফলে দুটি বাচ্চার
মাঝখানে সব দম্পতিই একটু গ্যাপ রাখতে
চান। আর এ উদ্দেশ্য থেকেই জনপ্রিয়তা
পেয়েছে বিভিন্ন ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ
পদ্ধতি। এটি পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই
প্রযোজ্য। তবে অনেকে এসব পদ্ধতি সম্পর্কে
সঠিক ধারণার অভাবে মাঝে মাঝে ভুল
সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। সংসার ছোট
রাখতে চাইলে অবশ্যই জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি
সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা প্রয়োজন।
এসময়ে জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য কেউই
দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি নিতে চান না। বরং
সহজেই শুরু এবং বন্ধ করা যায় এমন পদ্ধতিই
খুঁজে নিতে চান। আজ আমরা আলোচনা
করছি জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল নিয়ে। জন্মনিয়ন্ত্রণ
পিল খাওয়ার নিয়ম সাধারণত পিরিয়ডের
প্রথম দিন থেকে পঞ্চম দিনের মধ্যে যে
কোন দিন পিল খাওয়া শুরু করা যেতে
পারে। প্রতিদিন রাত্রে খাবার খাওয়ার
পর নির্দিষ্ট পিলটি খেতে হবে। পর পর ২১
দিন খেতে হবে। তারপর এক সপ্তাহ বন্ধ
রেখে আবার নতুন প্যাকেট শুরু করতে হবে।
কোন একদিন ভুলে গেলে পরদিন দুটো পিল
খেতে হবে। বর্তমানে বাজারে ২১ প্লাস
৭ ও ২৪ প্লাস ৪টি পিলেরও প্যাকেট
পাওয়া যায়৷ এর সুবিধা হচ্ছে মনে রাখার
বা ভুলে যাওয়ার কোন ব্যাপর থাকে না।
২৮ দিন পর পর নতুন প্যাকেট শুরু করতে হবে।
বাচ্চা নিতে ইচ্ছুক নারীদের ক্ষেত্রে ৩-৪
মাস আগে থেকে পিল খাওয়া বন্ধ করে
দিতে হয়। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের
পরামর্শ নিয়ে কোন ধরনের পিল খাওয়া
উচিত তা ঠিক করে নেয়া ভালো। তাহলে
নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়ানো যায়।
কাদের জন্য পিল প্রযোজ্য নয়:
• ৪০ উর্ধ্ব মহিলাদের জন্য পিল প্রযোজ্য নয়।
এতে হৃদরোগের সম্ভাবনা থাকে।
• সদ্য মা হওয়া মহিলাদের ইসট্রোজেনের
মাত্রা বেশি এমন পিল খাওয়া উচিত নয়।
এতে বুকের দুধ কমে যেতে পারে।
• যেসব মহিলাদের মাইগ্রেনের সমস্যা
আছে
• যেসব মহিলার রক্তে কোলেস্টেরলের
পরিমাণ বেশি
• যাদের ডায়াবেটিস আছে
• উচ্চ-রক্তচাপে ভুগছেন এমন মহিলাদের
• যাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে
পিল খেতে ভুলে গেলে যা
করবেন:
অনেকে মহিলাই নিয়মিত পিল খেতে
ভুলে যান। এতে অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ
হতে পারে। পিল শুরু করার প্রথম সাত দিনের
মধ্যে দুই থেকে তিন দিন ভুলে গেলে পিল
কাজ না করার সম্ভাবনা বেশি। একদিন
পিল খেতে ভুলে গেলে পরদিন পিলটি
খেয়ে নিলে হবে। আর পর পর দুইদিন বা তিন
দিন পিল খেতে ভুলে গেলে ওই মাসের
পিল খাওয়া চালিয়ে যেতে হবে এবং
বাকি মাসটুকু স্বামীকেঅনাকাঙ্খিত
গর্ভধারণ রোধকল্পে কনডম ব্যবহার করতে
হবে। এরপর পরবর্তী মাস থেকে আগের
নিয়মে পিল খাওয়া শুরু করতে হবে।
• পিল খাওয়ার পর বমি হলে বমির সাথে
অনেক সময় পিল বেরিয়ে যেতে পারে।
এক্ষেত্রে দেখতে হবে পিল খাওয়ার
কতক্ষণ পর বমি হল। পিল খাওয়ার ঘণ্টা দুই পরে
বমি হলে কোন সমস্যা নেই। তবে তার আগে
হলে আরও একটি পিল খেয়ে নিতে হবে।
এরপরও যদি বমি হয়, তবে একটু সুস্থ হওয়ার পর
আরো একটি পিল খেয়ে নিতে হবে।
• কিছু কিছু ঔষধ রয়েছে পিলের কার্যক্ষমতা
কমিয়ে দেয়। তাই যারা পিল খান তাদের
কোন ঔষধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের
পরামর্শ নেয়া উচিত। তা না হলে পিল
খেয়ে কোন ফল পাওয়া যাবে না।
পিল খাওয়ার সুবিধা:
জন্মনিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি
পিলের নানা সুবিধা রয়েছে।
যেমন-
• যাদের অনিয়মিত পিরিয়ড, তাদের
পিরিয়ড নিয়মিত হয়।
• তলপেটের প্রদাহ, ব্রেস্টের কিছু রোগ,
সিস্ট ইত্যাদি পিল গ্রহণের মাধ্যমে
প্রতিরোধ করা যায়।
• পিল গ্রহণের মাধ্যমে পিরিয়ডবিহীন ছুটি
কাটানো অথবা রমজান মাসে টানা
একমাস রোজা রাখায় কোন সমস্যার সৃষ্টি
হয় না।
• নিয়মিত পিল ব্যবহারে ওভারিয়ান সিস্ট,
অ্যানিমিয়া, আর্থ্রাইটিস, এটোপিক
প্রেগনেন্সি, যৌনাঙ্গে প্রদাহজনিত
রোগ ইত্যাদির সম্ভবনাকে কমিয়ে দেয়।
• যাদের ব্রণের সমস্যা আছে তাদের জন্য
ওরাল কনট্রাসেপটিভ পিল উপকারী।
পিল খেলে যেসব সমস্যা হতে পারে :
• বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশনে ভুগতে থাকা
• মাথা ব্যথা হওয়া
• মেজাজ খিটখিটে হওয়া
• বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া
• ওজন বেড়ে যাওয়া
• চোখে দেখার অসুবিধা বা ঝাপসা দৃষ্টি
• ব্রেস্টে ব্যথা
• পিরিয়ডবিহীন ব্লিডিং
• সেক্সুয়াল আগ্রহ কমে যাওয়া
• পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাওয়া
• প্রতিদিন একই সময় পিল খেতে হয়
• ৩ বছরের বেশি পিল খেলে গ্লুকোমা হয়
• টেনশন
• তলপেটে ব্যথা
পরিশিষ্ট:
আপনি কি এখনই সন্তান গর্ভধারনে ইচ্ছুক নন?
স্বল্পমেয়াদি জন্ম নিয়ন্ত্রন পিল খাওয়
নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছেন?
অনাকাঙ্খিত জন্মনিয়ন্ত্রণ রোধ এবং
মাসিক ঠিক করার জন্য অনেক নারীই
স্বল্পমেয়াদি জন্ম নিয়ন্ত্রন পিল খেয়ে
থাকেন। তবে পিল খাওয়া নিয়ে নানা
ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত রয়েছে। পিল
সেবনে প্রাথমিক কিছু শারীরিক সমস্যা
দেখা দিলেও সুষম আহার, পিল চলাকালীন
সময়ে ব্যায়াম ও সুস্থ জীবনযাত্রা এ
পরিস্থিতি সহজেই মোকাবেলা করা যায়

Please follow and like us:

Post Reads: 457 Views