আরো ভালোবাসবো তোমায়

ভালবাসার গল্প
Razia Aktar Moni || 14 May, 2018 ! 10: 35 am

** আরো ভালোবাসবো তোমায় **

লেখাঃপদ্ম পাতার জল(হৃদয়ের কথা)

—নীলা হৃদয় তোকে ডাকছে (দিয়া)
— কোথায় হৃদয় (নীলা )
–ক্যাম্পাসের মাঠে (দিয়া)
— আচ্ছা চল (নীলা)
— হ্যা চল,,,, (দিয়া)
নীলা দিয়ার সাথে মাঠের মাঝে এসে দেখে
হৃদয় দাড়িয়ে আছে
–কি রে শয়তান কি জন্য ডেকেছিস বল (নীলা)
— বলবো??? (হৃদয় )
–ন্যাকামো করবিনা একদম তারাতারি বলে
দে (নীলা)
— নীলা তুই তো জানিসই আমি কেমন আর এই দুটো
বছর তোর সাথে পথ চলতে চলতে তোকেই
একমাত্র পথচলার সঙ্গী বানিয়ে ফেলেছি রে
আমি তোকে ভালোবেসে ফেলছি রে
তোর একমুঠো স্বপ্ন আমাকে দিবি কি??
কথা দিচ্ছি খুব যত্ন করে রেখে দেবো (হৃদয়
হাসিমুখে)
— হৃদয় আমিওনা তোকে খুব পছন্দ করি রে (নীলা)
— সত্যিইইই (হৃদয় খুশি হয়ে)
— হ্যা রে কিন্তু সেটা শুধু বন্ধু হিসেবে
আমি তোকে ভালোবাসতে পারবোনা রে
হৃদয়
কথাটা শুনেই হৃদয়ের হাসিখুশি মুখটা মলিন হয়ে
যায় তবুও মুখে মলিন হাসি টেনে বলে
— আরে এটা কোন ব্যাপার না আমরা আমরাই
তো
–আমাকে মাফ করিস হৃদয় (নীলা)
— আরে ধুরর এসব কেমন কথা? (হৃদয়)
–আসলে হৃদয় আমি না ইংলিষ ডিপার্টমেন্ট এর
রাফিকে পছন্দ করি
বলতে পারিস ওকে অনেক ভালোবাসি
তবে মেয়ে বলে মুখ ফুটে কিছু বলতেও পারছি
না (নীলা)
— এইইই ব্যাপার
আরে গাধী আমি আছিনা তুই যাস্ট একটু এখানে
দাড়া আমি আসতেছি
বলেই হৃদয় চলে যায়
ক্যাম্পাসের পিছনে গিয়ে দেখে রাফি ওর
ফ্রেন্ডদের সাথে আড্ডা দিচ্ছে
— রাফি তোমার সাথে কিছু কথা ছিল (হৃদয় )
–হ্যা বলো কি কথা (রাফি)
— একটু উঠে এসো (হৃদয়)
রাফি উঠে এলো
–হ্যা এবার বলো (রাফি)
— আসলে রাফি আমার এক ফ্রেন্ড নীলা দেখতে
খুব মায়াবি খুব ভালো মেয়ে ও তোমাকে খুব
পছন্দ করে তবে মেয়ে তো
তাই মুখ ফুটে কিছুই বলতে পারছে না
(হৃদয় নিজে প্রোপজ করার জন্য যে গোলাপটি
এনেছিল সেটাই রাফির হাতে দিয়ে বলল)
নীলা খুব ভালো মেয়ে ওর সাথে তুমি অনেক
হ্যাপি হবে চলো প্রপোজ করবে বলেই হৃদয়
রাফিকে নিয়ে নীলার কাছে চলে আসে
নীলা রাফিকে দেখে অনেকটাই অবাক হয়ে
যায়
— কি রে এবার তো সাহস করে মনের কথাটা
খুলে বল (হৃদয় )
– আসলে রা ফি আমার তোমাকে অনেক
ভালোলাগে (লজ্জা পেয়ে মাথাটা নিচু
করে নীলা)
হৃদয়ের ইশারায় রাফি ফুলটা এগিয়ে দিয়ে বলে
–আমিও তোমাকে ভালোবাসি নীলা
রাফির মুখে ভালোবাসি শুনে নীলা খুশিতে
বোবা হয়ে যায়
–কি রে এবার খুশি তো? (হৃদয় )
— তোকে যে কি বলে ধন্য*******
— এই চুপ কর
আমরা আমরাই তো কিছুই দিতে হবেনা
আর নীলা বাসায় যাওয়া লাগবে আমার তোরা
ভালো থাকিস কেমন
আর রাফি ভাই নীলাকে একটু দেখে রেখো কেমন
বড্ড পাগলামি করে কিন্তু বলেই পিছু ফিরে
হাঁটা শুরু করে হৃদয়
টুপ করে চোখ দিয়ে দুফোটা জল গড়িয়ে পড়ে
ঘরে এসে বসে বসে ভাবে হৃদয় পুরোনো সেই
দিনের কথা
দুই বছর আগে হৃদয় তখন এডওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির
রসায়নের ১ম বর্ষের ছাত্র
হৃদয় খুব ফাজিল আর চঞ্চল টাইপের ছেলে তবে
মনটা খুব ভালো
তাই খুব তারাতারি ওর ফ্রেন্ড হয়ে যায়
অনেকে
এমনি একদিন ক্যাম্পাসে বসে ছিল হৃদয়
চোখ পড়ে গাছের নিচে একটা মেয়ে বসে
আছে
মেয়েটা হৃদয়ের সাথেই সেম ক্লাস তবে
মেয়েটা কেমন যেন চুপচাপ থাকে
এটা হৃদয়ের মোটেও ভালো লাগেনা তাই
ফ্রেন্ড বানানোর জন্য কাছে গিয়ে বলে
— বউটা দেও তো!!!
(হৃদয় )
— বউ মানে? (মেয়েটা)
— ইইই না মানে বইটা দেওতো (হৃদয় )
মেয়েটা বই এগিয়ে দেয়
–এমন চুপচাপ থাকো কিভাবে?
আমি তো পারিনা (হৃদয় )
— আমার এমনই ভালো লাগে (মেয়েটা)
— আজ থেকে যে আর এটা হবে না ফ্রেন্ড হতে
এসেছি (হৃদয় )
— স্যরি আমার ফ্রেন্ড লাগবে না (মেয়েটা)
— ওকে থাক লাগবে না
তোমার বউ থুক্কু বইয়ের পাতায় এখন লিখে দেব
I love Avvro
হেহেহে (রেডমেইল)
— কিইই
এই না না আমি ফ্রেন্ড হবো ফ্রেন্ড হবো
(মেয়েটা)
–এইতো এবার লাইনে আইছো
এইযে এভাবে ফ্রেন্ড হতে হয় বুঝলে
বলেই হৃদয় ওর হাতের একটা আঙুল মেয়েটার
আঙুলের সাথে চেপে ধরল
— আপনি খুব ফাজিল (মেয়েটা)
–না আমি হৃদয়
আর তুই? (হৃদয় )
— আমি নীলা (মেয়েটা)
–হেহেহে নীলা না টিলা সেটা বড় কথা না
হেহেহে
— কি বল্লেন আপনি! (নীলা রেগে)
— তুই করে বল বুঝলি টিলা কোথাকার (হৃদয় )
এভাবেই খুনসুটির মাঝেই হৃদয় চুপচাপ নীলাকে
চঞ্চল মেয়েতে পরিণত করে দেয়
যে মেয়েটা খুব একা একা থাকত সে তারপর
থেকেই হৃদয় আর ক্লাসের সবার সাথেই আড্ডা
দেয়
এভাবেই রাগ, অভিমান, মারামারি, ঝগড়া আর
হাসি কান্নার মাঝেই চলে যায় দুটো বছর
আর এই দুটো বছরের মাঝেই একটু একটু করে হৃদয়
নীলাকে অনেকটাই আপন করে ফেলে
আর তাইতো আজকে সকালে নীলাকে মনের
জমানো কথাটা বলেই দেয় হৃদয়
হৃদয় ভাবতো নীলাও হয়ত তাকে ভালোবাসে
কারণ নীলা হৃদয়ের খুব বেশিই খেয়াল করতো
তবে আজ বুঝলো এটা শুধু বন্ধু ভেবেই
চোখটা মুছে উঠে বসে হৃদয়
তারপর ভাবে
নীলাতো শুধু বন্ধুই ভাবে তাতে কি?
থাকি না ওর পাশে বন্ধু হয়েই
ভালোবাসাটা না হয় আড়ালেই পড়ে থাক
মনটা শক্ত করে ঘুমানোর চেষ্টা করে হৃদয় তবে
কিছুতেই আর চোখের পাতা দুটো এক হয়না
সারাটা রাত এপাশ ওপাশ করতে করতেই কেটে
যায়
প্রতিদিনের মতোই ভার্সিটিতে এসেছে হৃদয়
এসেই নীলাকে খুঁজছে
–দিয়া নীলাকে দেখেছিস? (হৃদয় )
– একটু আগেই তো দেখলাম আশেপাশেই আছে
(দিয়া)
— এই আরাফ নীলাকে দেখেছিস?( হৃদয় )
— নীলাকে দেখলাম রাফির সাথে বসে আছে
পুকুড় পাড়ে (আরাফ)
–ওহহ্
বুকটা কেমন যেন করে ওঠে হৃদয়ের
তবুও নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা
করছে
একটু পরই ক্লাস শুরু হয়ে যায় তবুও নীলা আসছেই না
হৃদয় খুব মিস করছে নীলাকে
তবুও নীলার দেখা নেই
ক্লাসে মন বসেনা হৃদয়ের তাই ব্যাগটা নিয়ে
বাইরে চলে আসে
হঠাৎই ভোঁ করে একটা বাইক হৃদয়ের পাশ দিয়ে
চলে যায়
হ্যা এটাই রাফি
বাইকের পিছনেই নীলা রাফিকে ধরে বসে
আছে
বুকটা কেমন যেন করে ওঠে হৃদয়ের
তবুও মুখে হাসি টেনে বাসায় চলে যায়
এই প্রথম একটা দিন হৃদয়ের সাথে নীলার কথা
হয়নি খুব খারাপ লাগছে হৃদয়ের এটা ভেবে
যে নীলা হৃদয়কে ছাড়া কিছুই বুঝেনা সেই নীলা
কি করে পারছে এটা
আবার ভাবে এখন তো রাফিই আছে আমার
দরকটা হয়ত ফুরিয়ে গেছে
পরের ৩টা দিন ভার্সিটিতে যায় হৃদয় তবে
নীলাকে আর পায়না ফোন দিলেও হয়ত বিজি না
হয় ধরেনা
খুব খারাপ লাগছে হৃদয়ের তাই পরদিন হৃদয় নীলার
সাথে দেখা করে ওকে সাথে নিয়ে
ভার্সিটি যাবে বলে ওর বাসার সামনে আসে
তারপর ফোন দেয়
–হ্যা হৃদয় বল (নীলা )
— ভার্সিটি যাবিনা? (হৃদয় )
— হ্যা যাবো রেডি হচ্ছি (নীলা)
–আমি তোর বাসার গেটে দাড়িয়ে আছি
(হৃদয় )
— ওকে ৫মিনিট দাড়া আমি আসতেছি (নীলা)
–আচ্ছা আয় (হৃদয় )
হৃদয়ের এখন মনটা ভালো লাগছে এই ভেবে যে
আজকে আর নীলাকে ছাড়বো না একসাথেই
থাকবো
নানান কথা ভাবছে হৃদয় ঠিক তখনই বাইক নিয়ে
রাফির আগমন
–আরে হৃদয় তুমি এখানে? (রাফি)
— এইতো নীলার *********
–আরে রাফি তুমি কখন আসলে? (নীলা)
— এইতো এইমাত্র
চলো চলো একটু বেড়াতে যাবো আজকে
(রাফি)
— কিন্তু রাফি হৃদয়কে যে বলছি দাড়াতে
ভার্সিটি যাবো
হৃদয় এখন কি করবো? ((নীলা)
— হিহিহি এটা কিছু না
আমিতো যাস্ট তোকে দেখতে এসেছিলাম
তুই রাফির সাথেই যা (হৃদয় )
— কিছু মনে করিসনা কেমন (নীলা)
— আরে কি মনে করবো
এই রাফি ওকে নিয়ে যাওতো
এই নীলা যা বাইকে ওঠ
নীলা বাইকে উঠে বসতেই রাফি একটানে চলে
গেল
আর অশ্রুভেজা চোখে হৃদয় তাকিয়ে আছে
পথের দিকে
কেন জানি খুব কষ্ট হচ্ছে হৃদয়ের
নীলাতো এমন ছিলোনা?
না না নীলা ঠিকই আছে আমিই জেলাস ফিল
করছি
নিজের মনকে নিজেই বুঝিয়ে চোখটা মুছে
ভার্সিটিতে আসে হৃদয়
কিছুতেই মন বসেনা নিজেকে বড্ড একা একা
লাগে হৃদয়ের
এভাবেই কয়েকটা দিন কেটে যায়
এর মাঝে হৃদয়ও খুব চেন্জ হয়ে যায়
যে ছেলেটা সারাটা দিন হাসিখুশি থাকতো
সে এখন খুব কমই কথা বলে
যে ছেলেটা স্যারদের সাথেই মজা নিত
ক্লাসটা মাতিয়ে রাখতে যে একাই একশ ছিল
সে এখন একদম নিশ্চুপ
ক্লাসে আনমনে বসে আছে হৃদয় ,,,,, নীলাও আজকে
এসেছে তবে নীলা ও কেমন যেন হয়ে গেছে
যেন হৃদয়কে চিনেই না
এসবই ভাবছে হৃদয়
–হৃদয় এই,,,,,, হৃদয় (গায়ে হাত দিয়ে স্যার)
— জ্বি স্যার বলেন (হৃদয় চমকিয়ে)
— কোন কারণে কি তোমার মনটা খারাপ?
(স্যার)
— কোক কই না তো স্যার (হৃদয়)
— নাহ্ আমি লক্ষ্য করেছি কয়েকটা দিন ধরে
তুমি একদম চুপচাপ আগে তো এমন ছিলেনা
ক্লাসটা এখন কেমন যেন লাগে কি হয়েছে
তোমার?
হৃদয় নীলার দিকে তাকায় যেন নীলা কিছুই
বুঝছে না
–স্যার কিছু হয়নি
এমনি শরীরটা একটু খারাপ তো হয়ত তাই
ঠিক হয়ে যাবে (হৃদয় )
— ঠিক হলেই ভালো তোমাকে এভাবে একদম
মানায় না (স্যার)
ক্লাস শেষে হৃদয় বের হয়ে আসে তবে ভেবে খুব
অবাক হয় যে
যে মেয়েটা একটু অসুখের কথা শুনলে কি না কি
করত আর সেই মেয়েটা আজ আমার বদলে
যাওয়াতেও কিছুই মনে করছে না
আসলেই ভালোবাসা মানুষকে খুব সহজেই
পাল্টে দেয়
পরদিন ভার্সিটিতে এসে বসে আছে হৃদয়
— হৃদয় স্যার তোকে ডাকছে (আরাফ)
–কেন? (হৃদয় )
— আরে কাল ব্যাডমিন্টন খেলা হবে
তুই ছাড়া কি এসব চলে তাই স্যার ডাকছে
(আরাফ)
— চল (হৃদয় )
–কেমন আছো ? (স্যার)
— জি স্যার ভালো (হৃদয় )
আর আপনি কেমন আছেন?
— আমিও ভালো
তা হৃদয় গত দু বছর তুমিই টানা বিজয়ী
তাই এবারেও তোমাকেই দেখতে চাই
হ্যাট্রিক করবে কেমন (স্যার)
— কিন্তু স্যার আমি এবার খেলবো না (হৃদয় )
হৃদয়ের কথাশুনে স্যার অবাক না হয়ে পারেনা
যে ছেলেটা খেলা ছাড়া কিছু বুঝেনা সে
এই কি কথা বলছে!
–তোমার কি হয়েছে হৃদয় ? (স্যার)
হৃদয় ভাবল বেশি কথা বললে খারাপ হবে তাই
বলল
–আমি খেলবো স্যার
–এইতো গুড বয়
তাহলে কালকে যেন তোমাকেই বিজয়ী
হিসেবে মঞ্চে পাই কেমন (স্যার)
হৃদয় কথা বলেই চলে আসে
হৃদয় ভালো খেলে এটা সবাই জানে
ওকে টপকানোর মতো কেউই নেই
পরদিন পুরো ভার্সিটির ক্যাম্পাস নতুন সাজে
সেজে ওঠে
সকাল ৯ টায় খেলা শুরু হয়
হৃদয় দেখে রাফিও খেলছে আর রাফিও
ভালোই খেলে
হৃদয় ৩টা গেমের ৩টা তেই জিতে জায় আর
একবারে ফাইনালে উঠে যায়
সবাই খুব খুব খুশি
পরের ম্যাচে সেমিতে রাফি অন্য একটা
ছেলের সাথে জিতে ফাইনালে উঠে যায়
ফাইনাল খেলা আর এক ঘন্টা পর
হৃদয় VS রাফি
পুরো ক্যাম্পাসে হৃদয়ের নাম তবে রাফিও কমনা
কিন্তু হৃদয়ের কাছে রাফি কিছুইনা
হৃদয় সবার সাথে বসে ছিল ঠিক তখনই
–হৃদয় ,,,,,( নীলা)
কন্ঠটা শুনে হৃদয় চমকে যায় এতোদিন পর
–হৃদয় তোর সাথে কিছু কথা ছিল (নীলা)
হৃদয় খুশিতে আত্বহারা হয়ে বলে
–কি কথা বল
–একটু উঠে আয়
হৃদয় উঠে যায়
–এবার বল (হৃদয় )
–হৃদয় আমি জানি তুই অনেক ভালো খেলিস আর
রাফি তোর সাথে পারবেই না
কিন্তু আমি যে সবার সামনে রাফির পরাজয়টা
মেনে নিতে পারবো না রে
তুই প্লিইইইইজ এবারের মতো রাফিকে
জিতিয়ে দে প্লিইইইজ হৃদয়
–আরে পাগলি কান্না কেন করিস?
চিন্তা করিসনা আমি তোর জন্য এটুকু অবশ্যই
করবো (হৃদয় )
–অনেক অনেক ধন্যবাদ তোকে হৃদয়
–এই হৃদয় তারাতারি আয় স্যার ডাকছে (আরাফ)
আসতেছি বলেই অভ্র চলে আসে
–হৃদয় তুমি কিন্তু আমার কথা রেখো কেমন
( স্যার)
— চেষ্টা করবো স্যার (হৃদয় )
মাঠে নামে হৃদয় অপরদিকে রাফি
সারা ক্যাম্পাস হৃদয় ,,, ,হৃদয় ধ্বনিতে মুখোরিত
তিন গেমের সিরিজ
প্রথম গেমটা হৃদয় জিতে যায়
সবাই তো খুব খুব খুশি
তবে পরেরটা হৃদয় একটু খারাপ খেলে হেরে
যায় যেন কেউ কিছু না বুঝে
খেলার মাঝে এখন টানটান উত্তেজনা যে
জিতবে সেই হবে এবারের বিজয়ী
খেলা শুরু হয় হৃদয় প্রথম থেকেই খারাপ খেলতে
থাকে যার ফলে রাফির পয়েন্ট অনেক হয়ে যায়
পরে হৃদয় একটু ভালো খেলে তবে ইচ্ছা করেই
গেমটা হেরে যায়
সারা ক্যাম্পাস তখন রাফি রাফি বলে
উল্লাসে ফেটে পড়ছে
আর হৃদয় চোখের পানি মুছে খুব তারাতারি
নিজেকে আড়াল করে চলে আসে
অনেকেই বলাবলি করছে হৃদয় খেলতেই
পারেনা নানান লোকের নানা কথা শুনে
হৃদয়ের ফ্রেন্ডদের মনটা খারাপ হয়ে যায়
বিজয়ীর উপহার হাতে নিয়ে রাফির সাথে
নীলা আনন্দে মেতে ওঠে
তবে যার জন্য এই আনন্দ সেই মানুষটার কথাটাই
আর মনে থাকেনা নীলার
হৃদয় বাসায় এসে খুব কান্না করে কারণ সে
একজনের ইচ্ছাকে পুরন করতে সবার ইচ্ছাকে
ফেলে দিয়েছে হৃদয় নিজের এভাবে হেরে
যাওয়াতে কষ্ট পায় খুব
তবে এটা ভেবে ভালো লাগে যে নীলা তো
হাসি খুশি আছে
ভালোবাসার মানুষটার জন্য সব কিছু করা যায়
পরেরদিন লজ্জায় আর ভার্সিটিতে যায়না হৃদয়
মনটা খারাপ থাকায় নদীর পাড়ে ঘুড়তে যায়
অনেক্ষণ বসে থেকে উঠে আসবে ঠিক তখনই
দেখে রাফির মতো কেউই একটা মেয়েকে
নিয়ে বাইকে চলে গেল
তবে হৃদয় শিওর না যে ওটাই রাফি তাই নীলাকে
ফোন দেয়
— হ্যা হৃদয় বল (নীলা)
— রাফি কোথায় জানিস কি? ( হৃদয় )
–ও তো বাসাতেই কেন? (নীলা)
— না মানে ওর মতোই কাকে যেন দেখলাম
( হৃদয় )
— আরে রাফি না( নীলা)
— তবুও নীলা একটু দেখিস রাফি কোন মেয়ের
সাথে প্রেম করে কি না (হৃদয় )
— হৃদয় চুপ কর
তোকে ভালোবাসিনি বলে রাফিকে নিয়ে
খারাপ কথা বলবি এটা কিন্তু ঠিক না (নীলা)
-স্যরি রে মাফ করিস বলেই হৃদয় ফোনটা কেটে
দেয়
তবে নীলার মনে একটু সন্দেহ লাগে কারণ
ইদানিং রাফি নীলাকে বেশি সময় দেয়না
পরদিন ভার্সিটি এসে নীলা রাফিকে বলে
–আচ্ছা রাফি কালকে বিকেলে তুমি কই
ছিলা?
–কেন বাবু আমিতো বাসাতেই ছিলাম কেন
কিছু হয়েছে? (রাফি)
— না মানে হৃদয় বলল তোমার সাথে কোন
মেয়েকে যেন ও কালকে দেখেছে (নীলা)
— কিহ্
তুমি আমাকে বিশ্বাস করোনা হ্যা
হৃদয়ের কথামতো আমাকে দোষারোপ করো তুমি
( রাফি)
— স্যরি রাফি আর কখনো এমনটা হবেনা (নীলা)
আরো নানান রকমের কথা কাটাকাটি করে
রাফি তারপর রাগ করেই চলে যায়
নীলার ও খুব রাগ উঠে যায় ক্লাসে এসে দেখে
হৃদয় বসে আছে নীলাকে দেখেই হৃদয় দাড়িয়ে
বলে
— আরে নীলা তুই আজ হঠাৎ ক্লাসে
ঠাসসসসসস
খুব জোরেই নীলা হৃদয়কে থাপ্পরটা দেয়
— তুই বন্ধু নামে মিথ্যুক
তোকে ভালোবাসিনি বলে আমাদের
ভালোবাসাটা নষ্ট করতে চাস
তুই রাফিকে খারাপ বানাতে চাস আমার
কাছে (নীলা)
হৃদয় গালে হাত দিয়ে শুধু নীলার মুখের দিকে
তাকিয়ে থাকে
–তোর মতো মিথ্যুকের সাথে কোন বন্ধুত্ব
থাকতে পারেনা আজ থেকে তোর আর আমার
মাঝের সব কিছু এখানেই শেষ
বলেই নীলা ওর আঙুলটা হৃদয়ের আঙুলে চেপে ধরে
বলে
–এভাবেই বন্ধুত্ব করেছিলি না তাই ঠিক
এভাবেই শেষ করে দিলাম
আর কোনদিন যেন তোর মুখনা দেখতে না হয়
বলেই নীলা চলে যায়
আর হৃদয় পুরো পাথর হয়ে গেছে
চোখটা মুছে ব্যাগটা নিয়ে চলে যায় হৃদয়
বাড়িতে এসে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না করে
হৃদয় আর ভাবে
আসলেই আমি খারাপ খুব খারাপ আর যাবোনা
নীলার সামনে যাবোনা ওদের মাঝে কাটা
হতে
ভালো থাকুক নীলা
এরপর থেকে আর হৃদয় ভার্সিটি যায়না
সারাটা দিন ঘরে শুয়ে থাকে আর ফোনে
নীলার ছবির দিকে অপলক চেয়ে থাকে আর
চোখের জল মোছে
অপরদিকে নীলা অনেক কষ্টে রাফির রাগটা
ভাঙায় রাফির থেকে স্যরি বলে মাফ চেয়ে
নেয়
সকালে রাফির ফোন
–বাবু তুমি কি ভার্সিটি আসবা না? (রাফি)
— আজকে যাবোনা (নীলা)
— আচ্ছা ঠিক আছে
বলেই রাফি ফোন কেটে দিয়ে ক্যাম্পাসে
চলে আসে সাথে অন্য একটি মেয়ে
আসলে হৃদয় ঠিকই দেখেছিল সেদিন ছেলেটা
রাফিই ছিল
বড়লোক বাবার বখে যাওয়া ছেলে রাফি
আগে থেকেই অনেক প্রেম করে আর সেদিন হৃদয়
বলল নীলার কথা এতে তো রাফি আরো খুশি
ওর মনে কু চিন্তা এটাই যে নীলার সাথে
এটাসেটা করেই ছেড়ে দেবে
কয়েকটা দিন নীলার মনটা খারাপ তাই বাড়ি
থেকে বের হয়না
হৃদয়ের কথা একটু মনে পড়ে তবে রাফিকে যে ও খুব
ভালোবাসে
কয়েকটা দিন রাফির সাথে দেখা হয়না তাই
নীলা দেখা করতে ভার্সিটি আসে এসে দেখে
একটু সামনেই বসে রাফি ওর ফ্রেন্ডদের সাথে
আড্ডা দিচ্ছে
রাফিকে চমকে দিতে নীলা পিছন দিয়ে যায়
তবে রাফির কথা শুনে নীলা নিজেই চমকে যায়
— কি রে মামা এই মালটার সাথে আর কয়দিন
প্রেম করবি ছেড়ে দে (রাফির এক ফ্রেন্ড)
— আরে সবুর বাগে যখন পেয়েছি একটু টেস্ট না
করে ছাড়ছি না হাহাহা (রাফি)
— ওয়াও মামা ভালোই বলেছিস
রাফির কথোপকথোন শুনে বুকটা ফেটে যায়
নীলার যাকে মনে প্রাণে ভালোবাসে আর
সে এতটা নিচু আর নোংরা মনের মানুষ!
রাগ উঠে যায় নীলার
হনহন করতে করতে রাফির সামনে গিয়ে দাড়ায়
–আরে বাবু তুমি এখন এখানে? (রাফি)
রাগের চোটে ঠাসসস ঠাসসস করে কয়েকটা চড়
বসিয়ে দেয় রাফিকে
–কুত্তা এই তোর ভালোমানুষী!
আমি তোকে এতটা ভালোবাসি আর তুই কিনা
আমাকে টেস্ট করতে ভালোবাসিস!
তুই মানুষ নামের জানোয়ার (নীলা)
— এই বাবু এটা কি বলো তুমি (রাফি)
— চুপ কর
তোর ঐ নোংরা মুখে এসব বলবি না
তুই একটা খারাপ ছেলে
বলেই কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি চলে যায় নীলা
ঘরে এসে অনেক কান্না করে আর ভাবে
সত্যিকারের ভালোবাসা কি এমনটা হয়
প্রায় ৫টা দিন অনেক কান্না করে নীলা
তারপর মনটা একটু হাল্কা হয় তাই ভার্সিটিতে
আসে
ক্লাসে বসে আছে নীলা তবে কিছুতেই মন বসছে
না ক্লাসটা কেমন যেন ফাকা ফাকা লাগছে
হৃদয় ,,,,,,,,,,, হৃদয় ,,,,,,,,,, কই?
ওর জন্যই তো ফাঁকা লাগছে
— আরাফ, হৃদয় আসেনি? (নীলা)
— হাহাহা তুই ই তো বলেছিলি তোর সামনে
যেন না আসে এখন কেন ওকে খুজছিস
এমনটাই চেয়েছিলি তাই না রে? (আরাফ) নীলা আর কিছু বলতে পারেনা চুপচাপ ক্লাস করে
তবে কিছুতেই মন আর বসে না মনে পড়ছে শুধু হৃদয়ের
কথা
ওর সাথে কাটানো প্রতিটা মুহূর্তের কথা
কতইনা ভালো ছিলো সেদিন গুলো আর মিথ্যে
ভালোবাসার জন্য আজ হৃদয়কে এতটা দূরে
রেখেছি
কয়েকটা দিন ধরে নীলার শুধু হৃদয়ের কথাই মনে
পড়ছে প্রথম দিন থেকে যা যা ঘটেছে সব শুধু
মনে পড়ছে নীলা
ভাবছে
হৃদয় আমাকে ভালোবাসে আর আমি ওর এই
পবিত্র ভালোবাসাকে না বুঝে একটা খারাপ
মানুষকে ভালোবেসেছি
হৃদয় আমাকে খুশি করতে গিয়ে কত কিছুই না
করেছে আর আমি ওর সব হাসি কেড়ে নিয়েছি
নীলার নিজেকেই নিজের কাছে বড্ড
অপরাধি লাগছে এখন বুঝতে পারছে হৃদয়ই
আসলে নীলার কাছের মানুষ নীলা আর কিছু ভাবতে পারেনা আরাফকে ফোন
দেয়
–আরাফ তুই কই এখন? (নীলা)
–আমাকে কি দরকার তোর? (আরাফ রেগে)
— দেখ আরাফ এমন করিসনা একটু মাঠে আয় না খুব
জরুরি কথা আছে (নীলা)
— আচ্ছা আসতেছি
বিকেলে আরাফ মাঠে চলে আসে এসেই
দেখে নীলা দাড়িয়ে আছে
–কি বলবি বল (আরাফ)
— আমাকে হৃদয়ের কাছে নিয়ে চল প্লিইইইজ
ওকে ছাড়া আমি আর থাকতে পারছি না রে
(নীলা কান্না করে দিয়ে)
— কেন রাফির কাছে যা (আরাফ)
— প্লিইইজ আরাফ আমার ভুল হয়ে গেছে একটা
সুযোক দে হৃদয়ের কাছে নিয়ে যা প্লিইইজ (নীলা)
–আচ্ছা চল
আরাফ নীলাকে সাথে নিয়ে হৃদয়ের বাসাতে
চলে আসে
–আন্টি হৃদয় কি বাসাতে আছে? (আরাফ)
— না বাবা
কি হয়েছে ছেলেটার সারাটা দিন শুধু শুয়ে
থাকে আর বিকেলে ঐ নদীর পাড়ে গিয়ে বসে
থাকে (হৃদয়ের মা)
–আন্টি এখন ওকে কোথায় পাবো? (নীলা)
— নদীর পাড়েই হয়ত গেছে (হৃদয়ের মা)
— কোনদিকে নদীটা? (আরাফ)
— এই আবির ওদেরকে হৃদয়ের কাছে নিয়ে যা
তো (হৃদয়ের মা হৃদয়ের চাচাত ভাইকে বলল)
আবির আরাফ আর নীলাকে নিয়ে নদীর পাড়ে
চলে আসলো
–ঐ যে ভাইয়া
ঐ দেখেন গাছের নিচে বসে আছে (আবির)
— আচ্ছা ঠিক আছে এখন তুমি যাও (আরাফ)
আবির চলে গেল
আরাফ আর একপা একপা করে এগিয়ে গেল
–আরাফ তুই চলে যা বাকিটুকু আমি একাই
পারবো ভুলটা যেহেতু করেছি মাফটাও
নিজেই চেয়ে নেব তুই চলে যা (নীলা)
–ঠিক বলছিস তো?( আরাফ)
— হ্যা তুই যা( নীলা)
— ওকে
কালকে যেন গুড নিউজ পাই কেমন
বলেই আরাফ চলে যায়
আর নীলাও একপা একপা করে হৃদয়ের দিকে এগিয়ে
যায় হৃদয়ের একদম পিছনে গিয়ে দেখে
হৃদয় অপলক ভাবে ফোনের দিকে তাকিয়ে
আছে
নীলা উকি দিয়ে দেখেই চোখটা জ্বলে ভিজে
যায়
দেখে হৃদয়ের চোখ দিয়ে টুপটুপ করে জল পরছে আর
ঝাপসা চোখে ফোনে নীলার ছবির দিকে
তাকিয়ে আছে
–এতো ভালোবাসিস কেন আমাকে? (নীলা
কান্না করতে করতে)
-নীলার কথা শুনে উঠে দাড়ায় হৃদয়
তারাতারি চোখটা মুছে বলে
–আরে নীলা তুই এখানে
কিছু হয়েছে?
নীলা হৃদয়কে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কান্না
করতে করতে বলে
–আমার বড্ড ভুল হয়ে গেছে রে হৃদয়
আমি তোকে একটুও বুঝতেই চেষ্টা করিনি
তোকে অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলেছি রে
প্লিইইইজ আমাকে মাফ করে দে
তোকে ছাড়া আমি যে খুব একা রে খুব একা
হৃদয় নীলাকে ছেড়ে দিয়ে বলে
–আরে তোর কোন ভুল নেই
আর মাফ কেন চাইছিস?
ঠিক আছে সব
আর আমিও ঠিক আছি
–প্লিইইইজ হৃদয় আমাকে তোর করে নে
ভুলতো মানুষই করে তাইনা?
আমিও ভুল করেছি
এবার ভুলটা শুধরে নিতে দে নারে হৃদয়
তোর জন্য এক মুঠো স্বপ্ন এনেছি নিবিনা? (নীলা)
— কেন?
আমাকে কেন দিবি? তোর রাফির কাছে জা
না (হৃদয় অভিমানে কান্না করে দেয়)
— নীলা আবার হৃদয়কে জরিয়ে ধরে বলে
–যে আমাকে হাঁসতে শিখিয়েছে
সবার সাথে মিশতে শিখিয়েছে তাকে
ছেড়ে কি করে যাই বল?
আমার এক মুঠো স্বপ্ন তো শুধু তোকে ঘিরেই রে
ভালোবাসি রে তোকে বড্ড ভালোবাসি
–আমিও এই পাগলিটাকে খুব ভালোবাসি রে
খুব ভালোবাসি
নীলা কান্না করছে সাথে হৃদয়ও
তবে এটা কষ্টের না এই কান্না ফিরে পাওয়ার
কান্না এই কান্না ভুলটা ভেঙে এক হওয়ার
কান্না
–এই পাগল আমার কান্না কেন করছো? (নীলা হৃদয়ের
বুকে মাথা রেখে)
— আমার কি দোষ আর পাগলিটাও তো কান্না
করছে (হৃদয় )
–আর কখনোই কাদতে দেবনা এই পাগলটাকে
খুব ভালোবাসি যে এই পাগলটাকে
করুক না দুজনেই এভাবে কান্না
এটা তো সুখের কান্না
অতঃপর
পরদিন থেকেই ভার্সিটির ক্যাম্পাস আবার
প্রাণ ফিরে পেয়েছে হৃদয় আর নীলার সাথে ফিরে পেয়েছে সবাই
সেই আগের দিনগুলো
চলুক না সবার এভাবেই প্রতিটা দিন হাসি
খুশির মাঝে
কিছু কথা : মানুষ মাত্রই ভুল করে
ভুল করবেই এটাই স্বাভাবিক
তবে সেই ভুলটা বুঝে যদি কেউ নিজেকে শুধরে
নেয় তো তাকে অবহেলা করতে নেই
শত ভুলের মাঝেও যেন এমন করেই সবার
ভালোবাসা অটুট থাকে সেই দোয়া করি

বিঃদ্রঃ গল্পটি কেমন লাগলো অবশ্যই যানাবেন।।

Please follow and like us:

Post Reads: 250 Views