আশা।

ভালবাসার গল্প
Imran Khan || 10 March, 2018 ! 12: 07 am

গল্প : আশা।
” তোমার এতো ভাব কেন? ”
সুস্মিতা এ কথা বলে আমার দিকে এক
দৃষ্টিতে থাকিয়ে আছে। কিন্তু আমিও কম
কিসে। আমিও কোনো ধরণের কথা না বলে
হাঁটতে শুরু করলাম । আমাকে বলে আমি নাকি
তার সাথে প্রেম করব। আচ্ছা প্রেম করা কি
এতো সোজা। প্রেম করতে গেলে একটা
জিনিস লাগে। আর সে জিনিস টা হলো সময়।
প্রেমিকা কে যদি সময় দেওয়া না যায়।
তাইলে নিজের উপর একটা চাপ সৃষ্টি হয়। সে
চাপটা হলো এক ধরণের হতাশা। হতাশা কি
বুঝেন নি তো?
আরে ভাই প্রেমিকা অভিমান করবে। সে
অভিমান টা তো ভাঙাতে হবে। আর যদি
অভিমান টা ভাঙা তে না পারি। তাইলে
সারাদিন হতাশায় ভোগতে হবে। কেন পারি
না কেন পারি না। তখন সময় যতই বাবু, সোনা
বলেন কাজ হবে না। তখন তাদের ডিমান্ড
বেড়ে যায়। তাদের কে আর সোনাবাবু বলা
যাবে না। তাদের কে ময়না পাখি, চড়ুইপাখি
এসব বলে অভিমান টা ভাঙা তে হবে। কিন্তু
এসব বলা আমার পক্ষে সম্ভব না। কারণ মানুষ
কে কেন এসব পাখির নাম বলবো। নাম ধরে
ডাকবো। কিন্তু তারা খুশি হবে না।
সুস্মিতা দেখি কিছু বলার জন্য প্রস্তুতি
নিচ্ছে। আমি তাকে কোনো ধরণের পাত্তা
না দিয়ে বলি তোমার রিক্সা আসছে চলে
যেতে পারো।
সুস্মিতা রাগে চটপট করতে লাগলো। মনে
হচ্ছে আমাকে আস্তা চিড়িয়াখানায় ঢুকিয়ে
বনের পশুপাখির সাথে বসবাস করতে সেখানে
পাঠিয়ে দিবে।
“আস্তা একটা বনমানুষ” এ কথা বলে আমার
কাছে এসে আবার চলে যেতে লাগলো।
আমিও মজা করার জন্য বললাম “রিক্সা
থাকতে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছ কেন?”
কিন্তু আমার মজার বিষয় টা যে আমার জন্য
ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে আমি বুঝতে পারি
নি।
“তো আমি রিক্সা করে যাচ্ছি ভাড়াটা কে
দিবে শুনি?”
আমি তো লজ্জায় পড়ে গেলাম। লজ্জা টা
পেতাম না। যদি রিক্সাওয়ালা থাকতো না।
তাই নিজের ইজ্জৎ টা বাঁচাতে পকেটে হাত
দিলাম। দেখি একটা ১০ টা আছে আর বাকী
গুলা ৫০০ টাকা। তো আমার মাথায় একটা
বুদ্ধি আসলো। সুস্মিতা যে জায়গায় যাবে
সেখানের ভাড়া ৩০ টাকা। আর আমার কাছে
ভাংতি আছে ১০ টাকা। আমি আমতা আমতা
করে বললাম সুস্মিতা আমার কাছে ভাংতি
১০ টাকা আছে চলবে। সুস্মিতা সাথে সাথে
বলল আর বাকী গুলা কত টাকা?
আমি তো একটু চিন্তায় পড়ে গেলাম।
সুস্মিতা এ কথা বলল কেন। আমি একটু সময়
নিয়ে বললাম ৫০০ টাকা। সুস্মিতা একটা
মুচকি হাসি দিয়ে বলে ৫০০ টাকা হলেও
আমার চলবে। আমি যেখানে নামবো সেখানে
একটা ভালো রেস্টুরেন্ট আছে। ভাবছি
কয়েকটা দিন ধরে ভালোমন্দ কিছু খাই না।
তো ৫০০ টাকা দাও কিছু খেয়ে বাসায় যাব।
আমি নিজের মাথায় ঠাস করে একটা থাপ্পড়
দিলাম। সুস্মিতা সাথে সাথে আমাকে বলে
“বাবু তোমার কি হয়েছে?”
আমি কি বলবো বুঝতে না পেরে বলি আমার
না খুব পানির পিপাসা ধরেছে । আমি পানি
খেয়ে আসি। কিন্তু রিক্সা মামা নিজের
খামচা টা ঠিক করতে করতে বলে “হিমু
ভাইয়া ৫০০ টাকার জন্য নাকি? ”
আমি কিছু বলতে চাইছিলাম। যদি বলি
তাইলে ৫০০ টাকার সাথে আমাকেও
সুস্মিতার সাথে যেতে হবে। আর আমি যদি
সুস্মিতা সাথে চাই তাইলে রেস্টুরেন্টের সব
খাবার সুস্মিতা খেয়ে আমার বারোটা
বাজাবে। কারণ মেয়েরা তো তাদের হাবলুর
পকেট খালি করতে খুব পছন্দ করে। আমি
অবশ্য সুস্মিতার হাবলু না। তবে রেস্টুরেন্ট
ঢুকার পর নিজেকে আর সুস্মিতার হাবলু
প্রমাণ না করে বাঁচতে পারব না। তাই ৫০০
টাকা দিয়ে দিলাম।
যখন টাকা টা দিলাম তখন সময় করিম চাচার
কথা মনে পড়ে গেল। কারণ আমার কাছে
৫০০০ টাকা ছিল। মা আমাকে ৫০০০ টাকা
দিয়েছিলেন করিম চাচা কে দিতে। আর
আমার কাছে যে ১০ টাকা ছিল ওই টা হলো
গাড়ি ভাড়া।
“ভাবছি বন্ধুদের নিয়ে আজ পাটি দিব ” এ
কথা বলে সুস্মিতা রিক্সাওয়ালাকে বলে
মামা চলেন। রিক্সাওয়ালা আমার দিকে
একবার থাকিয়ে রিক্সা চালাতে লাগলো।
আমিও মনে মনে রিক্সাওয়ালাকে ১০০ গালি
দিলাম।
.
“কি হিমু টাকা নিয়ে আসতে এতো দেরী
হলো কেন? করিম চাচা এ কথা বলে
দোকানের চকলেট বক্স টা ঠিক করলেন।
আমি চকলেটের দিকে চেয়ে রইলাম। করিম
চাচা তা দেখতে পেয়ে বলে ” তুমি ছোট হলে
আমি তোমাকে চকলেট দিতাম।” তারপর তিনি
একটা দীর্ঘ শ্বাসপ্রশ্বাস নিলেন। তার মানে
আমি বুঝে গেছি তিনি হতাশায় ভোগছেন।
আমিও আমতা আমতা করে বললাম করিম চাচা
” মা ৫০০০ টাকা দিয়েছিল। কিন্তু এখানে
আছে ৪৫০০ টাকা।”
করিম চাচার চোখ টা দেখতে পেলাম লাল
হয়ে গেছে। আমার তখন মনে পড়ে গেল।
ডাক্তার এমবিবিএস বল্টুর কথা। আমার
একদিন জ্বর উঠে ছিল। ডাক্তার বল্টু বলে
আমি নাকি রোদের মধ্যে বেশি থাকি তাই
আমার চোখ লাল হয়ে গেছে। আমি তখন
ভাবতে লাগলাম করিম চাচা কি রোদে
থাকে? করিম চাচা তো রোদের থাকার কথা
না। তাই আমার মনকে নিশ্চিত করার জন্য
আমি বললাম “চাচা রোদে কেন
গিয়েছিলেন?”
“হিমু তুমি কি কখনও ললিপপ খেয়েছ?”
এ কথা বলে আমাকে বললেন টাকা দিতে।
আমিও নতুন চকচকে টাকা গুলা করিম চাচার
হাতে দিলাম। কিন্তু আমাকে এ কথা বললেন
কেন? আমি একটু আরাম করে ভাবার জন্য
বাহিরের গেলাম। বাহিরে যাওয়ার পর যা
দেখলাম তা নিজের চোখে আর বিশ্বাস
করতে পারলাম না।
“তুমি এখানে কি করো? ” সুস্মিতা এসেই
আমাকে এ কথা বলল।
আমি ভাবতে লাগলাম সুস্মিতা এখানে কেন?
আমার তো মনে হচ্ছে। দোকানে কিছু কিনার
জন্য আসছে। আমিও একটু রাগি মুখ দেখিয়ে
বললাম ” তুমি এখানে কি আমাকে পাশানোর
জন্য আসলে?”
সুস্মিতা হতাশা হয়ে বলে ” ওই যে দোকান
টা দেখছ ওই টা করিম চাচার দোকান।”
সেখানে যাব। কিছু কথা আছে করিম চাচার
সাথে। আমি কিছু টা ভয় পেলাম। কারণ
সুস্মিতার মুখে শয়তানী হাসি কিছু টা আছে।
” তুমি কি টেনশনে আছ নাকি?” এ কথা বলে
উড়নো টা মাথায় দিয়ে সুস্মিতা দোকানে
গেল। সাথে সাথে দোকানের কাছে বসে
থাকা কুকুর টা ঘেউ ঘেউ শব্দ করল। আমি কুকুর
কে একটা লাঠি দিয়ে মারতে গেলাম।
সুস্মিতা দোকানের ভিতর থেকে আমাকে
বলে “কুকুর কে মেরে কোন লাভ নেই।” “তার
চাইতে আমার কাছে এসো।” কুকুর টা আবার
শব্দ করতে থাকলো।
আমি কুকুর কে কোনো ধরণের পাত্তা না
দিয়ে সুস্মিতা কাছে গিয়ে বলি ” কাছে
আসলাম এখন কি করতে হবে।
সুস্মিতা ললিপপের বক্স থেকে আমাকে
একটা ললিপপ দিয়ে বলে “এই টা খাও। আর মন
কিছু টা শান্তি করো।” আমি বিস্মিত হয়ে
বলি “মানে টা কি গো।”
সুস্মিতা হেসে হেসে বলে ” তোমার ৫০০
টাকা দিতে এসেছি।”
আমি এ কথা শুনার পর করিম চাচার দিখে
তাকালাম। করিম চাচা দেখি খাতার দিকে
চেয়ে আছে। আমি এবার সুস্মিতা কে বললাম
” কিসের ৫০০ টাকা গো?”।
আমি এ কথা যদি না বলি তাইলে করিম চাচা
অন্য কিছু ভেবে বসবে। এমনেতেই তিনি
আমাকে নিয়ে অনেক মজা করেন।
তার উপর সুস্মিতা এ কথা বলে বসলো।
করিম চাচা দেখি সুস্মিতার দিকে মাথা
তুলে বলেন ” প্রেম করো?”
সুস্মিতা মুচকি হাসি দিয়ে বলে ” ১ বছর
ধরে।” করিম চাচা মনে হয় পানি খেতে
চেয়েছিলেন। সুস্মিতা এ কথা বলার পর
করিম চাচা ফ্রিজ থেকে একটা ওষুধ বের
করলেন। তারপর মুখে দিয়ে বলেন ” এক বছর
ধরে।”
সুস্মিতা আমার দিকে চেয়ে বলে ” হ্যা।”
করিম চাচা আমার দিকে কেমন হিংসা
হিংসা চেহারা নিয়ে বলেন “মিথ্যুক একটা
ছেলে তো হিমু তুমি।”
আমি মিথ্যুক হলাম কিভাবে।
ও আমার মনে পড়ে গেছে। করিম চাচার
একটা মেয়ে আছে। ক্লাস দশম শ্রেনীতে
পড়ে। আমি একদিন করিম চাচার দোকানে
এসেছিলাম চিনি নেওয়ার জন্য। মা আমাকে
পাঠিয়ে ছিলেন চিনি নেওয়ার জন্য।
আমাদের বাসায় অথিতি এসেছিল। মায়ের
সেই ছোট বেলার বান্ধবীরা।
আমি দোকানে যাওয়ার পর দেখলাম করিম
চাচার মেয়ে কি যেন করিম চাচা কে বলছে।
আমি সে দিকে খেয়াল না করে বলি “করিম
চাচা চিনি দেন তো।”
করিম চাচার মেয়ে আমার কাছে এসে বলে
“এই নেও চিনি।”
মেয়েটি দেখি আমাকে চোখ দিয়ে ইশারা
মেরে বলে “বাহিরে অপেক্ষা করো হিমু
ভাইয়া।”
আমি আমার ঠোঁটে ঠোঁট লাগিয়ে বলি ”
আচ্ছা আমি অপেক্ষা করছি তুমি আসো।”
১ মিনিট অপেক্ষা করার পর দেখলাম
মেয়েটি আসছে। এসেই আমাকে বলে “প্রেম
করবে?”
আমি রাগি মুখ দেখিয়ে বলি ” স্কুলে গিয়ে
ভালো করে অ আ শিখ বেডি।”
তারপর আমার সাথে প্রেম করতে আসিস।
মেয়েটি কান্নামাখা মুখে বলে ” তুমি কি
কারো সাথে প্রেম করো?”
আমি তার মুখের উপর বলে দেই ” না।” সাথে
সাথে তার মুখে কি হাসি। তারপর দেখি বই
গুলো বুকের মধ্যে জড়িত করে একটা লাফ
দিয়ে দৌড় দিয়ে চলে যেতে লাগলো।
সেদিন মনে হয় করিম চাচা কে মেয়েটি
আমার কথা বলেছিল। যে আমি প্রেম করি
না।
আর আজ তো করিম চাচার মুখের উপর সুস্মিতা
বলে দিল আমরা ১ বছর ধরে প্রেম করি। তার
জন্য মনে হয় তিনি আমাকে মিথ্যুক বলেছেন।
” আমি কি সত্যি মিথ্যুক ” নিজে কে প্রশ্ন
করলাম। কিন্তু মন বলছে আমি মিথ্যুক না।
সুস্মিতা করিম চাচা কে টাকা নিতে বলে।
করিম চাচা আমার দিকে কেমন হিংসা
হিংসা চোখে থাকিয়ে টাকা টা নিলেন।
আমি একটা মুচকি হাসি দিলাম। হাসি
দেওয়ার জন্য আমার মন টা আনন্দ বড়ে গেল।
আমি হাসি দিতেই করিম চাচার মুখটা লাল
মরিচের মতো লাল হয়ে গেল।
ইশ! কি একটা শব্দ।
আমি অন্য পাশ দিয়ে থাকিয়ে দেখি
কুকুরটাকে একটা গাড়ি ধাক্কা দিয়ে ফেলে
দিয়েছে।
আমি আতংক হয়ে উঠলাম। করিম চাচার দিকে
ভয় ভয় চোখে তাকালাম। করিম চাচা রাগি
মুখ নিয়ে আমাকে বলে “অসম্ভব।”
তার মানে আমি বুঝে গেছি। করিম চাচার
মেয়ে আমার জন্য কান্না বা নিজের ক্ষতি
করবে না। তাতেই আমি খুশি।
সুস্মিতা আমাকে বলে ” বাবু এখানে কত সময়
ধরে দাঁড়িয়ে থাকবে?”
চলো যাই।
আমাকে বাবু বলতেই করিম চাচা আমার
কাছে এসে বলে ” বিদায় হউ।”
আমি করিম চাচা কে বলি ” আমি চলে গেলে
আপনি খুশি হবেন কেন?”
করিম চাচা কিছু না বলে চলে যেতে
লাগলো। তার মানে তিনি যা বলতে
চেয়েছেন তিনি কষ্টর জন্য বলতে
পারতেছেন না। আমি কোনো ধরণের কথা না
বলে চলে আসতে লাগলাম।
পাশ দিয়ে সুস্মিতা একটা ডাক দিল। আমি
কোনো ধরণের পাত্তা না দিয়ে রিক্সার
জন্য অপেক্ষা করলাম। কিন্তু রিক্সা আর
আসছে না। তাই হেঁটে হেঁটে বাসার দিকে
এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আর বেশি এগোতে
পারলাম না। সুস্মিতা রিক্সা নিয়ে আমার
কাছে এসে বলে “উঠো।”
আমি একবার ভাবলাম সুস্মিতা একটা বড়
মেয়ে। তার কথার কিছু একটা দাম আছে।
নইলে রিক্সাওয়ালার কাছে সে ছোট হয়ে
যাবে। তাই উঠে বসলাম।
সুস্মিতা আমার দিকে চেয়ে চেয়ে একটা
ব্যাগ থেকে কি একটা বের করলো। আমি
বুঝতে পারলাম একটা ক্যাপ।
আমি মুচকি হাসি দিয়ে বলি ” কি যুগ আসলো
রে। মেয়েরাও এখন ক্যাপ পড়ে। আর দেশে
থাকা যাবে না।”
সুস্মিতা আমার হাতে একটা চিমটি দিয়ে
বলে ” আমি আমার বফ এর জন্য ক্যাপ এনেছি।
তোমার তাতে জ্বলে কেন?”
আমি চোখ দু’টা ছোট করে ঠোঁট চুকা করে
বলি ” কে তোমার বফ গো?”
এবার সে বলে ” আমার পাশে বসে আছে।”
আমি এ কথা শুনে রিক্সা থেকে লাফ দিতে
চাইলাম। কিন্তু আর দিলাম না। দিলে তো
আমি ওই ব্যথা পাব।
আমি ভাবলাম মাগনা জিনিস পাইলে ছাড়তে
নেই। তো আমি মিটমিট করে বললাম তো
ক্যাপটা আমাকে দাও।
সুস্মিতা এবার জোরে হাসি দিয়ে বলে ”
শখের কেজি কি এখন সস্তায় বিক্রি হয়?”
আমি তো অবাক হয়ে গেলাম। সুস্মিতা এ কথা
বলল কেন। না কথাটার মানে কি আমাকে
বুঝতে হবে।
আমার মোবাইল টা পকেটে বেজে উঠলো।
আমি একটু মোবাইলের দিকে তাকালাম।
দেখি মা ফোন করেছেন। আমি মোবাইলটা
ধরে হ্যালো বলতেই
” তুই কি আজ বাসায় আসবি না?”
আমি সাথে সাথে বলে দেই ” মা আমি
পাশের বাসার সুস্মিতার সাথে আছি।
মায়ের সুর টা একটু ধমকের মতো মনে
হলো”চুপ।”
মা ফোন টা কেটে দেন। মায়ের সাথে কথা
বলতে বলতে কখন যে বাসায় চলে এসেছি
বুঝতেই পারি নি।
দেখি সুস্মিতা রিক্সাওয়ালাকে বলছে মামা
বামে গিয়ে ডানে যাবেন। আমি সুস্মিতার
দিকে চেয়ে বলি “ওই দিকে কেন যাব?”
সুস্মিতা অন্য দিকে চেয়ে বলে ” তা
তোমাকে বুঝতে হবে না।”
আমি এবার রিক্সাওয়ালা মামার দিকে
তাকালাম। দেখি মামার অনেক কষ্ট হচ্ছে।
আমি সুস্মিতা কে বললাম ” সুস্মিতা চলো
হেঁটে হেঁটে যাই।”
সুস্মিতা ব্যাগে হাত দিয়ে বলে ” তার আগে
তোমাকে আমার সাথে একটা জায়গায় যেতে
হবে। সে জায়গায় তোমাকে আমি এখন নিয়ে
যাব।”
>> সে জায়গায় আমি গিয়ে কি করব?
>> সেখানে গিয়ে তোমাকে কিছু ছেলের
সাথে কথা বলতে হবে।
.
আমি ভয় ভয় চোখে বলি ” আজ না অন্য দিন
যাব। কিন্তু সুস্মিতা রাগি মুখ দেখিয়ে বলে ”
আজ ওদের একদিন কি তোমার একদিন।”
আমি তো পড়ে গেলাম ঝামেলায়। এ মেয়ের
সাথে আমি যদি প্রেম করি। তাইলে হয়তো
বেশি দিন বাঁচবো না। আমাকে তিলে তিলে
মরতে হবে। আমার আর বুঝতে বাকী রইল না।
এ মেয়ের উদেশ্য কি?
হয়তো আমাকে নিয়ে ওই ছেলেদের সাথে
বাজীমাত করবে। আর ক্ষতি কিন্তু আমার
হবে। সব কিছু আমার হবে। সুস্মিতা শুধু হাত
থালি দিবে।
.
সেখানে যাওয়ার পর আমি যা দেখলাম তা
দেখে আর নিজে কে কন্ট্রোল রাখতে পারি
নি। সেখানে রয়েছে আমাদের এলাকার বড়
ভাই। সুস্মিতা তার নিজের হাত দিয়ে
আমাকে ধরে বড় ভাইয়ের কাছে গিয়ে বলে ”
এই হলো আমার বফ। আপনি এখন মন ভরে
দেখেন। যা ইচ্ছা তা করেন। ”
বড় ভাই আমাকে লজ্জায় কিছু বলেন নি। শুধু
একটু হিংসা চোখে আমার দিকে থাকিয়ে
ছিলেন।
তিনি আমার মাথা স্পর্শ করে চলে যেতে
লাগলেন। আমি কিছু বুঝতে পারি নি।
তিনি যাওয়ার পর সুস্মিতা কে আমি
জিজ্ঞাস করলাম। “কেস কি?”
সুস্মিতা হাত নাচিয়ে নাচিয়ে বলে “উনার
সাহস কত? আমাকে বলে আমি নাকি উনার
সাথে প্রেম করব।”
আমি সুস্মিতার দিকে চোখ রাঙিয়ে বলি”
তো আমাকে কেন নিয়ে আসলে।”
সুস্মিতা মাথা নিচু করে বলে ” আমি উনাকে
বলেছি। তুমি আমার বফ।”
আমি সুস্মিতার মাথা টা সোজা করলাম।
তারপর ঠাস করে দু’টা চড় মারলাম।
সুস্মিতার চোখে পানি চলে আসলো। আমি সে
দিকে খেয়াল না করে বলি ” তুমি যদি আমার
চোখের সামনে আসো। তাইলে তোমার গাল
আর গাল থাকবে না। মেরে একেবারে তক্তা
বানিয়ে দিব।
সুস্মিতার চোখের পানি আর নাকের পানি
এক হয়ে গলা দিয়ে নামতে থাকলো।
আমার কাছে টিস্যু কাগজ ছিল। একবার মনে
হলো টিস্যু কাগজ দিয়ে কিছু উপকার করি।
কিন্তু সুস্মিতার চোখ দেখে মনে হলো টিস্যু
কাগজ টা দিব না। কারণ এখনও সুস্মিতার
চোখে আমার প্রতি ভালবাসা রয়েছে।
আমি জানি সুস্মিতা আমার কাছ থেকে
যাবে না। তাই আমি নিজে ওই চলে আসতে
লাগলাম। দেখি খুব অসহায় দৃষ্টিতে আমার
দিকে চেয়ে আছে। আমি এসব না দেখে চলে
আসতে লাগলাম।
.
সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ করতে
করতে রাস্তায় আসলাম। রাস্তায় আসতেই
আমি দেখতে পেলাম। মিন্টু একটা মেয়ে কে
প্রপোজ করল। মেয়েটি একটা মুচকি হাসি
দিয়ে প্রপোজ গ্রহণ করল। আমার মনটার মধ্যে
একটা ধাক্কা খেলাম। যেমন আমি
কারেন্টের শট খেয়েছি। কিন্তু কেন?
তা আমি বুঝতে পারি নি। আমি হাত মুখ
ফ্রেস করে খাবার টেবিলে বসে
খাওয়াদাওয়া করে একটা টিশার্ট পড়ে
বাহিরে যাওয়ার জন্য বের হলাম।
ভাবছি যাব কোথায়? বাসা থেকে যেমন বের
হয়েছি আমাকে তো কোথায় যেতে হবে।
পিছনের দিক থেকে কে আমাকে বলছে
“কোথায় যাচ্ছ?”
আমি সাথে সাথে কাঁধ ঘুরিয়ে তাকালাম
কিন্তু কাউকে খুঁজে পাই নি।
আমার মনে হয়েছিল সুস্মিতা আমাকে
ডাকছে। আমি একটা পা সামনের দিকে
দিতেই দেখি সুস্মিতা আমাকে বলছে ”
আমাকে কেমন লাগছে?”
আমি বকা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতেই
দেখি সুস্মিতা না।
অন্য একটা মেয়ে।
আমার মাথায় এখন শুধু একটা নাম ঘুরছে। আর
সে নাম টা হলো সুস্মিতা।
আমি নিজেকে একটা ঝারি দিলাম।
“অসম্ভব। তা কিছুতেই হতে পারে না।”
এসব ভেবে ভেবে রাস্তা পাড় হতে লাগলাম।
কিন্তু আমার মনটার মধ্যে সুস্মিতার সেই
থাপ্পড় দেওয়ার চেহারা টা ফুটে উঠেছে।
আমি কেঁদে দিলাম।
আমি এমন কেন?
একটা মেয়ে আমাকে এতো ভালবাসে। আর
আমি তাকে সব সময় অবহেলা করি। হঠাৎ
দেখি সুস্মিতা আমার হাতে একটা টান দিয়ে
নিজের কাছে নিল।
” দেখেশুনে রাস্তা পাড় হতে পার না। এখন
যদি কিছু হয়ে যেত। তাইলে কি হতো
তোমার। একবার ভেবে দেখছ?”
সুস্মিতা এ কথা বলে নিজের চোখ থেকে
পানি মুছতে লাগলো। আমি সুস্মিতার চোখের
পানি মুছে দিয়ে বলি “কিছু হবে না আমার।
কারণ তোমার ভালবাসা ৮-১০ জন্যের মতো
না। তোমার ভালবাসা আমাকে নিয়ে।
আমাকে নিয়ে বেঁচে থাকার ভালবাসা।”
আমি সুস্মিতার মাথায় ধরে আমার দিকে
সোজা রাখলাম। তারপর বললাম ” সব সময়
আমাকে তোমার চোখে চোখে রাখবে?”
সুস্মিতা কান্নার সাথে হাসি দিয়ে
বলে”তোমার মাঝে পানি আর চিনির মতো
মিশে যাব।
আমি মিনমিন করে বলতে লাগলাম ” এ মেয়ের
ভালবাসা আর হাড়াতে চাই না।”
“কিছু বললে?” এ কথা বলে সুস্মিতা আমার
দিকে থাকাল।
আমি বললাম “তোমার আশাটা পূরণ হলো।”
.
লেখা : ahmed himu ( মুরুব্বি)

Please follow and like us:

Post Reads: 575 Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 + 4 =