ছোট বেলার প্রেম তুমি পর্ব-৩ | childhood love story- part-3

ভালবাসার গল্প
Imran Khan || 23 March, 2021 ! 10: 10 am

#ছোট_বেলার_প্রেম_তুমি #part_3
লেখকঃ Arian Sumon
3rd part…
হঠাৎ কেউ একজন পেছন থেকে হাত ধরল। আমি পিছনে ঘুরতেই আমাকে জড়িয়ে ধরল। আমি শকড হয়ে গেলাম।
সিনথিয়াঃ আমার মন চুরি করে এখন ভাব নিয়ে চলে যাওয়া হচ্ছে। সয়তান কুত্তা গরু
আমি বুঝতে পেরে আমিও সিন থিয়া কে জড়িয়ে ধরলাম।
অবশেষে আমার আর সিনথিয়ার প্রেম হয়ে গেল।
সিনথিয়াঃ কি হলো ছাড়বেন না
আমিঃ না ছাড়তে যে ইচ্ছে কিরছেনা
সিনথিয়াঃ ছাড়ুন তো।
জোর করেই নিজেকে ছাড়িয়ে নিল।
তারপ দিল দৌড়। বুঝলাম লজ্জা পেয়েছে।
ও চলে গেল।
আমি শাওন আর তুষার কে ফোন দিলাম। দেখা করার জন্য বললাম।
দুইজনের হাজির।
রাকিবঃ কিরে এত যলদি ডাকলি কেন? কোনো সমস্যা?
আমিঃ না না কোনো সমস্যা নেই।
শাওনঃ ব্যাপার কি বন্ধু তুরে অনেক খুশি খুশি লাগতেছে
আমিঃ হ্যা আমি অনেক খুশি।
রাকিবঃ কেন রে
আমিঃ সিনথিয়া আমার প্রপোজ একসেপ্ট করেছে।
শাওনঃ কি বলিস তুই
আমিঃ হুম সত্যি।
শাওনঃ মিথ্যা বলিস না তুই
আমিঃ আরে না আমি মিথ্যা বলছিনা সত্যি
শাওনঃ তাহলে ট্রিট দে যলদি
আমিঃ আচ্ছা চল কি খাইবি
শাওনঃ রেষ্টুরেন্ট চল
আমিঃ এক্কেবারে রেষ্টুরেন্ট??
শাওনঃ চল এখন।
যাহোক ওদের খাইয়ে দিলাম।
রাতের বেলা।
ধ্যাত ছাই সিনথিয়ার নাম্বারটাই তো নিতে ভূলে গেছি। কেমন ডা লাগে। আমার গালফ্রেন্ড অথচ আমার কাছেই তার নাম্বার নাই। লোকে শুনলে কি কইব। নিজেকে বলদ মনে হইতেছে। তবে বিশ্বাস করতে পারছিনা সিনথিয়াকে আমি এত যলদি রাজি করিয়ে ফেলেছি।
নিজের ভাবনার দেয়াল ছেদন ঘটালো ফোন। হঠাৎ ফোন আসল। আন নোন নাম্বার তাই রিসিভ করলাম না। আবার ফোন আসল। রিসিভ করলাম।।
আমিঃ হ্যালো
ওপাশ থেকে কোনো উত্তর দিচ্ছেনা।
আমিঃ হ্যালো হ্যালো
উত্তর না পেয়ে ফোন কেটে দিলাম।
আবার ফোন দিল। কেমন ডা লাগে। রোমান্টিক মুড টা আজাইরা ফোন দিয়ে নষ্ট করার কোনো মানে আছে কি।মেজাজটা তাই খাড়াপই হয়ে গেল। রিসিভ করলাম।
আমিঃ ওই মিয়া কে বলছেন ফোন দিয়ে কথা বলেন না কেন হ্যা
ওপাশ থেকে মায়াবী কন্ঠে বল উঠলঃ আমি
আমি তো হতবাক হয়ে গেলাম।। সিনথিয়া। সিনথিয়া ফোন দিয়েছে।
আমিঃ সিনথিয়া?
সিনথিয়াঃ হ্যা।
আমিঃ উফস আগে বলবা না। আমি তো হুদাই রেগে যাচ্ছিলাম।
সিনথিয়াঃ মানুষের সাথে সুন্দর করে কথা বলা যায় না?
আমিঃ না মানে ইয়ে
সিনথিয়াঃ হইছে বুঝতে পারছি । কাল সকাল ১০ টায় আমার সাথে দেখা করবেন।
আমিঃ হ্যা তা তো করতেই হবে। তোমাকে না দেখলে যে আমার সারাদিন টাই বাজে যায়।
সিনথিয়াঃ চাপা মারবেন না। চাপা আমি পছন্দ করিনা
আমিঃ বিশ্বাস করো আমি চাপা মারিনা
সিনথিয়াঃ যাইহোক খাওয়া ধাওয়া করেছেন
আমিঃ হুম তুমি?
সিনথিয়াঃ হ্যা করেছি। কি করতেছিলেন
আমিঃ তোমার কথাই ভাবতেছিলাম আর নিজেকে বলদ মনে হচ্ছিল।
সিনথিয়াঃ এম্মা কেন?
আমিঃ তোমার নাম্বারটাই নিতে ভূলে গিয়েছিলাম যে তাই। কিন্তু তুমি আমার নাম্বার পাইছ কি করে?
সিনথিয়াঃ পেয়েছি যেভাবেই হোক। আচ্ছা আমি ঘুমাব
আমিঃ ওকে তাহলে কাল দেখা যাচ্ছে
সিনথিয়াঃ হুম
আমিঃ আচ্ছা শুনো
সিনথিয়াঃ বলেন
আমিঃ I LOVE YOU
সিনথিয়াঃ I LOVE YOU TOO
বলেই ফোন কেটে দিল।
উফস কি ভালো লাগছে। অবশেষে কথাও হয়ে গেল। আহা কি ভালো লাগছে।
যাইহোক নাম্বার টা জানপাখি লিখে সেইভ করলাম।
তারপর ঘুমিয়ে গেলাম।
পরদিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে গেলাম। গোছল করে রেডি হলাম।।নাস্তা না করেই বেড় হতে যাব। তখনি আব্বু এসে হাজির।
আব্বুঃ কোথায় যাচ্ছিস তুই?
আমিঃ ঘুরতে যাব।কেন
আব্বুঃ আমার তো অন্যরকম লাগছে। কোনো ভাবে মেয়েলী কেস না তো?
আমিঃ কি যে বলো না। আমি আর মেয়ে। আমার দ্বারা কি এসব সম্ভব নাকি? বলো
আব্বুঃ তাও কথা তুর কাছে কোন মেয়েই বা আসবে প্রেম করতে।
আমিঃ দেখি সড়ো এখন। বেড় হতে দাও।
বলেই আব্বুকে পাশ কাটিয়ে বেড় হলাম।।বাইক নিয়ে নিলাম।।
বাইক নিয়ে সোজা কলেজের সামনে পৌছে গেলাম।।
কলেজের সামনে সিনথিয়ার জন্য অপেক্ষা করতেছি।
কিছুক্ষনের মধ্যেই সিনথিয়া এসে হাজির হলো।
সিনথিয়াঃ সরি একটু দেড়ি হয়ে গেল।
আমিঃ কিছুই হয়নি। কোনো সমস্যা নেই। উঠো
সিনথিয়াঃ কেন
আমিঃ ঘুরতে যাব তোমাকে নিয়ে
সিনথিয়াঃ আমার ক্লাস আছে তো।
আমিঃ একদিন ক্লাস না হইলে কিছু হবেনা।।
সিনথিয়াঃ আচ্ছা চলেন।।
সিনথিয়া কে নিয়ে ঘুরতে বেড়িয়ে গেলাম।
সিনথিয়াঃ আচ্ছা আপনি আমাকে সত্যি ভালোবাসেন?
আমিঃ কোনো সন্ধেহ আছে?
সিনথিয়াঃ নাহ।
আমিঃ ভালোবাসি অনেক ভালোবাসি তোমাকে
সিনথিয়াঃ আমি বলব
আমিঃ কি?
সিনথিয়াঃ আপনাকে আমার ভালো লাগেনা
আমিঃ কিহ
সিনথিয়াঃ আরে শুনবেন তো আগে।
আমিঃ হুম
সিনথিয়াঃ প্রথমে আপনাকে ভালো লাগত না। তবে প্রতিদিন পিছু পিছু হাটতেন। আর জানেন তো ওই এলাকা সবসময় খুব জনমানবহীন। আপনি আমাকে অনেক বাসার কাছাকাছি দিয়ে যেতেন। তবে ভয় ও লাগত। সেইফটি হিসেবে ছিলেন। এভাবেই কখন যে আপনাকে নিয়ে ভাবতে শুরু করেছিলাম নিজেও জানিনা। আবার ওইদিন আপনি আমাকে প্রপোজ করছিলেন। সেদিন আমার কাছে কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না।তাই উত্তর না দিয়েই চলে গেছি। তবে সারা রাত চিন্তা করে দেখলাম আমিও আপনাকে(কি
আমিঃ তুমি আমাকে কি?
সিনথিয়াঃ ভালোবাসি।
বলেই আমাকে জড়িয়ে ধরল। আমিও জড়িয়ে ধরলাম।
যাহোক ওইদিন সারাদিন ওর সাথে ঘুরলাম।
সন্ধ্যাবেলা ওরে বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে আসলাম।



কয়েকদিন পর,,
রাকিবঃ আচ্ছা তুই কি একটা খবর জানিস?
আমিঃ কি?
রাকিবঃ তিন্নি আমেরিকা থেকে ফিরে এসেছে
আমিঃ তো আমার কি?
রাকিবঃ দেখিস ওদিকে আর নজর দিস না
আমিঃ ধুর ওসব চিন্তা অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছি। এখন আমার চিন্তাধারায় শুধু সিনথিয়া।
রাকিবঃ যত দ্রুত সম্ভব বিয়ে করে নে
আমিঃ দেখি। একটা চাকরির ইন্টার্ভিউ আছে কাল।। জব হয়ে গেলেই বিয়ে করে ফেলব ওরে।।
রাকিবঃ এটাই ঠিক হবে।
পরদিন সকাল সকাল উঠে ফ্রেশ হলাম। মার্জিত পোষাক পড়লাম।
রুম থেকে বেড় হলাম।
আমিঃ আম্মু আম্মু নাস্তা দাও তো।
আমাকে দেখে আব্বু আম্মু ছোট বোন তাকিয়ে রয়েছে।
আমিঃ কি হইছে এভাবে তাকিয়ে আছ কেন? নাস্তা দিতে বলছি
আম্মুঃ তুই এই পোষাকে? কোথাও যাবি নাকি
আমিঃ হ্যা যাব
ছোট বোনঃ কি কলেজের সামনে নাকি? মেয়ে পটাবি
আমিঃ চুপ।
আব্বুঃ এত ভাব না নিয়ে বললেই তো হয় কোথায় যাবি
আমিঃ চাকরির ইন্টার্ভিউ আছে সেখানেই যাব।
সবাই হা হয়ে আছে। বুঝলাম কেন হা হয়েছে। কারন একটাই গত দুই বছর ধরে এত জোর করেও আমাকে একটাও চাকরির ইন্টার্ভিউ দেওয়াতে পারেনাই। আর সেই আমি আজকে নিজে থেকেই যাইতেছি।
আমিঃ হইছে হা করে না তাকিয়ে এখন নাস্তা দাও দেড়ি হয়ে যাবে নাহলে।
পরে খাইতে খাইতে আব্বুর আম্মুর ইমোশনাল কথা শুনলাম। আপনাদের বলা যাবেনা।।
যাহক আল্লাহর নাম নিয়া বেড় হলাম।
কলেজের সামনে গিয়ে সিনথিয়ার সাথেও দেখা করলাম।
আমিঃ দোয়া করিও আজ যদি চাকরি টা হয়ে যায় তাহলে আর বেশিদিন প্রেম করতে হবেনা। সরাসরি বাসায় নিয়ে যাব
সিনথিয়াঃ আপনি চাকরির ইন্টার্ভিউ দিতে যাচ্ছেন
আমিঃ হুম। আর তোমাকে কত বার বলেছি যে আমাকে তুমি করে বলবে
সিনথিয়াঃ পারব না।
আমিঃ অনার্স এ পড়ো। তারপরেও এর মাথামোটা তুমি।
সিনথিয়াঃ কিহ আমি মাথামোটা ( রেগে)
আমিঃ হুম
সিনথিয়াঃ এখন কিছু বলব না। ইন্টার্ভিউ দিয়ে আসেন তারপর। বুঝাব মজা।।
আমিঃ আজ্ঞে ম্যাম।
পরে ইন্টার্ভিউ দিতে গেলাম।
TO BE CONTINUe

Comments

Post Reads: 1720 Views