ছোট বেলার প্রেম তুমি -পর্ব-১ childhood love story-1st part

ভালবাসার গল্প
Imran Khan || 16 March, 2021 ! 6: 50 pm

#ছোট_বেলার_প্রেম_তুমি #childhood_love_story #part-1
1st part…
আমিঃ আম্মু আমি বিয়ে করব
আম্মুঃ কি কি কইলি তুই?
আমিঃ বিয়ে করব বলছি। বড় তো কম হইনাই। এবার তো বিয়ে করিয়ে দিবা
আম্মুঃ রিয়া আমার ঝাড়ু টা কোথায় রে( রিয়া ছোট বোনের নাম)
আমিঃ ঝাড়ু খুজতেছ কেন?
আম্মুঃ তুর পিঠে ভাঙমু
আমিঃ কি করলাম আমি
আম্মুঃ কিস করছস আবার মুখে বলিস। ওই রিয়া কই তুই তারাতারি নিয়া আয়
আমিঃ আহা রেগে যাচ্ছে কেন বুঝতেছিনা
আম্মুঃ বুঝাইতেছি দাড়া তুই।
রিয়া ঝাড়ু নিয়া আসল। যেই আম্মু ঝাড়ু দিয়া মারতে যাবে ওমনি ঘুম টা ভেঙে গেল।
শুয়া থেকে বসে গেলাম। রুম থেকে বেড়িয়ে আম্মুকে খুজতে লাগলাম। দেখলাম আম্মু রান্না ঘরে। যাক বাবা বাচলাম। আমি তো ভাবছিলাম সত্যিই নাকি মারে আবার। আম্মুরে বিশ্বাস নাই। সেই ছোট বেলা থেকে আম্মুর একমাত্র অস্ত্র ছিল ঝাড়ু। এই ঝাড়ু দিয়া যে কত মাইর খাইছি হিসেব নাই।
যাহোক প্রচন্ড ক্ষুদা লাগছে। খাইতে হবে। আমি আম্মুকে ডাকলাম মিষ্টি করে।
আমিঃ আম্মু ও আম্মু
আম্মুঃ কি ব্যাপার আজ এত মিষ্টি করে ডাকছিস যে?
আমিঃ আজব আমি কি তোমাকে ডাকতেও পারব না।
আম্মুঃ ডাকবি ব্যাপার টা তা নয়। ব্যাপার টা হচ্ছে এত মিষ্টি করে তো আগে ডাকতি না।
আমিঃ ধুর ছাই। যাও শুনা লাগবে না তোমার
বলেই রুমে চলে গেলাম। গিয়ে ফ্রেশ হলাম। ফ্রেশ হতে চলে গেলাম।
এই ফাকে আমার পরিচয় টা দিয়ে দেই। আমি আরিয়ান। পড়াশোনা শেষ করলাম মাত্র। বাবা মায়ের বেকার ছেলে। দেশের বাজারে চাকরি নাই। তাই চাকরির চেষ্টাও করতেছিনা। আপাদত এটাই পরিচয়
যাহোক ফ্রেশ হয়ে এসে বসে বসে গেম খেলতেছি তখনি আব্বু এসে হাজির।
আব্বুঃ সারাদিন খালি ফোন টিপলেই হবে। বাড়ির কাজ ও তো করতে পারস
আমিঃ আইছে এখন জ্ঞান দেওয়া শুরু করবে ( মনে মনে)
আব্বুঃ যাহোক এই ধর টাকা আর বাজারের ব্যাগ। বাজার করে নিয়ে আয়।
আমিঃ আমি বাজার করব?
আব্বুঃ হ্যা এখন থেকে তুই বাজার করবি। সারাদিন তো খালি আড্ডা দিয়েই যাচ্ছিস। পড়াশোনা শেষে সবাই চাকরি করে আর তুই আজাইরা খাচ্ছিস।।
আমিঃ তোমার হিংসে হয় আমি আজাইরা থাকায়?
আব্বুঃ কি বললি তুই? কি বললি আরিয়ানের মা কোথায় তুমি? এদিকে আসো দেখ তোমার ছেলে কি বলে আমাকে
আমিঃ আম্মুকে ডাকছ কেন
আম্মু আসল।
আম্মুঃ ডাকছ কেন?
আব্বুঃ তোমার ছেলে আজাইরা খাচ্ছে ঘুরছে তার জন্য নাকি আমি নাকি হিংসে করি। ও কি জানেনা ওর বয়সে আমি ওর বাবা হয়ে গিয়েছিলাম।
আমিঃ বিয়ে করিয়ে দিলে আমিও এমন দু একটার বাপ হয়ে যাইতাম( মুখ ফসকে বলে ফেললাম)
আব্বু আম্মু আমার দিকে তাকিয়ে আছে। এর মাজে ছোট বোন এসে হাজির হলো। ও হাসছে
আর আম্মু আব্বু আমার দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে যেন আমাকে চিবিয়ে খাবে।
আমি কথা ঘুরানোর জন্য বললাম।
আমিঃ আচ্ছা আচ্ছা বাজার করে নিয়ে আসতেছি। এত বকা দিচ্ছ কেন।
বলেই বিছানা ছেড়ে রুম থেকে বেড়িয়ে কোনোরকমে বাসা ছাড়লাম।
বাসা থেকে বেড়িয়ে জোরে জোরে কতগুলো নিঃশ্বাস নিলাম। উফস বাচা গেল। নাহলে যে আজকে আমার উপর দিয়ে টর্নেডো বয়ে যেতো।
যাহোক বাজারে চলে গেলাম। বাজারের লিষ্ট দেখে কান্না পাইতে লাগল। কিছু করার নাই সব কিছুই নিলাম। সব শেষে পকেটে দেখি মাত্র দশ টাকা আছে। এতে রিকশা ভাড়াই হবেনা। জীবন টা বেদনা। কেমন ডা লাগে বলেন। এভাবে গুনে গুনে কেউ টাকা দেয়। ভাবছিলাম বাজার করার টাকা থেকে কিছু টাকা মেরে দিব। অথচ এখন রিকশা ভাড়া নিজের পকেট থেকেই দিতে হবে।
যাহোক বাজার করে বাসায় গেলাম।
আমিঃ টাকা দাও আমার পকেট থেকেও বাজারে টাকা গেছে
আব্বু আমাকে দশ টাকা দিল?
আমিঃ দশ টাকা ?
আব্বুঃ হ্যা দশ টাকাই তো তুর পকেট থেকে গেছে।
ভাইরে ভাই আব্বু এত চালাক আমি আগে জানতাম না।
আমিঃ দশ টাকা খরচ হইছে দেইখা দশ টাকাই দিবা
আব্বুঃ তো?
আমিঃ আমিও একদিন চাকরি করব। আর তুমি তখন বসে থাকবা । দেইখো তুমি তখন আমার কাছে টাকা খুজলে আমিও তোমাকে দশ টাকা বিশ টাকার বেশি দিব না।
আব্বুঃ আগে তো চাকরি কর।
আমিঃ নাহ নাহ থাকুম না আর এ বাড়িতে আজকেই চলে যাব।
আব্বুঃ হ্যা তুর দৌড় আমার জানা আছে।
মেজাজ টুঙে উঠে গেল। সোজা বাসা থেকে বেড়িয়ে গেলাম।
চাকরি করিনা দেইখা খালি খোটা দেয়। কেমন ডা লাগে বলেন।



শাওনঃ কিরে একা একা বসে আছিস যে?
আমিঃ রঙ লাগছে তাই বসে আছি
শাওনঃ এভাবে রেগে কথা বলছিস কেন?
আমিঃ আর বলিস না বাসা থেকে উঠতে বসতে খাইতে শুইতে খালি বলে কাজ করিনা কেন। কাজ কি মুরির মোয়া নাকি? কইলেই পাওয়া যায়
শাওনঃ আসলেও বন্ধু। আমাদের কষ্ট কেউ বুঝেনা। পড়াশোনা শেষ করলাম কোথায় একটু ঘুরব ফিরব তা না খালি বলে চাকরি করিনা কেন।
আমিঃ চল দুজন মিলে কাদি
শাওনঃ হুম চল।
এর মাজে রাকিব এসে হাজির হলো।
রাকিবঃ কিরে তুরা কি নিয়ে কান্নাকাটি করতে যাচ্ছিস?
আমিঃ তুই এসে গেছিস
রাকিবঃ এলাকায় যে নতুন মাইয়া আসছে জানোস না তুরা?
আমিঃ কি বলছিস
রাকিবঃ হ্যা জানোস না তুরা। মাত্র দেখে আসলাম।
আমিঃ কোথায় বন্ধু কিসে পড়ে বাসা কোনটা?
রাকিবঃ আস্তে আস্তে। মাত্র দেখলাম কলেজে যাচ্ছে। এছাড়া কিছু জানিনা
আমিঃ আর কিছু জানিস না?
রাকিবঃ না
শাওনঃ চল তাহলে কলেজের সামনে যাই। বেড় হলেই জিগাসা করে বায়োডাটা জেনে নিব।
আমিঃ ভালো বলছিস। তো রাকিব তুই মেয়েটাকে দেখলে চিনবি তো?
রাকিবঃ হ্যা চিনব।
শাওনঃ আর হ্যা রাকিব তো বিবাহিত। আর আরিয়ান তুই এই মেয়েটার দিকে নজর দিবিনা। কারন তুই তো আগেও প্রেম করেছিস। এটা আমার।
আমিঃ আগে করছি এখন আমিও সিংগেল। সুতরাং মেয়েটা আমার
শাওনঃ না আমার বলছি তো
রাকিবঃ শালা তুরা ঝগড়া করবি নাকি যাইবি
আমিঃ হ্যা চল তবে মেয়েটা আমার
শাওনঃ না আমার
রাকিবঃ আচ্ছা দুজনেরই এখন চল।
তিন বন্ধু কাধে হাত দিয়ে হাটতে হাটতে কলেজের সামনে চলে গেলাম।
কলেজের সামনে একটা চায়ের দোকানে বসে আছি তিনজন। একের পর একটা মেয়ে সামনে দিয়ে যাচ্ছে। আর মনে ঝাটকা দিয়ে যাচ্ছে।
রাকিবঃ ওই যে মেয়েটা
আমি আর শাওন একসাথে বলে উঠলামঃ কোনটা কোনটা?
রাকিবঃ ওই যে নীল ড্রেসের পাশে দেখছিস না?
শাওনঃ ওইটা তো মাশাল্লাহ আমি তো প্রেমে পড়ে গেছি বন্ধু।
রাকিবঃ আব্বে শালা প্রতিবন্ধী নীল ড্রেসের পাশে কলেজ ড্রেস পড়া যেই মেয়েটা ওইটা।
আমি তো চিৎকার দিয়ে উঠলাম।।
রাকিবঃ চিল্লাস কেন?
আমিঃ তাহলে সব ঠিকঠাক নীল ড্রেস পড়াটা শাওনের আর ওইটা আমার।
শাওন আর কি বলবে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। বেচারা বলার আর কি থাকবে। নিজের পাছায় নিজেই তো বাশ দিয়ে দিছে।
শাওনঃ হইছে ডাইলগ দিতে হবেনা। আমার টা কম জোস না।
আমিঃ উফস রাকিব তুই কি দেখাইলিরে মন টা পুরা কেড়ে নিয়ে গেল।
রাকিবঃ এখন কি এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবি নাকি ওদের নাম টাম ও জানা লাগবে
শাওনঃ হ্যা হ্যা লাগবে না কেন। চল পিছে
যাহোক ওদের পিছু নিলাম।
কিছুক্ষন পর পর মেয়েগুলো পেছন তাকাচ্ছে। আর মায়াবী হাসি দিচ্ছে। হেব্বি লাগছে ।
একসময় মেয়ে দুইটা দাড়ালো।
আমরাও দাঁড়িয়ে গেলাম।
একটা নীল ড্রেস পডুয়া মেয়েটা অন্য রাস্তায় চলে গেল।
আমিঃ তুর টা তো চলে যাচ্ছে যা পিছে গিয়ে দেখ কোথায় থাকে
শাওনঃ হ্যা যাবই তো । রাকিব তুই আমার সাথে আয়।
আমিঃ যা রাকিব ওর সাথে
রাকিবঃ আর তুই
আমিঃ আমি কি ওর মতো ভয় পাই নাকি? যা ওর সাথে যা।আমি একাই পারব।
ওরা দুজন ওই মেয়ের পিছু নিল। আর আমি আমার টার পেছন নিলাম।
পিছু হাটছি হাটছি। একসময় মেয়েটা দাঁড়িয়ে গেল। আমিও দাঁড়িয়ে গেলাম।
মেয়েটিঃ এই যে মিষ্টার এদিকে আসেন
আমি তো ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম।। একটু ভয় ভয় ও লাগছে। চারদিকে তাকিয়ে দেখি রাস্তায় একটা কুকুর ও নেই।
আমিঃ জ্বী কিছু বলবেন?
মেয়েটিঃ সেই কখন থেকে দেখছি আমার পিছু নিছেন। কারন টা কি বলবেন?
আমিঃ না কোনো কারন নেই তো। ( আমার হাটু কাপছে)
মেয়েটিঃ আপনার হাটু কাপতেছে কেন?
আমিঃ কই কই। না এমনিই।
মেয়েটিঃ যাহোক আমার পিছু আসবেন না। bye..
মেয়েটি হাটা ধরল।
আমি নিজেকে গালি দিতে লাগলাম বোকা বলে। কি বোকা তুই মেয়ে নিজে থেকে তুর সাথে কথা বলতে আসল অথচ কিছু বলতে পারলি না। গদ্দপ কোথাকার।
আবারও মেয়েটার পিছু নিলাম। মেয়েটা আবারও দাড়ালো। আমি এগিয়ে গেলাম।
মেয়েটিঃ কি সমস্যা পিছু নিচ্ছেন কেন?
আমিঃ আসলে i want to know your name. what’s your name?
মেয়েটিঃ আমার নাম জেনে কি করবেন
আমিঃ না এমনিই।
মেয়েটিঃ আমার নাম…..?
লেখকঃ Arian sumon

ছোট বেলার প্রেম তুমি পর্ব-২

Comments

Post Reads: 2012 Views