তাহাজ্জুদ নামায এবং তাহাজ্জুদ নামাযের আগে করণীয়……

Islamic Question and Answer ইসলাম ও জীবন
Imran Khan || 27 January, 2019 ! 11: 09 am

#তাহাজ্জুদ_নামাজ!!
.
👉#আপনি_মন থেকে কোনকিছু চাইছেন অথচ আপনি তাহাজ্জুদে উঠে আকুতিমাখা কান্না নিয়ে সেটা আল্লাহর কাছে বলছেন না তাহলে সেই চাওয়াটার মাঝে কিন্তু অনেকখানি অপূর্ণতা থেকেই যায়..

অথবা অনেক বড় গুনাহ্ করে ফেলেছেন বা অনেক বড় কোন সমস্যায় পড়েছেন অথচ আপনি অন্যদের বলছেন সাহায্যের জন্য, ফেইসবুকে সবার মাঝে জানাচ্ছেন সিমপ্যাথি পাবার জন্য অথচ যিনি আপনাকে বানালেন, যিনিই পারেন আপনার প্রতিটা গুনাহ মাফ করে দিতে, প্রতিটা সমস্যার সমাধান করে দিতে তিনিই যখন সবথেকে কাছের আকাশে এসে আপনার মনের কষ্ট আর ব্যকুলতার কথাগুলো বলতে বলছে তখন আপনি গভীর ঘুমে বিভোর হয়ে আছেন! তাহলে?

তাই যখন গভীর রাতে পুরো পৃথিবী নিস্তবদ্ধায় ডুবে যাবে তখন সিজদায় লুটিয়ে হোক, দুহাত তুলে হোক, আরবি কিংবা যে ভাষাতেই হোক নিজের মনের সব কথাগুলো

👉তাহাজ্জুদের মধ্যে আল্লাহর সাথে শেয়ার করার অভ্যাস করুন.. অত্যন্ত আজ থেকে শুরু করে দেখুন.. পার্থক্যটা নিজেই বুঝবেন..

👉#তাহাজ্জুদ_নামাযের সময়ঃ
অর্ধ রাতের পরে। রাতের শেষ তৃতীয়াংশে পড়া উত্তম। তাহাজ্জুদের মুল সময় মুলত রাত ৩টা থেকে শুরু হয়ে ফজরের আযানের আগ পর্যন্ত থাকে। তবে ঘুম থেকে না জাগার সম্ভাবনা থাকলে ইশা সালাতের পর দু রাকআত সুন্নত ও বিতরের আগে তা পড়ে নেয়া জায়েয আছে। তবে পরিপূর্ণ তাহাজ্জুতের মর্যাদা পেতে হলে, এশার নামাযের পর ঘুমিয়ে রাত ২টা বা ৩টার দিকে উঠে নামায আদায় করতে হবে।

👉তাহাজ্জুদ নামাযের রাকআত সংখ্যাঃ

সর্ব নিম্ন দু রাকআত। আর সর্বোচ্চ ৮ রাকআত পড়া উত্তম। তাহাজ্জুদের ৮ রাকাত নামায আদায় করার পরে, বিতর ৩রাকাত নামায পড়া। রাসুল (সাঃ) তাহাজ্জুদের নামায বেশিরভাগ সময় ৮রাকাত পরতেন এবং এঁর পর বিতরের নামায পরে মোট ১১রাকাত পূর্ণ করতেন।

👉[১]তাহাজ্জুদ নামায বিতরসহ ১৩, ১১, ৯ কিংবা ৭ রাকাত পড়া যায়!
———-[]বুখারী, মুসলিম, মেশকাত[]

👉[২]প্রথমে দু’রাকাত ছোট ছোট সুরা মিলিয়ে হালকাভাবে পড়ে আরম্ভ করবে!
———[]মুসলিম, মেশকাত []

👉[৩] অতঃপর দু’রাকাত করে, তাহাজ্জুদের নামায সাত রাকাত পড়তে চাইলে দু’সালামে চার রাকাত পড়ে তিন রাকাত বিতর পড়বে ।
———-[]বুখারী, মেশকাত []

[বিঃদ্রঃ]- যদি এশার নামায পরে বিতরের নামায পড়ে থাকেন, তবে তাহাজ্জুত নামায পড়ার পড়ে বিতর নামায পড়ার দরকার নেই। তখন ২ রাকাত থেকে শুরু করে ৮রাকাত তাহাজ্জুত নামায পরলেই হবে।

👉তাহাজ্জুদ নামাযের আগে করণীয়ঃ
হুযাইফা (রাদি.) বলেন, রাসুল সা. যখন তাহাজ্জুদ পড়তে উঠতেন তখন মিসওয়াক করতেন এবং আমাদেরকেও মিসওয়াক করার হুকুম দেয়া হত, আমরা যখন তাহাজ্জুদ পড়তে উঠতাম, অতঃপর নবী (সাঃ) অযু করতেন (মুসলিম) । তারপর নীচের দু’আ ও তাসবীহগুলি দশবার করে পড়তেন । তারপর নামায শুরু করতেন
————[]আবু দাউদ, মেশকাত[]

👉(১) দশবার “আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ)
👉(২) দশবার আলহামদুলিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যই)
👉(৩) দশবার সুব্‌হানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী (আমি আল্লাহ প্রশংসার সাথে তাঁর পবিত্রতা ঘোষনা করছি)
👉(৪) দশবার সুব্‌হানাল মালিকিল কদ্দুস (আমি মহা পবিত্র মালিকের গুণগান করছি)
👉(৫) দশবার আসতাগফিরুলাহ (আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করছি)
👉(৬) দশবার লা ইলাহ ইল্লাল্লাহু (আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের যোগ্য আর কেউ নেই)
👉(৭) দশবার আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিন দীক্বিদ্দুনিয়া ওয়া দীক্বি ইয়াওমিল ক্বিয়ামাহ (হে আল্লাহ! আমি এই জগতের এবং পরকালের সঙ্কট থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি)

👉#তাহাজ্জুদ_পড়ার নিয়মঃ
————————————–
তাহাজ্জুদ নামায পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোন সুরা নেই। যে কোন সুরা দিয়েই এই নামায আদায় করা যাবে। তবে যদি বড় সুরা বা আয়াত মুখুস্ত থাকে তবে, সেগুলো দিয়ে পড়াই উত্তম। কারন রাসুল (সাঃ) সব সময় বড় বড় সুরা দিয়ে তাহাজ্জুদ নামায আদায় করতেন। তাই আমাদেরও বড় সুরা মুখুস্ত করে, তা দিয়ে তাহাজ্জুত নামাদ আদায় করা উচিৎ।
যাইহোক, বড় সুরা মুখুস্ত না থাকলে যে কোন সুরা দিয়েই নামায আদায় করা যাবে। নিয়ম হল ২রাকাত করে করে, এই নামায আদায় করা। প্রত্যেক রাকাতে সুরা ফাতিহা পড়ার পর, অন্য যে কোন সুরা মিলানো। এভাবেই নামায আদায় করতে হবে।

আল্লাহ, আমাদের সবাইকে তাহাজ্জুদের পরিপূর্ণ মর্যাদা লাভ করার তৌফিক দান করুন..[#আমিন]

Please follow and like us:

Post Reads: 139 Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eleven + twelve =