love-story-wife

ভালবাসার গল্প: লক্ষী_বউ

ভালবাসার গল্প
Imran Khan || 06 September, 2018 ! 8: 42 am

..ওই একবার আমাদের বাড়ির সামনে আসো তো।
কেনো?
একটা বিশাল সমস্যা হয়ে গেছে।
কি সমস্যা?
ফোনে বলা সম্ভব না,আগে আসো তারপর বলছি।
এখন রাত কয়টা বাজে দেখেছো।
হুম তো!
ভূত ধরে যদি।
চুপ ২০মিনিটে আসবা,বাই।
বলেই রিমি কল কেটে দিলো। কোনো উপায় না পেয়ে আমিও সাথে সাথে বেড়িয়ে পরলাম।

রাস্তা দিয়ে হাটতেছি।
এই ফাকে আমাদের পরিচয়টা দিয়ে দেই। আমি নীল একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করি। আর
যার সাথে এতক্ষন কথা বললাম ওর নাম রিমি আমার দুষ্ট-মিষ্টি বউ। ও এখন ওর বাবার বাড়ি আছে। না না
আপনারা আবার ভাববেন না যে রাগ করে গেছে। এমনি বেড়াতে গেছে। আসলে অনেক দিন হলো তো
বাবা মাকে দেখে না তাই আর কি। ওদের আর আমাদের বাড়ি বেশী দুরে নয়। এই হেটে গেলে বিশ মিনিটের
মতো লাগে।
ফাকা শুনশান রাস্তা। কনকনে শীতে সব প্রাণী গা ঢাকা দিয়ে লুকিয়ে আছে।
চাঁদের আলো আকাশ ভেদ করে চারিপাশে ছড়িয়ে পরে কুয়াশার আবরণে মিলিয়ে গিয়ে সাদা মেঘের রূপ ধারণ করেছে।
ঝুমঝুমে এক পরিবেশ।
মনের মাঝে ভয় সাড়া দেওয়ায় হাটার স্প্রিড দ্বিগুণ করে দিলাম।
হাটতে হাটতে চলে এসেছি রিমিদের বাড়ির সামনে।
পকেট থেকে মোবাইলটা বেড় করে রিমিকে কল দিতে যাবো,আর ওমনি পেছন থেকে রিমি বলে উঠলো ভৌউ।
আমায় আর ধরে কে,ভয়ে বাচ্চাদের মতন চিৎকার করে উঠলাম।
আমার চিৎকার দেখে রিমি তখন ওর হাত দিয়ে আমার মুখ চেপে ধরলো।
কিছুক্ষন হাত সরিয়ে 2ভয় পেয়েছো?
এভাবে ভয় দেখানোর কোনো মানে হয়।
হিহিহি।
ধ্যাত,ডাকছো কেনো সেটা বলো।
পরে,আগে ভেতরে চলো।
এত্ত রাতে শ্বশুর-শাশুড়ি কি বলবে!
চুপিচুপি চলো।
আমারি ফায়দা দেখে,আর কিছু না বলে রিমির পিছু পিছু ওদের বাড়ির ভেতরে ঢুকলাম।
তারপর ওর রুমে গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরে খাটের ওপর লাফিয়ে পরলাম।
রিমি রেগে গিয়ে দিলো এক ঝাড়ি,এর কোনো মানে হয়।
আমিও অভিমান করে বললাম,ওহ্,স্যরি।
অভিমান করো কেনো,যদি পেটে ব্যথা পেতাম।
খাটের ওপর লাফিয়ে পরলে আবার কে ব্যথা পায়।
ও তুমি বুঝবানা।
বুঝিয়ে বলো।
আগে বলো চিল্লাচিল্লি করবানা।
ওকে বলো।
তুমি বাবা হতে চলেছো। বলেই শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বুকের মাঝে মুখ লুকালো।
আমি পরলাম মহা বিপদে,খুশিতে চিল্লাইতেও পারছিনা।
রিমি একটা কথা বলি।
হুম বলো।
দরজাটা আগে আটকে আসো তো।
হিহিহি,ওকে।
রিমি উঠে দরজা আটকানোর সাথেই সাথেই চিল্লানি দিয়ে রিমিকে কোলে তুলে নিলাম।
আফসুস দুই মিনিট বাদেই রুমের সামনে শ্বশুর-শাশুড়ি হাজির।
রিমিকে কোল থেকে নামিয়ে দিতেই বালিকা গিয়ে দরজা খুলে দিলো।
সিয়াম,তুমি কখন আসলে?(শ্বশুর)
জ্বি বাবা। একটু আগেই।(আমি)
কিছু খেয়েছো বাবা?(শাশুড়ি)
জ্বি আম্মা খেয়েছি।(আমি)
আচ্ছা বাবা তোমরা এখন ঘুমিয়ে পরো।(শাশুড়ি)
জ্বি আম্মা।(আমি)

খুশিতে দুই চোখে ঘুম উধাও,তাই রিমিকে সাথে করে ছাদে গেলাম।
রিমি।
হুম।
চাইলেও আমি তোমায় কখনো বড় কোনো উপহার দিতে পারিনি,তবে আজ তুমি যা চাইবে তাই দিবো।
আমার কাছে সবচেয়ে বড় উপহার তুমিই। ব্যস সারাজীবন এভাবে পাশে থেকে অনেক অনেক ভালবাসবা।

তারপর রিমির সাথে আরো কথা বলতে বলতে সকালের আযান দিয়ে দিলো।
ওই এখন চলো।
কোথায়?
নামাজ পড়তে যাবা।
বাসায় পড়ি?
মসজিদে যাবা।
ভয় করে।
আব্বুর সাথে যেও।
তাহলে সমস্যা নাই।
তাড়াতাড়ি ফ্রেস হয়ে শ্বশুড়ের এক্সট্রা পাঞ্জাবি পড়ে শ্বশুরের সাথে মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
চলার পথে শ্বশুর মশাই কিছু ইসলামিক ধারণা দিলো।
যেগুলো শুনলে সত্যি ফুরফুরা মনটা আরো তরতাজা করে দিতে যথেষ্ট।

অতঃপর নামাজ শেষ করে বাড়ি ফিরে দেখলাম রিমি কোরআন শরীফ তেলোয়াত করছে।
তাই বালিকাকে ডিস্টার্ব না করে ওর মিষ্টি শুরে কোরআন তেলোয়াত শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে গেলাম।
ঘুম ভাঙলো অফিসের মোবাইলের রিংটোনের শব্দে।
মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি অফিসের স্যারের কল রিছিভ করতেই।
সিয়াম কোথায় তুমি?
স্যার..শ্বশুর বাড়ি।
ওহ্,তারমানে আজ অফিসে আসবানা।
জ্বি স্যার আর আপনাদের সবার জন্য একটা খুশির খবর আছে।
কি খবর শুনি।
আমি বাবা হতে চলেছি।
ওয়াও,কনগ্রাচুলেশন।
ধন্যবাদ স্যার।
আর শুনো পনেরো দিনের ছুটি দিচ্ছি। বউয়ের পাশে থেকে খুব সেবা করো।
কি বলে যে ধন্যবাদ দিবো আপনায়,ইউ আর দ্যা বেষ্ট স্যার।
হাহাহা,হইছে এখন রাখি..বাই।
বাই স্যার।

কলটা কেটে দিয়ে ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখি ১১টা বাজে।
পাশে তাকিয়ে দেখলাম রিমি ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে আছে।
কে কল দিয়েছিলো?
অফিস থেকে।
আল্লাহ্,আফিসে যাবানা আজ?
নাহ্,তোমায় ভালবাসার জন্য অফিস থেকে পনেরো দিনের ছুটি দিছে।
সত্যি!
হুম
বলেই রিমিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম।

Please follow and like us:

Post Reads: 631 Views