ভালোবাসায় বিভোর

ভালবাসার গল্প
Razia Aktar Moni || 25 May, 2018 ! 3: 06 pm

পপি আর শুভর বিয়ে হয়েছে আজ কয়েকমাস হলো।
অবশ্য ভালোবেসেই তাদের বিয়ে হয়েছে।পরিবারেরও মত ছিলো তাতে।
পপি আর শুভ একই ভার্সিটিতে পড়তো।পপি ছিলো শুভর দুই ক্লাস জুনিয়র।অবশ্য পপি এখনো পড়াশুনা করছে,আর শুভ সরকারী চাকরী করে।ভালোই যাচ্ছে সবকিছু।
একদিন পপি হঠাত্‍ অসুস্থ হয়ে পড়ে।খুব জ্বর হয় তার।
সারাটাদিন শুভ অফিসে না গিয়ে পপির কাছে ছিলো।সন্ধ্যায় ঘুমিয়ে পড়ে পপি।
পপি ঘুম থেকে উঠার পর,
-কেমন লাগছে এখন?
>মোটামুটি
-সারাদিনতো কিছুই খাওনি।কিছু খাবে?
>পরে।
-পরে পরে করেতো আর খাচ্ছোনা।
>সত্যি পরে খাবো।
আমার একটা কাজ করবে?
-কি?
>কাল জীববিজ্ঞানের প্রেক্টিকেল দিতে হবে।আমি কিছুই করিনি।তুমি খাতাটা কমপ্লিট করতে পারবে?
>পারবো।তুমি এখন কিছু খেয়ে বিশ্রাম নাও।সকালে তোমার বান্ধবীকে খাতাটা দিয়ে দিও।
-আচ্ছা।
রাত ১০টা।শুভ পপিকে খাইয়ে দিয়ে তাকে ঘুম পাড়িয়ে দেয়।
রাত ১টা।পপির ঘুম হঠাত্‍ই ভেঙে যায়।সে শুভকে তার পাশে না পেয়ে রিডিং রুমে যায়।গিয়ে দেখে শুভ তার কাজটা করছে।
শুভর পাশে একটা ডায়েরীতে কিছু একটা লিখা আছে।সম্ভবত শুভ লিখার পর ডায়েরীটা বন্ধ করতে ভুলে যায়।লিখাটা প্রায় এরকম,
‘আমি আজ আমার মনের মানুষের জন্য রাত জেগে কিছু করছি।অবশ্য কখনো করিনি।যদিওবা রাত জাগতে খুব কষ্ট হয়,তবুও আজ কেনো যেনো কষ্ট হচ্ছেনা।তার জন্য সব করতে পারি আমি।খুব ভালোবাসি তাকে।Love you Popi’
পপি লেখাটা দেখে।তার চোখ থেকে একফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।
>সব করতে পারবে আমার জন্য?
-(ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে)তু..তু..তুমি?
>হ্যাঁ।সব করতে পারো আমার জন্য?
-(পপির হাতে হাত রেখে)হ্যাঁ।
>কতোটা ভালোবাসো আমায়?
-ঠিক যতোটা দরকার।অথবা তার চেয়ে আরো বেশি।তবে হ্যাঁ,এটুকু বলতে পারি যে,আমার ভালোবাসার সীমানা তুমি খুঁজে পাবেনা।রিয়েলি আইলাভিয়ু।
>আমিও তোমাকে খুব ভালোবাসি।
রাতে খেয়েছোতো?
-ইয়ে..মানে..না।পরে খাবো কাজটা সেরে।
>কি??এখনো খাওনি?উপোস করে আছো এখনো??আমাকে খাইয়ে নিজে উপোস করে আছো??(পপি বকা দিতেই থাকে)
শুভ কিছু বলছেনা।মিটিমিটি হাঁসছে।হঠাত্‍ই সে পপিকে কাছে টেনে নিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে তার কপালে একটি চুমু এঁকে দিয়ে বলে,’আইলাভিয়ু জান।’
পপি হালকা একটু লজ্জা পায়।
-তোমাকে রাগ করলে খুব সুন্দর লাগে।ইচ্ছে করে তোমাকে অনেক আদর করি,অনেক ভালোবাসা দিই।
>হুহ,এতই যখন আমায় ভালোবাসো তবে নিজের খেয়াল রাখোনা কেনো?তোমার কিছু হলে আমারইতো কষ্ট হবে।
-সরি জান।আর হবেনা।
>মনে থাকে যেনো।তুমি বসো আমি খাবার নিয়ে আসি।তোমাকে খাইয়ে দিবো আজ।
-তুমিতো অসুস্থ
>তাতে কি??তোমাকে খাইয়ে দিতে পারবো।
শুভকে নিজ হাতে খাইয়ে দিচ্ছে পপি।শুভ পপির দিকে তাকিয়ে আছে।
>কি দেখো এমন করে?
-তোমাকে
>আমাকেতো প্রতিদিনই দেখো
-আজ তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে
>তাই?
-হুম
>আর পাম মারা লাগবেনা।হুহ।নিজের খেয়ালতো রাখোইনা।আবার আমি বকা দিলে আসো পাম মারতে।খেয়ে আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দিবে কিন্তু।
-জ্বি মহারাণী।
শুভর কোলে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে পপি।শুভ তার মাথায় হাত বুলাচ্ছে।জানালার ফাঁক দিয়ে আসা চাঁদের হালকা আলোয় পপিকে আরো অপরূপা লাগছে।শুভ পপির মায়াবী চেহারার দিকে তাকিয়ে আছে অপলকভাবে।সে পপির মতো একজনকে পেয়ে নিজেকে খুব ভাগ্যবান ভাবে।
তার শুধু একটাই চাওয়া,’এই মধুর ভালোবাসা যেনো কখনোই না ফুরিয়ে যায়।’
আসলেই ভালোবাসার মানুষগুলো তাদের মতো হলে জীবনটা সত্যিই খুব সুন্দর হতো।
ভালো থাকুক তাদের ভালোবাসা।
(কাল্পনিক)
………………

Post Reads: 869 Views