রাঙা বৌ

ভালবাসার গল্প
Razia Aktar Moni || 30 May, 2018 ! 7: 46 pm

#রাঙা_‌বৌ
#১ম_২য়__পর্বঃ-

———আয়াতঃ কখ‌নো ভা‌বি‌নি অয়‌নি আমার বৌ হ‌বে? হওয়ার কথাও না। কারন আমি জা‌নি অয়‌নি এ বি‌য়ে‌তে রা‌জি না বা খু‌শিও না। কারন কোন মে‌য়েই তার দেবর তাও আবার তার থে‌কে বয়‌সে ছোট তার সা‌থে বি‌য়ে‌তে রা‌জি হ‌বে না।

হ্যা অয়‌নি আয়া‌তের ভা‌বি। আর অয়‌নি আয়া‌তের থে‌কে বয়‌সে প্রায় দু বছ‌রের বড়।

আয়া‌তের মনটা আজ মনটা ভা‌লো না‌কি খারাপ? আয়াত নি‌জেই বুঝ‌তে পার‌ছে না। আয়াত ভাব‌ছে কি নি‌য়ে আমি খু‌শি হ‌বো? যা‌কে দুবছর ধ‌রে ভা‌লোবা‌সি তাকে পে‌তে যা‌চ্ছি ব‌লে? না‌কি নি‌জের ভাইয়ের বৌ‌কে বি‌য়ে ক‌রে‌ছি ব‌লে দুঃখ প্রকাশ কর‌বো?
মাথাটা ঘুর‌ছে আয়া‌তের। ম‌নে হ‌চ্ছে পু‌রো পৃ‌থিবীটাই ঘুর‌ছে। নি‌জে নি‌জে কোন সিদ্ধান্ত নি‌তে পার‌ছে না।
যখন বি‌য়ে পড়া‌নো হ‌চ্ছিল। তখন আয়াত‌কে যখন কাজী কবুল বল‌তে ব‌লে‌ছি‌লো তখন কিছু সম‌য়ের জন্য আয়া‌তের মুখ থে‌কে ভাষা হা‌রি‌য়ে গি‌য়ে‌ছি‌লো। গলাটা শুাকি‌য়ে কাঠ হ‌য়ে যা‌চ্ছিল।

আয়াত ভাব‌ছে আমি অয়‌নি‌কে নি‌জের ক‌রে পে‌তে চে‌য়ে‌ছিলাম কিন্তু এভা‌বে কখ‌নো না। ‌কি থে‌কে কি হ‌য়ে গে‌লো?

——–কাজী আবারও বল‌ছে বুলন কবুল

——–খুব কষ্ট ক‌রে আয়াত নি‌জের মুখ থে‌কে কবুল শব্দটা বের কর‌লো। ম‌নে হ‌চ্ছে গলার ভিতর থে‌কে গলার কন্ঠনালীটা কেউ চে‌পে ধরে আছে।

আর এদি‌কে অয়‌নি কেঁ‌দেই যা‌চ্ছে। টানা দু ঘন্টা চেষ্টা ক‌রে সবার অনু‌রোধ করার পর অয়‌নি কব‌ুল বল‌লো। কবুল ব‌লেই অয়‌নি জ্ঞান হারা‌লো।

এ কেমন বি‌য়ে। এটা‌কে বি‌য়ে বা‌ড়ি না ব‌লে শোক সভা বলা যায়। বি‌য়ের হই হুল্লর এর তেমন কোন চিন্হ নাই। আত্নীয় স্বজন‌তো অনেক আছে কিন্তু কেউ যে‌নো ম‌নে শা‌ন্তি পা‌চ্ছে না। সবাই বি‌য়ে‌তে মন থে‌কে রা‌জি। কিন্তু কোথায় যে‌নো একটু নারা‌জি র‌য়ে‌ছে?

অয়‌নি‌কে শত চেষ্টা ক‌রেও সাজা‌নো যায়‌নি। সামান্য সু‌তির একটা থ্রি‌পিছ পরা। কেঁ‌দে কেঁ‌দে চোখ দু‌টো ফু‌লি‌য়ে ফে‌লে‌ছে। সুন্দর মানুষ কাঁদ‌লে না‌কি খুব বা‌জে লা‌গে। হ্যা অয়‌নি খুব সুন্দর। যে কেউ প্রথম দেখায় ওর প্রে‌মে প‌ড়ে যা‌বে। কাঁদার পর ওর চেহারা রক্তবর্ন ধারন ক‌রে‌ছে।

আয়াত সে সবার সাম‌নে চে‌য়েও কাঁদ‌তে পার‌ছে না। বা‌ড়ির বড়‌দের সা‌থে ব‌সে আছে। কি বল‌বে আজ যে ওর মু‌খের সব ভাষা হা‌রি‌য়ে গে‌ছে।
আয়াত এবার অনার্স চতুর্থ বর্ষ শেষ কর‌লো। আয়াতরা দুই ভাই। আকাশ আর আয়াত। অয়‌নি মূলত আকা‌শের স্ত্রী ছি‌লো। কিন্তু————- এখন অয়‌নি আয়াতের বৌ।

জীবন স‌ত্যি আমা‌দের সা‌থে এমন কিছু খেলা খে‌লে যে খেলা‌কে আমরা নি‌জের ইচ্ছায় না‌তো খেল‌তে পা‌রি? আর না পা‌রি খেলা থে‌কে বের হ‌য়ে আস‌তে? শুধু সে খেলার সা‌থে নি‌জে‌কে মা‌নি‌য়ে নেয়া ছাড়া বা ভা‌গ্যের হাতে ছে‌ড়ে দেয়া ছাড়া তখন কোন উপায় থা‌কে না।

আয়াত, আকাশ আর অয়‌নিও ভা‌গ্যের সে খেলার চ‌ক্রে চক্রবদ্ধ হ‌য়ে‌ছে। এখন না পার‌ছে খেলা‌কে বন্ধ কর‌তে , না পার‌ছে খেলা থে‌কে বের হ‌তে আর না পার‌ছে খেলায় জিত‌তে। স‌ত্যিই জীব‌নের গ‌তি‌বি‌ধি বড়ই আজব!

রাত প্রায় ১ টা। সবাই যে যার মত ঘু‌মি‌য়ে প‌ড়ে‌ছে। কিন্তু আয়াত এখ‌নো বাই‌রে বসে আছে। আর পাঁচটা বি‌য়ের মত এখা‌নে আয়া‌তের বন্ধুরা জোড় ক‌রে বাসর ঘ‌রে ঢ‌ুকি‌য়ে ‌দি‌চ্ছে না । বা আয়াতও বাসর ঘ‌রে যাবার জন্য তেমন কোন আগ্রহ নাই।

‌কিছুক্ষন পর আয়া‌তের বাবা এসে আয়া‌তের কাঁ‌ধে হাত রাখ‌লো।

আয়াতঃ কিছু বল‌বে বাবা?

বাবাঃ হ্যা।

আয়াতঃ ব‌লো।

বাবাঃ আমি জা‌নি তোর ম‌নের আবস্থা এখন কি? কিন্তু কতক্ষন এভা‌বে বাই‌রে দা‌ড়ি‌য়ে থাক‌বি? বৌ মা তোর জন্য ভিত‌রে ব‌সে আছে।

আয়াতঃ সেটা কি কখ‌নো সম্ভব বাবা? রাঙা বৌ যে আমার জন্য কখ‌নো অপেক্ষা ক‌রে থাক‌বে না সেটা আমরা সবাই খুব ভা‌লো ক‌রে জা‌নি।

অয়‌নি‌কে ওর শ্বশুর বা‌ড়ির সবাই রাঙা বৌ ব‌লে ডা‌কে। তার পিছ‌নে অবশ্য কারন আছে। যখন অয়‌নি বি‌য়ে ক‌রে এ বা‌ড়ি‌তে আস‌লো তখন ওর এক পি‌চ্ছি চাচা‌তো দেবর , বয়স সাত বছর সে অয়‌নি‌কে দে‌খে ব‌লে‌ছে এ যে পুতু‌লের মত দেখ‌তে রাঙা বৌ। আমার রাঙা ভা‌বি।

তখন থে‌কে বা‌ড়ির সবাই অয়‌নি‌কে রাঙা বৌ ডাক‌তো। আয়াতও সবার মত অয়‌নি‌কে রাঙা বৌ ডাক‌তো। কিন্তু আয়াত কখ‌নো অয়‌নি‌কে ভা‌বি ব‌লে ডা‌কে নি। তার কারনটা একটু পর জান‌বেন।

আয়া‌তের বাবাঃ তুই যা বল‌ছিস তা আমি খ‌ুব ভা‌লোভা‌বে বুঝ‌তে পার‌ছি। কিন্তু বাবা বিয়ে যখন হ‌য়ে গে‌ছে তখন পৃ‌থিবীর‌তো একটা নিয়ম আছে। ওকে তো তোর স্ত্রী এর মর্যাদা দি‌তেই।

আয়াতঃ বাবা স্ত্রীর অধিকার সে দেয় যার স্বামী হবার যোগ্যতা আছে । কিন্তু রাঙা বৌ এর বর হবার যোগ্যতা না‌তো আমার কখ‌নো ছি‌লো আর না আছে আর ভ‌বিষ্য‌তেও হ‌বে ব‌লে ম‌নে হয় না।
বাবা রাঙা বৌ এর ম‌নে বা জীব‌নে জায়গা নেবার কোন অধিকার আমার নাই। আর তাছাড়া রাঙা বৌ আমা‌কে কাগ‌জে কল‌মেই শুধু স্বামী মে‌নে‌ছে মন থে‌কে কখ‌নোই মান‌বে না।

বাবাঃ আল্লাহ তো‌দের কপা‌লে যা লি‌খে রে‌খে‌ছে তাই হ‌বে। তার ইচ্ছা অনুযায়ী সব হয়। তি‌নিই সবার ভাগ্য বিধাতা। দে‌খি তো‌দের কপা‌লে তি‌নি কি লি‌খে‌ছেন?

রাত প্রায় দু‌টো বা‌জে যা ভিত‌রে যা।

আয়াতঃ হুমম।

আয়াত ওর রু‌মে গে‌লো। ভিত‌রে ডু‌কে দে‌খে রুমটা একদম অন্ধকার। অয়‌নি বারান্দায় দা‌ড়ি‌য়ে আকাশ পা‌নে তা‌কি‌য়ে আছে।

আয়াত হালকা কা‌শি দি‌লো।

অয়‌নিঃ আয়াত তু‌মি আস‌ছো? কোথায় ছিলা এতক্ষন?

আয়াতঃ এইতো একটু বাই‌রে ছিলাম।

অয়‌নিঃ আচ্ছা আয়াত এমনটা‌তো হবার কথা ছি‌লো না? ত‌বে কেন এমন হলো?

আয়াতঃ বাবা বল‌লো জীব‌নে যা হয় সব না‌কি আল্লাহর ইচ্ছায় হয়।

অয়‌নিঃ কিন্তু এটা কেমন ইচ্ছা আয়াত?

আয়াতঃ জা‌নি না? হয়‌তো প‌ড়ে জান‌তে পার‌বো? তোমার এই প্র‌শ্নের উত্তরটা আমিও খু‌জে বেরা‌চ্ছি?

অয়‌নিঃ য‌দি কখ‌নো প্র‌শ্নের উত্তরটা পাও আমাকে জানাতে ভু‌লো না যে‌নো?

আয়াতঃ হুম।

অয়‌নিঃ দে‌খি তু‌মি ক‌বে পাও এ প্র‌শ্নের উত্তর?

আয়াতঃ আমিও সেই ক্ষ‌নের জন্য অধির আগ্র‌হে আছি। আচ্ছা রাঙা বৌ তু‌মি ঘু‌মি‌য়ে প‌ড়ো আমি অন্য রু‌মে যা‌চ্ছি।

অয়‌নিঃ আয়াত শোন?

আয়াতঃ হুম

অয়‌নিঃ কিছু ম‌নে না কর‌লে একটা কথা বল‌বো?

আয়াতঃ হ্যা ব‌লো?

অয়‌নিঃ আমি কি আকা‌শের রু‌মে গি‌য়ে থাক‌তে পা‌রি? না মা‌নে রুমটা ছে‌ড়ে অন্য রু‌মে কখ‌নো থা‌কি নি তো? অনেক স্মৃ‌তি জ‌ড়ি‌য়ে আছে।

আয়াতঃ রাঙা বৌ তু‌মি আমার স্ত্রী ব‌লে তু‌মি আমার কা‌ছে বাধ্য নও। তোমার যখন যা খু‌শি তুমি তাই কর‌তে পা‌রো। তু‌মি স্বাধীন। আমাদের সম্পর্ক কখ‌নো তোমার স্বাধীনতার মা‌ঝে আস‌বে না।

অয়‌নিঃ ধন্যবাদ।

তারপর আকা‌শের রু‌মে চ‌লে গে‌লো। আকা‌শের রু‌মে যাবার পর অয়‌নির দম যে‌নো বন্ধ হ‌য়ে আস‌ছি‌লো। নিঃশ্বাস নেয়ার জন্য বারান্দায় গে‌লো। বারান্দায় গি‌য়ে চিৎকার ক‌রে বল‌লো

আই হেট ইউ আকাশ
আই হেট ইউ

বাট আই স্টিল লাভ ইউ এ লট।

ব‌লে কান্নায় ভে‌ঙে পড়‌লো

আর আয়াত রু‌মে ব‌সে ————

চল‌বে————-

ভুলত্রু‌টি ক্ষমার চো‌খে দেখ‌বেন।

#রাঙা_‌বৌ

#সাথী______

#২য়_পর্বঃ-
————– আয়াত রু‌মে ব‌সে আছে। চোখ থে‌কে অঝোড় ধারায় জল ঝড়‌ছে। আর বল‌ছে—

আজ নি‌জে‌কে বড্ড দোষী ম‌নে হ‌চ্ছে? ঘৃনা হ‌চ্ছে নি‌জের উপর। সবাই ব‌লে কাউ‌কে য‌দি স‌ত্যিকা‌রের ভা‌লোবা‌সো তাহ‌লে তা‌কে তু‌মি পা‌বে। আমার ভা‌লোবাসায় স‌ত্যিই কি এতটা সত্যতা ছি‌লো যে আমি অয়‌নি‌কে পে‌য়ে গেলাম।
হ্যা আমি অয়‌নি‌কে অনেক আগে থে‌কে ভা‌লোবাসতাম কিন্তু সে ভা‌লোবাসাটা‌কে আমি আমার বাইরে কখ‌নো যে‌তে দেই নি। কিন্তু কথায় আছেনা যেটা হবার সেটা হ‌বেই।
‌আজ আকাশ ভাই‌কে ডে‌কে অনেক কথা শুনাতে ইচ্ছা কর‌তে‌ছে। কিন্তু সেটা‌ কি আদৌ সম্ভব? কখ‌নো য‌দি আকাশ ভাইয়ার সা‌থে দেখা হয় তাহ‌লে তা‌র কা‌ছে একটা কথা জান‌তে চাই‌বো কেন সে অয়‌নির মত সুন্দর মে‌য়ের সুন্দর জীবনটা নষ্ট ক‌রে দি‌লো?

নাহ আপনারা যা ভাব‌ছেন তা নয়? আকাশ মারা যায়‌নি। বেঁ‌চে আছে আকাশ । কিন্তু কোথায় তা বর্তমা‌নে আমরা জা‌নি না?
ত‌বে আকাশ ভাইয়া‌তো চ‌লে গে‌ছে সা‌থে রাঙা বৌ এর জীবনটা‌কে তছনছ ক‌রে দি‌য়ে গে‌ছে। আকাশ ভাইয়ার অন্যায়টা‌কে আমরা কেউ ক্ষমা কর‌তে না পার‌লেও রাঙা বৌ সেটা ক‌রে‌ছে। এবং সেই ভাইয়া‌কে ব‌লে‌ছে যা‌তে সে খু‌শি থা‌কে সেটাই যে‌নো ক‌রে। কারন সে আকাশ ভাইয়া‌কে পাগ‌লের মত ভা‌লোবা‌সে।

আকাশ ভাইয়ার অন্যায়টা ছি‌লো———

——–অায়াত আয়াত

অয়‌নির ডা‌কে আয়া‌তের ভাবনায় ছেদ পড়‌লো।

আয়াতঃ রাঙা বৌ তু‌মি এত রা‌তে? সব ঠিক আছে তো?

অয়‌নিঃ হ্যা সব ঠিক আছে।( একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছে‌ড়ে।)

আয়াতঃ আমিও পাগ‌লের মত প্রশ্ন কর‌তে‌ছি। তু‌মি ঠিক কেমন আছো তা আমার থে‌কে ভা‌লো কে জান‌বে?

অয়‌নিঃ কয়টা বা‌জে আয়াত?

আয়াত ঘ‌ড়ির দি‌কে তা‌কি‌য়ে বল‌লো ৩:৩০ ।

অয়‌নিঃ ওহ।

আয়াতঃ কি বলবা ব‌লো? কারন এত রা‌তে তু‌মি আমার কা‌ছে সময় জান‌তে যে আসো‌নি তা আমি খুব ভা‌লো ক‌রে জা‌নি। ব‌লো কি বলবা?

অয়‌নিঃ আমা‌কে একটু ছা‌দে নিয়া যাবা? রাত অনেক তো । তাই একা যে‌তে সাহস হ‌চ্ছে না।

আয়াতঃ হুম চ‌লো?

অয়‌নি আর আয়াত আস্তে আস্তে ছা‌দে গে‌লো।

নাহ আজ আকাশে চাঁদ নেই। কারন রাতের শেষ ভা‌গে চাঁ‌দের আলোটা ধী‌মি হ‌য়ে যায়। আজ ওদের ম‌নের আকা‌শের মত আকা‌শের বুকটাও ঘন মে‌ঘে ঢাকা।
বা‌ল্বের আলোয় ছাদটা আলো‌কিত।

আয়াতঃ আকা‌শে তো অনেক ‌মেঘ? বৃ‌ষ্টি হ‌তে পা‌রে? নি‌চে চ‌লো।

অয়‌নিঃ মেঘ দেখ‌তেই তো এলাম কারন আমি ঐ প‌রিষ্কার আকাশটা‌কে আর দেখ‌তে চাই না। যে আকা‌শে মানুষ স্বপ্ন বু‌নে সে নীল আকাশ আমি আর দেখ‌তে চাই না।
আজ আকা‌শের মেঘ গু‌লো অসম্ভব সুন্দর লাগ‌ছে কারন মেঘটা আকা‌শের নীল রংটা আর চাঁ‌দের চাঁদনী দু‌টোকেই ঢে‌কে দি‌য়ে‌ছে। তাই মেঘ দেখ‌তে এলাম।
আচ্ছা আকাশটা‌কি পা‌রে না সবসময় এরকম মেঘলা থাক‌তে?

আয়াতঃ না!

অয়‌নিঃ কেন?

আয়াতঃ তাহ‌লে যে সবাই আকা‌শের নীল, চাঁ‌দের চাঁদনী থে‌কে ব‌ঞ্চিত হ‌বে?

অয়‌নিঃ আকাশটা যে বড্ড ছলনাময়। কখ‌নো একা থাক‌তে পা‌রে না। কখ‌নো তার সূর্যের আলো চাই কখ‌নো বা মে‌ঘের নীল চাই আবার কখ‌নো চাঁ‌দের চাঁদনী।

আয়াতঃ আকাশ এরকম রূপ আমা‌দের জন্যই তো ধারন ক‌রে?

অয়‌নিঃ সত্যি কি তাই?

আয়াতঃ মা‌টির আকা‌শের সা‌থে কখ‌নো ঐ বিশাল আকা‌শের তুলনা ক‌রো না। হিসাব মিলা‌তে পার‌বে না?

অয়‌নিঃ জীব‌নের হিসাবটাই যে গড়‌মিল হ‌য়ে গে‌ছে? তাহ‌লে অন্য হিসাব মি‌লি‌য়ে কি লাভ?

আচ্ছা আয়াত তোমার কি আমা‌দের বি‌য়ের কথা ম‌নে আছে?

আয়াতঃ হ্যা আছে কেন?

অয়‌নিঃ তু‌মি তো আমাকে আমার বি‌য়ের দিন প্রথম দে‌খে‌ছি‌লে তাই না?

আয়াত ম‌নে ম‌নে বল‌লো না। আর অয়‌নি‌কে বল‌লো হ্যা।

অয়‌নিঃ র‌ঙিন কাগ‌জে মোড়া আমার জীব‌নের সব চে‌য়ে সুন্দর স্মৃ‌তি। আজ সেই র‌ঙিন কাগজটাই চো‌খের জ‌লে ধু‌য়ে মু‌ছে রংহীন হ‌য়ে গে‌ছে।

আয়াতঃ রং হীন কাগ‌জে কিন্তু আবার রং তু‌লি দি‌য়ে ম‌নের মত ক‌রে আঁকা যায়।

অয়‌নি আয়া‌তের দি‌কে কিছুক্ষন নীরব দৃ‌ষ্টি‌তে তা‌কি‌য়ে রইল। ম‌নে হ‌চ্ছে দুজনার দৃষ্টি দুজন‌কে কত কথা বল‌ছে। কিন্তু সে কথা গু‌লো যে অজানা। এর ম‌ধ্যেই বৃ‌ষ্টি শুরু হ‌লো।

আয়াতঃ বৃ‌ষ্টি শুরু হ‌য়ে‌ছে। চ‌লো ভিত‌রে চ‌লো।

অয়‌নিঃ কিছুক্ষন ভিজ‌তে দাও। আজ বৃ‌ষ্টির প‌বিত্র জল আমার জীব‌নের সকল অপ‌বিত্রতা‌কে ধু‌য়ে নি‌য়ে যাক।

আয়াতঃ তোমার নি‌জের খেয়াল না থাক‌তে পা‌রে কিন্তু তু‌মি——

অয়‌নিঃ তু‌মি যেটা ভাব‌ছো সেটা ভুল মিথ্যা।

আয়াতঃ মা‌নে?

অয়‌নিঃ স‌ত্যিটা কাল‌ তু‌মি তোমার মা‌য়ের কাছ থে‌কে জে‌নে নিও।

আয়াত অনেকটা ঘো‌রের ম‌ধ্যে পড়‌লো। তারপরও অয়‌নির হাত ধ‌রে অয়‌নি‌কে নি‌চে নামা‌লো তারপর বল‌লো——-

আয়াতঃ কাপড় বদ‌লে শু‌য়ে পড়বা। রাত প্রায় শেষ শেষ। একদম পাগলা‌মী করবা না।

তারপর নি‌জের রু‌মে গি‌য়ে অয়‌নির বলা কথাটা ভাব‌তে লাগ‌লো।
এতক্ষনতো আয়াত আর অয়‌নির কথা হ‌লো এখন আকা‌শের কথা ব‌লি।

আকাশ আর অয়‌নির বি‌য়ে হ‌য়ে‌ছে আজ এক বছর। আজ আকাশ আর অয়‌নির বিবাহ বা‌র্ষি‌কি ছি‌লো। আর আজই আয়াত আর অয়‌নির বি‌য়ে হ‌লো। কি আজব ব্যাপার! কিন্তু কেন?
আকাশ তখন ওর বাবার ব্যবসা দেখাশুনার পাশাপা‌শি নি‌জেও একটা ব্যবসা শুরু ক‌রে‌ছি‌লো।
অয়‌নি তখন মাস্টার্স শেষ ক‌রে। আর আয়াত কেবল অনার্স চতুর্থ ব‌র্ষে উঠে‌ছে।
অয়‌নি আর আকা‌শের বি‌য়েটা হ‌য়ে‌ছি‌লো পা‌রিবা‌রিক ভা‌বে। কিন্তু ভা‌লোবাসার কোন কম‌তি ছি‌লো না ওদের মা‌ঝে। দুজন দুজন‌কে অনেক ভা‌লোবাস‌তো।

আপনারা নিশ্চই ভাব‌ছেন তাহ‌লে আয়াত কিভা‌বে অয়‌নি‌কে আগে থে‌কে ভা‌লোবা‌সে? সেটা একটু পর জান‌তে পার‌বেন।

খ‌ুব খুব সু‌খে কাট‌তে‌ছি‌লো ওদের জীবন। টোনাটু‌নির মত সংসার ওদের। আকা‌শের প‌রিবা‌রের লোকও সবাই খ‌ুব খুব ভা‌লো। আকাশ অয়‌নির খুব খেয়াল রাখ‌তো। ভা‌লো‌বে‌সে অয়‌নি‌কে রাঙা পরী ব‌লে ডাক‌তো।

অয়‌নিঃ আচ্ছা আকাশ সবাই‌তো আমাকে রাঙা বৌ ডা‌কে তাহ‌লে তুমি কেন আমাকে রাঙা পরী ব‌লে ডা‌কো?

আকাশঃ সবার সা‌থে কি আমার যায় মাই লাভ?

অয়‌নিঃ স‌ত্যিই তোমাকে পে‌য়ে আমি ভাগ্যবতী।

‌এত ভা‌লোবাসার সংসার আকা‌শের একটা ভুল সিদ্ধা‌ন্তে তছনছ হ‌য়ে গে‌লো।

বদ‌লে গে‌লো তিন জ‌নের জীব‌নে চলার মোড়——– বদ‌লে গে‌লো সব সম্পর্ক।

নাহ আকাশ মারা যায়‌নি। আকাশ এখ‌নো বেঁ‌চে আছে কিন্তু কোথায়———?

আর আকা‌শের মা ই বা কি লু‌কি‌য়ে‌ছি‌লো আয়া‌তের কাছ থে‌কে?———

আর আয়াত কেন অয়‌নি‌কে এত ভা‌লোবা‌সে আর ক‌বে থে‌কে?———–

Please follow and like us:

Post Reads: 631 Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 + 18 =