রিলেশনশিপ উইথ কেমিস্ট্রি ম্যাডাম

ভালবাসার গল্প
Imran Khan || 26 June, 2018 ! 8: 45 am

গল্পঃ রিলেশনশিপ উইথ কেমিস্ট্রি
ম্যাডাম
লেখা: মো: জিকরুল ইসলাম রাকিব

এস.এস.সি দেওয়ার পর এলাকার
কলেজেই
ভর্তি হয়ে গেলাম। শরের পরিবেশ
এবং
হোস্টেলে
থেকে পড়া আমার জন্য একদম
বেমানান। তাই
ভর্তি হলাম ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি
কলেজে। ২
মাস পর কলেজে গেলাম। নতুন বলতে
আমিই,
আর পুরান বলতে সবাই। কলেজে
যাওয়ার সময়
মামাতো ভাই বলে বসলো যা
কলেজে যা
তবে
স্মার্ট মেয়ে টেয়ে পাইলে মিস
করিস না
কিন্তু।
কমপক্ষে বন্ধুত্বটা করিস। অতঃপর খুব
উত্তেজনা
নিয়ে কলেজে গেলাম, কাউরের
চিনিনা।
কেউ
আমারে ও চিনিনা। মাথাটারে
রোবট স্টাইল
করে
ক্লাশের সব মেয়ে ছেলেদের দিকে
একবারের জন্য
তাকালাম। ২ ৩ টা ছেলে ছাড়া
বাকি সব
বখাতে।
মেয়েগো ক্ষেত্রে ও তাই। দ্যাট মিন
আমার
চোক্ষে
সুন্দরি নয়।
.
ক্লাশে হাভাগোজা ছেলের মত বসে
রইলাম।
মাঝেমধ্যে
২ একজন ছেলের সাথে পরিচিত হয়ে
নিলাম।
তো ২য়
ঘন্টায় আসলেন কেমিস্ট্রি ম্যাডাম।
হাজিরা
ডাকা শুরু
করলেন। ৬০৩ ডাকতেই আমি হাজিরা
দিলাম।
ইয়েস ম্যাম বলেই বসে পড়লাম।
ম্যামঃ এই যে মিঃ একটু দাঁড়ান তো
প্লিজ…….
আমিঃ ম্যাম আমাকে বলছেন?
ম্যামঃ জ্বি আপনাকে…….
.
আমি একটু নার্ভাস হয়ে দাঁড়ালাম……….
.
ম্যামঃ কি নাম আপনার?
আমিঃ শাহীন আলম……….
ম্যামঃ কি করেন আপনি?
আমিঃ পড়ালেখা করি।
ম্যামঃ আপনি যেহেতু পড়ালেখা
করেন,
তাহলে
এতোদিন কোথায় ছিলেন?
আমিঃ একটু প্রবলেম ছিলো ম্যাম।
ম্যামঃ কি প্রবলেম জানতে পারি?
আমিঃ একটু সিক্রেট।
ম্যামঃ ওহ বুঝছি, এই বয়সে আপনাদের
কি
আর প্রবলেম থাকতে পারে। এখন
থেকে
নিয়মিত
আসবেন তো????????
আমিঃ জ্বি ম্যাম।
ম্যামঃ আচ্ছা বসেন।
.
ম্যাডাম ক্লাশ থেকে যেতেই ভাবতে
লাগলাম।
যাক শালার, কলেজে সুন্দরি মেয়ে
নাই তো
কি হয়েছে সুন্দরী ম্যাডাম তো আছে।
ম্যাডাম
দেখে আমি ভাবতে লাগলাম উনি
হয়তো
ডিগ্রির
কোনো আপু হবেন। বাট উনি ম্যাডাম ই
৩ বছর
ধরে চাকরি করছেন। উনাকে দেখে
একদম
ম্যাডাম
মনেই হয়না। উনি অনেক ইয়াং, স্মার্ট
এবং
সুন্দরী।
আমার
দৃষ্টিতে বয়স সর্বোচ্চ ২৩ ২৪ হবে এর
বেশি
না।
.
পরের দিন ক্লাশে যেতে একটু দেরি
হয়ে
যায়।
গিয়ে দেখি সেই সুন্দরি ম্যাডামের
ক্লাশ
চলতেছে।
দরজায় দাঁড়িয়ে আমি- মে আই
কামিং
ম্যাম????
ম্যাডামঃ কামিং। লেট কেন?????
আমিঃ আসতে একটু দেরি হয়েগেছে
ম্যাম।
ম্যাডামঃ জ্বি না, আসতে মোটেও
দেরি
হয়না
বরং ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি হইছে।
আমি কিছু বললাম না জাস্ট মাথা
নাড়লাম।
.
ম্যাডামঃ যাও বসো।
.
অতঃপর ভদ্র ছেলের মত বসে
ম্যাডামের
লেকচার
শুনতে লাগলাম। ওহ সরি সুন্দরি
ম্যাডামের
লেকচার
আর শুনে কে বরং উনাকেই দেখতে
লাগলাম।
আর ম্যাডাম ও বুঝলেন যে আমি
উনাকেই
দেখছি।
তা বুঝতে পেরে উনি বললেন হা করে
না
তাকিয়ে
থেকে বইয়ের দিকে তাকাও। বাট এই
কথা
কাকে
ম্যানশন করে বললেন কে
জানে???????????
????
দূর আমি ম্যাডাম কেই দেখতে
লাগলাম।
ম্যাডাম
বুঝতে পেরে আর কোনো উপায় না
পেয়ে
বলে
বসলেন সবাই বইয়ের এতো নং পৃষ্ঠা
দেখো।
কি আর করবো বাধ্য হয়ে বইয়ের পৃষ্ঠার
দিকেই
তাকালাম। কারন ম্যাডামের দিকে
তাকিয়ে
থাকায়
উনি হয়তো একটু বিরক্তই হয়েছেন।
.
বাড়িতে এসে ভাবতে লাগলাম উনি
এত্ত
ইয়াং বয়সে
এতো বড় একটা কলেজে চাকরি
পেলেন কি
করে…..
তার উপর যেমন ব্রিলিয়েন্ট তেমন ই
সুন্দরী।
পোলাপাইন তো উনার ক্লাশে হা
করে
তাকিয়ে থাকে।
২, ৪ দিন ক্লাশ করে কমপক্ষে এই
অভিজ্ঞতাটা আমার
হইয়াছে।
.
একটা সময় ম্যাডাম কে অনেক ভালো
লেগে
যায়
আমার। অনেকটা সামথিং সামথিং।
আর আমার একটা প্রবলেম হলো আমি
আমার সমবয়সীদের চাইতে আমার
থেকে ৪ ৫
বছরের বড় মেয়েদের প্রতি
ইন্টারেস্টেড।
তাই
হয়তো ম্যাডামের উপর আমার এই
ফিলিংস।
মনে মনে ভাবতে লাগলাম
ম্যাডামের ফেসবুক
আইডি
যদি পেতাম তাহলে কি ভালোই না
হতো।
কিন্তু
কিভাবে ম্যাডাম কে পাবো। উনার
নাম ই
তো
জানি না।
আর ফেসবুক ইউজ করেন কি না তা ও তো
ভাবনার
বিষয়। পরে কাস্টম থেকে লোকেশন
ইন্সাইডে
গিয়ে
কলেজের নাম সার্চ করে উনার
আইডিটা
পেয়ে গেলাম।
মেহরিন জাহান কেমিস্ট্রি টিচার
এট
ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু
ডিগ্রি
কলেজ লিখা দেখে আমার আর বুঝতে
বাকি
রইলো না
যে এটাই আমাদের সুন্দরি ম্যাডাম।
.
সাথে সাথে দিলাম রিকুয়েস্ট। ২দিন
হয়ে
গেলো বাট
ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট এক্সপেক্ট করে নাই।
নিজের কাছে
খুব খারাপ লাগলো। ম্যাডাম হয়তো
আমাকে
চিনতে
পেরে আমার রিকুয়েস্ট এক্সপেক্ট
করেন
নাই। কিন্তু
আমার চিন্তা নিতান্তই ভুল তিন
দিনের
মাথায় ম্যাডাম।
রিকুয়েস্ট এক্সপেক্ট করলেন। কিন্তু
উনার
আইডিতে
উনার কোনো পিক নেই। ভাবলাম নক
দিবো
কিনা।
অনেক ভেবে নক দিয়েই বসলাম। হাই
আপি……….
মেহরিন ম্যাডাম সিন করলেন বাট
রিপ্লাই
দিলেন না।
খুব রাগ হচ্ছিলো ভাবলাম ব্লক করে
দেই।
আবার
ভাবলাম না এটাতো মোটেও করা
যাবেনা
কারন
আমার ক্রাশ তো উনিই।
.
২ দিন পর আবার ম্যাসেজ দিলাম
.
আমিঃ হাই আপি কেমন আছো?
ম্যামঃ জ্বি ভালো। তুমি?????
আমিঃ কি করতেছেন???????????
ম্যামঃ না কিছুনা তো।
আমিঃ ও আচ্ছা।
.
যদিও উনি আমাদের মেহরিন ম্যাডাম
তবুও
ফেসবুকে না চিনার বান করে আপুই
বললাম।
.
৩ দিন পর
.
আমিঃ হাই আপি, কেমন আছো?
ম্যামঃ ভালো, তুমি?????
আমিঃ হুম ভালো।
ম্যামঃ হুম।
আমিঃ বয়ফ্রেন্ড আছে আপনার?
ম্যামঃ মানে কি?????
আমিঃ আচ্ছা আপনি কি সিঙ্গেল?
ম্যামঃ তা জেনে তোমার লাভ কি?
আমিঃ নেই বাট এমনিই। প্লিজ বলেন
না।
ম্যামঃ তোমার কি চোখ নেই নাকি?
আমার প্রোফাইল দেখোনা????????
আমিঃ দেখছি বাট, ফেসবুকে তো
মেরিড রা

সিঙ্গেল লিখে তাই।
ম্যামঃ ও আচ্ছা। বাট আমি নই।
.
মেহরিন ম্যাম ও আমাকে চিনতে
পারেনি
কারন
আমার আইডিতেও আমি পিক দেইনি।
আর ওই
আইডি টা জাস্ট ম্যাডামের সাথে
চ্যাটিং
এর জন্যই
খুলেছি।
.
৪ দিন পর
.
ম্যামঃ হাই
আমিঃ হ্যালো।
ম্যামঃ ভালো আছো?
আমিঃ হুম ভালো, আপনি?
ম্যামঃ এইতো ভালো।
আমিঃ ডিনার করছেন?
ম্যামঃ না….. তুমি।
আমিঃ করলাম একটু আগে……..
ম্যামঃ কিসে পড় তুমি?
আমিঃ অনার্স থার্ড ইয়ার।
ম্যামঃ আইডি তে পিক দাও নি কেন?
আমিঃ এমনি ভালো লাগে না……
আপনি দেন নি কেন?????
ম্যামঃ আমার ও ভালো লাগেনা।
আমিঃ ও তাই বুঝি………….
ম্যামঃ প্রেম টেম কিছু করো?
আমিঃ কেন বলেন তো??????
ম্যামঃ এমনি, অনার্সে পড় তাই
জিজ্ঞেস
করলাম।
আমিঃ নাহ করিনা……..
.
এভাবে মেহরিন ম্যাডামের সাথে
আমার
বেশ ভালো
একটা বন্ধুত্ব হয়ে গেছে। উনি আমার
সাথে
সব
শেয়ার করতেন ভালো লাগা না
লাগা। এবং
উনি
আমাকে তার সমবয়সী ভেবে অনেজ
ফ্রিলি
কথা
বলতেন। যদিও আমি জানতাম যে উনি
আমার
ম্যাডাম।
বাট উনি কখনো জানতেন না যে আমি
উনারি
ছাত্র।
আমি যদিও ইন্টার ফ্রার্স্ট ইয়ারে পড়ি
বাট
উনাকে বলেছি অনার্সে পড়ি। সব
মিলিয়ে
আমারো টেনশন হতে লাগলো।
যদি উনি কখনো যেনে যান যে আমি
মিথ্যা
পরিচয়ে
উনার সাথে চ্যাটিং করি। সেদিন
কি
হবে……………..
.
এভাবে রাতারাতি ম্যাডামের
সাথে আমার
চ্যাটিং হতো।
.
কিছুদিন পর
.
আমিঃ হাই কেমন আছেন?????
ম্যামঃ ভালো, তুমি????
আমিঃ এইতো ভালো।
ম্যামঃ আচ্ছা জানো আমার ক্লাশের
একটা
স্টুডেন্ট
খালি আমার দিকে ফ্যালফ্যাল
দৃষ্টিতে
তাকিয়ে থাকে।
আমিঃ ও মনে হয় আপনাকে লাইক
করে………..
ম্যামঃ ধুর কি বলো, আমি তো ওর
টিচার।
আমিঃ আমি তাই বলে কি লাইক
করতে
পারেনা।
ম্যামঃ সেটা ও ঠিক…………
আমিঃ ও প্রেম করতে চায় আপনার
সাথে
তাই হয়তো
এভাবে তাকিয়ে থাকে………….
ম্যামঃ ধুর কি যে বলো তা হবে
কেনো????
আমিঃ হাসির ইমো দিলাম।
মেহরিন ম্যাডামঃ আচ্ছা তোমার
একটা ফটো
দিবা?
যদি কিছু মনে না করো। তোমাকে
দেখতে
খুব ইচ্ছে করছে আমার……….
.
আমার মাথা তো পুরা হিট এটা কি
বলে……..
যদি পিক দেই কি হবে তখন? যদিও
ম্যাডামের
আইডিতে পিক ছিলোনা। তবুও আমি
পিক
চাইনি।
কারন আমিতো উনার সাথে মিথ্যা
পরিচয়ে
চ্যাট
করতেছি। সো আমি যদি পিক চাই
উনিও
আমার
পিক চাইবেন। বাট আমি না চাইলেও
উনি
আজ
ঠিকি চেয়ে বসলেন। আবশেষে আমি
সিদ্ধান্ত নিলাম
যে আমি ম্যাডাম কে আমার পিক
দিবো যা
হবার
হোক। কারন পিক দিলে একটু প্রবলেম
হলেও
ম্যামের সাথে আমার রিলেশন টা আর
একটু
ইজি
হবে। কিচ্ছুক্ষণ পর ম্যাডামের
ম্যাসেজ…….
.
ম্যাডামঃ কি হলো পিক দাও……….
আমি আমার পিক সেন্ড করে দিলাম!!!
ম্যাডামঃ ছিঃ তুমি আমার সাথে
এটা করতে
পারলে। আমি তো তোমাকে অনেক
ভালো
জানতাম।
এটা বলেই ব্লক করে দিলো
আমাকে……….
…..
.
পরের দিন ক্লাশে গেলাম। ম্যাম
ক্লাশ
নিচ্ছেন
কিন্তু আমি প্রতিনিয়ত যদিও ক্লাশের
সামনে
দিয়ে মানে ম্যামের সামনে দিয়ে
ঢুকতাম।
বাট
আজকে ক্লাশের পিছন দিক দিয়ে
ঢুকলাম।
ঢুকে চোরের মত বসে পড়লাম। আজ
ম্যামের
দিকে তাকালাম না। কোনো দিকেই
না। এক
দৃষ্টিতে বেঞ্চের দিকে তাকিয়ে
রইলাম।
.
কিচ্ছুক্ষণ পর ম্যাডাম ব্লাকবোর্ডে
একটা
সমীকরণ
তুলে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন।
এই তুমি
দাড়াও। আমি ভয়ে ভয়ে দাঁড়ালাম।
কাল এটা
পড়ে আসতে বলেছিলাম পড়েছো? এখন
বলো
আমারা কিভাবে এর প্রমান করতে
পারি যে
সমীকরণ
টি সিদ্ধ। আমি চুপ করে রইলাম কিচ্ছু
বললাম
না।
তার মানে কাল তুমি বই ধরোই না।
আর রাতে কি করো চোখ এতো লাল
কেন?
কাল
রাতে আমি বই আর ধরবো কি আমি তো
ম্যাডামের
সাথে চ্যাটিং এ ব্যাস্ত ছিলাম। আর
এটা
উনিও জানেন।
তবুও শুধু শুধু কেন জিজ্ঞেস করছেন উনিই
ভালো
জানেন।
ম্যামঃ নেক্সট টাইম পড়া না দিতে
পারলে
কিন্তু
কান ধরে দাড় করিয়ে রাখবো। বসো।
.
৫ দিন পর
.
মেহরিন ম্যাডামের ম্যাসেজ………
ম্যামঃ ওই ছেলে……….. আছো তুমি?
আমিঃ সরি ম্যাম।
ম্যামঃ সরি কেন?
আমিঃ আপনার সাথে এমন করার জন্য।
ম্যামঃ কি রকম…
আমিঃ আসলে আমি জানতাম না এটা
আপনার
আইডি।
ম্যামঃ মিথ্যা বলবানা একদম। আমি
জানি
তুমি জেনে বুঝে আমাকে চিনেই এরকম
করেছো।
.
আমি চুপ করে রইলাম…………
.
ম্যামঃ কিছু বলছো না যে
আমিঃ সরি
ম্যামঃ ইটস ওকে।
.
ম্যাডামের ইটস ওকে শুনে আমার মনতো
খুশিতে নাচতে লাগলো। ম্যাডাম
মাইন্ড না
করে বরং সব কিছু এত্ত সহজে নিলেন
কেন?
কে জানে…………. তাই আমি আরো
সাহস
পেয়ে গেলাম।
আমিঃ থ্যাংক ইউ ম্যাম।
ম্যামঃ তোমাকে ব্লক দিছিলাম।
বাট ব্লকে
রাখতে পারলাম না।
আমিঃ কেন?
ম্যামঃ জানিনা।
আমিঃ কি জানেন?
ম্যামঃ আগে বলো, ক্লাশে আমার
দিকে
এভাবে চেয়ে থাকো কেন?
আমিঃ ভালো লাগে তাই।
ম্যামঃ কাকে ভালো লাগে?
আমিঃ আপনাকে………..
ম্যামঃ বলো কি? কবে থেকে?
আমিঃ সেই প্রথম দিন থেকে……
ম্যামঃ আর???????
আমিঃ কিছুনা………..
ম্যামঃ কিছুই না?
আমিঃ ভালোবাসি আপনাকে…………
ম্যামঃ সত্যি তো?????
আমিঃ জ্বি…………………
ম্যামঃ আমাকে তুমি বলবা ওকে?
আমিঃ না আমি ম্যাম বলবো………
ম্যামঃ ওকে তোমার যা ইচ্ছা বলো।
তবে আপনি বলতে পারবা না।
.
কাল ক্লাশে ইচ্ছে করে ম্যামের
দিকে
অনেক্ষন
তাকিয়ে রইলাম। ম্যাম কিছু বললেন
না।
জাস্ট
একটু মুচকি হাসলেন। ক্লাশ শেষে,
ম্যামের
ডাক
এই ফাজিল ছেলে একটু এদিকে এসো
তো……..
আমিঃ জ্বি ম্যাম বলেন…………
ম্যাম চুলে বিলি কেটে দিয়ে বললো
ওদিকে চলো।
ম্যামঃ আমার দিকে এভাবে
হা করে থাকো কেন?
আমিঃ তাতে কি? আমার ভালো
লাগে তাই।
ম্যামঃ কিন্তু আমার যে লজ্জা
লাগে…….
আমিঃ কেন বলেন তো???????
ম্যামঃ তোমাকে না আপনি বলতে
মানা
করছি।
আমিঃ ওকে তুমি……..
ম্যামঃ এইতো লক্ষি ছেলে……..
.
পরের দিন টিউটোরিয়াল এক্সাম
ছিলো।
তাও সুন্দরী ম্যাডামের কেমিস্ট্রি।
এক্সাম
দিলাম কিন্তু ভালো হয়নি তাই।
তারপর
থেকে ৪ দিন কলেজে আসিনাই।
.
ম্যামের ম্যাসেজ……………
.
ম্যামঃ কেমন আছো?????
আমিঃ ভালো না
ম্যামঃ কি হইছে
আমিঃ জ্বর উঠছে………….
ম্যামঃ মানে কি?
আমিঃ প্রেমের জ্বর।
ম্যামঃ ধুর ফাজিল।
আমিঃ হাসির ইমো দিলাম।
ম্যামঃ কেমিস্ট্রি তে ফেইল আসলো
ক্যান?
আমিঃ ইহ যখন পড়ার সময়, তখন তো
তোমার
সাথে চ্যাটিং করছিলাম। ফেইল তো
আসবেই।
ম্যামঃ নিজে তো বই ধরোই না, এখন
আমার
দোষ?
আমিঃ ওকে ব্যাপার না, তুমি আছো
না।
ম্যামঃ আমি আর কতোদিন, এইচ.এস.সি
বোর্ডে
তো আর আমি থাকবো না।
আমিঃ বাদ দাও, সেটা দেখা
যাবেনি।
ম্যামঃ ওই শুনো, কাল থেকে আমার
বাসায়
পড়তে আসবা। ঠিক আছে?
আমিঃ আচ্ছা।
ম্যামঃ মনে থাকে যেনো।
.
২ দিন পর ম্যামের বাসায় কেমিস্ট্রি
পড়তে
যাই
গিয়ে দেখি রুমে একা। ম্যাম যদিও
বলেছিলো
আরো অনেকে নাকি উনার কাছে
পড়ে। বাট
আমি যেয়ে কাউকেই দেখলাম। আমি
গিয়ে
কলিং
বেল দিতেই ম্যাম দরজা খুললো।
.
ম্যামঃ কি ব্যাপার এসেছো?
ওকে, ভিতরে এসো……………
আমিঃ বাকিরা কই?????
ম্যামঃ ওরা চলে গেছে!! আমার
কাছে
থাকতে
ভয় করছে নাকি,?
আমিঃ নাহ!! ভয় তো তুমি পাওয়ার
কথা।
ম্যামঃ ইহ,,, আমি ভয় পাবো ক্যান?
তুমি আমার কাছে এখন থেকে এই
সময়ে আসবা ওকে………………….
আমিঃ হুম ওকে………..
ম্যামঃ আমি তোমাকে একা
পড়াবো…………..
.
আমি হেসে বললাম একা পড়বো কেন?
সামথিং সামথিং নাকি?
ম্যামঃ জানিনা, সময় হলে বুঝবা……….
আমিঃ নাহ আমার ভয় লাগে……………
ম্যামঃ এই দুষ্ট ছেলে কিসের ভয়। আমি
আছিনা।
ভয় লাগলে আমার কাছে আসো।
আমিঃ কেন?
ম্যামঃ আমার সামথিং সামথিং
হয়ে
গেছে……….
আমিঃ কিন্তু আমার হয়নাই……….
ম্যামঃ ওয়েট করো হবে……………
.
কিচ্ছুক্ষণের জন্য সব চুপচাপ এবং স্তব্ধ।
পাশাপাশি দুটি প্রান। যতই হোক
শিক্ষিকা
ভেঙ্গে গেলো সমস্ত অভিমান।
একটু আলো ছায়া, মাঝখানে উষ্ম
হাওয়া।
এভাবেই শুরু হলো নতুন অভিযান।
.
ম্যামঃ এটা কি হচ্ছে????????
আমিঃ রিলেশনশিপ……..
ম্যামঃ মানে কি?
আমিঃ ইন এ রিলেশনশিপ উইথ আওয়ার
কেমিস্ট্রি ম্যাডাম।
ম্যাডামঃ যাও দুষ্ট, আর দুষ্টামি
নয়………..
বিদ্যুৎ চলে আসছে এবার পড়তে বসো।

Please follow and like us:

Post Reads: 1492 Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 + 11 =