সমবয়সী প্রেমের গল্প

গল্প ভালবাসার গল্প
Razia Aktar Moni || 31 July, 2018 ! 10: 19 am

গল্পের নাম : সমবয়সী প্রেম

পার্ট : সম্পূর্ণ অংশ
.
.
প্রথমে আমার পরিচয় টা দিয়ে দিই ।
আমি আতাউর রহমান হৃদয়। এইবার এইসএসসি ফাস করলাম। এখন হিসাববিজ্ঞানের উপর অনার্স করবো। আগামিকাল আমাদের অরিয়েন্টেশন ক্লাস। পরিবারে আমার মা আর আমি। আব্বু মারা গেছেন। তবে একটা বোনও আছে তার বিয়ে হয়ে গেছে। আমার একটা অভ্যাস ওও আছে তা হচ্ছে আমি কারো সাথে তেমন একটা মিশি না। তবে যার সাথে মিশি তার মাথায় উকুন আর থাকে না।

কালকে আমার অরিয়েন্টেশন ক্লাস তাই বেশি রাত জেগে না থেকে তারাতারি ঘুমিয়ে পড়লাম। কারণ আমি চাই না প্রথম দিন আমার দেরি হোক। সকাল বেলায় আম্মুর ডাকে আমার ঘুম ভাঙলো। তারপর ফ্রেস হয়ে। নাস্তা করে কলেজে গেলাম।

ভালই লাগলো কলেজে প্রথমদিন তেমন কারো সাথে পরিচিত হইনি। তবে একজনের হয়েছি তার নাম হচ্চে সাজ্জাদ হোসেন মিশু।
এভাবেই সপ্তাহ খানেক কেটে গেল। কারো সাথে মিশি না। কারো সাথে কথা বলি না। শুধু মিশুর সাথে মাঝে মাঝে কথা বলি।
একদিন মাঠের এক কোণে আছি। তখন হঠাৎ একটা মেয়ে আসলো।
মেয়েটা: হাই।
আমি : হাই।
মেয়েটা : কেমন আছেন?
আমি : ভাল। কিন্তু আপনাকে তো চিনলাম না।
মেয়েটা : আমি প্রিয়া। অনার্স ১ম বর্ষ।
আমি : ওহ। আমিও তো আপনার সাথে পড়ি।
প্রিয়া : হুম। জানি। তাইতো আপনার সাথে কথা বলতে আসলাম।
আমি : ওহ। তাই বুঝি।
প্রিয়া : হুম। তো ফ্রেন্ডস। ( হাত টা আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো)
আমি : ওকে ফ্রেন্ডস।( এমনিতে কোন মেয়েকে আমার ভাল লাগতো না কথা তো থাক দুরের। কিন্ত কেন জানি না এই মেয়েটা কে না করতে পারলাম না)
প্রিয়া : ওকে। তাহলে আমরা একে অপরকে তুমি করে বলি।?
আমি : ওকে।
প্রিয়া : ওকে। চলো ক্লাসে যাব।
আমি : ওকে চলো। ক্লাসের সময় হয়ে গেছে।
প্রিয়া : হুম। চল

এভাবে দুইমাস চলে গেল। কলেজ রেগুলার ক্লাস করা। প্রিয়ার সাথে কলেজ শেষে কলেজ ক্যানভ্যাসে বসে আড্ডা। আর মাঝে মাঝে মিশুও আমাদের সাথে থাকে।
আস্তে আস্তে আমরা সবাই ক্লোজ হয়ে গেছি। সবাই সবাইকে তুই করে বলি। সবাই বলতে মিশুর সাথেও প্রিয়ার ভাল বন্ধুত্ব হয়ে গেছে। মানি আমরা তিন জন এখন ভাল বন্ধু হিসেবে আছি। মিশু একটা প্রেম করে। ওর জিএপ টা দেখতে হেব্বি। তবে প্রিয়ার থেকে বেশি নয়। কারণ প্রিয়া হচ্চে এক্সট্রা অরিডিনারি।
ওহ আপনাদের তো প্রিয়া পুরা নাম বল হয় নি। প্রিয়ার পুরা নাম হচ্ছে সারমিন আক্তার প্রিয়া।

একদিন সকাল বেলায় ঘুমাচ্চি হঠাৎ করে ঘুম ভেঙ্গে গেল মোবাইলের রিংয়ের কারণে ঘুম ঘুম চোখে ফোন টা হাতে নিলাম আর মনে মনে কয়েকটা গালি দিলাম। মোবাইলে স্কিনের দিকে তাকিয়ে দেখি প্রিয়া ফোন দিছে। ভিরক্তি নিয়ে ফোনটা ধরলাম।
আমি : হুু বল।
প্রিয়া : ঘুমাচ্ছিস।
আমি : না গিটার বাজাইতেচি।
প্রিয়া : ওহ। এক কাজ কর গিটার নিয়ে একটু তারাতারি কলেজ আসিস। আমাকে বাজিয়ে দেখাবি।।
আমি : পারবোনা। এখন বল এত সকাল ফোন কেন দিচস?
প্রিয়া : ওহ ফোন দিছি। আজকে একটু তারাতারি কলেজ আসিস কেমন।। ( একটু নরম সুরে)
আমি : ওকে।।।। দেখা যাবে।
প্রিয়া : আসিস কিন্তু। আমি তোর জন্য অপেক্ষা করবো।
আমি : আচ্চা আসবো।
প্রিয়া : ধ্যাংকস।
ফোনটা কেটে দিলো।

তারপর আমি কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে । ফ্রেস হয়ে নাস্তা করে কলেজে আসলাম। এসে দেখি প্রিয়া আগেই চলে আসছে।
আমি : কিরে পাগলি। কখন আসচস?
প্রিয়া : এই হইছে ২০-২৫ মিনিট।
আমি : এত কম। আমি তো মনে করচি ঘন্টা খানেক হইবো।
প্রিয়া : ঐ কুত্তা তোরে তারাতারি আসতে বলছি আর তুই ক্লাস টাইমই আসচিস।
আমি : সরিরে। তুই ফোন দেওয়ার পর আবারও ঘুমিয়ে পড়ছি তাই আসতে পারি নাই।
প্রিয়া : যা লাগবেনা তোর সরি।। এখন ক্লাসে চল।
আমি : ওকে। চল।

তার পর ক্লাসে গেলাম। সবগুলো ক্লাস করে মাঠে কিছুক্ষণ প্রিয়ার সাথে আড্ডা দিলাম তারপর বাড়ি চলে আসলাম। এভাবেই যাচ্ছিল দিন। পড়ালেখাও ভালই চলছিলো। বন্ধুত্ব ও খুব ভাল ছিল।

একদিন কলেজ আসলাম। আসার পর দেখলাম যে প্রিয়া এখনো আসে নাই। তারপর ওকে ফোন দিলাম দেখলাম যে ওর ফোনটাও বন্ধ। ভাবলাম চলে আসবে হয়তো আজকে আসতে একটু লেট হচ্চে । তাই ক্লাসে গেলাম। ক্লাসে স্যার চলে আসলো তবুও প্রিয়া আসে নাই। খুব অস্থির লাগতেছিলো। ভাবলাম একটা ক্লাস পরে চলে আসবে। কারণ প্রিয়া এরকম আরো করেছে। আর সবচেয়ে বড় কথা ওও কখনো ক্লাস মিস দেয় না। এই ভেবে ক্লাসে স্যারের লেকচারে মন দিলাম। প্রথম ক্লাস টা শেষ করলাম। এরপরেও দেখলাম প্রিয়া আসলো না ।
এরপর আর কি করা মন খারাপ করে সবগুলো ক্লাস শেষ করলাম। প্রিয়া আজকে কলেজেই আসলো না। পুরা মুড টাই অপ হয়ে গেল। এক হ্রাস মন খারাপ করে বাসায় গেলাম। বাসায় গিয়ে আবারওও ফোন দিলাম। তারপরেও বন্ধ পেলাম তার ফোন।

এরপরের দিনও কলেজ আসলাম । কিন্তু আজও প্রিয়া কলেজ আসলো না।
এর পর একটানা ৮ দিন প্রিয়ার দেখা পেলাম না। কেন যে প্রিয়ার বাড়ির এড্রেস টা নিলাম না এতদিন। নিজেকে অনেকগুলো গালি দিলাম মনে মনে। কি আর করার আছে। নিজের প্রতি নিজেরই অভিশাপ দিতে মন চাইতেছে। একটা জিনিস বুঝতেছিনা প্রিয়া তো শুধু মাত্র আমার ফ্রেন্ড।তাহলে তার জন্য আমার এতচিন্তা কেন। তারসাথে একদিন না দেখা হলে আমার কাছে এত খারাপ লাগে কেন। তাকে এত মিস করি কেন। তার মানি কি আমি প্রিয়া কে ভালবাসি। হুম। আমি প্রিয়াকে ভালবাসি। প্রিয়া শুধু আমার ভালবাসা নয় প্রিয়া আমার জীবনের একটা অংশ হয়ে গেছে। যা ছাড়া আমার জীবন টাই অচল। প্রিয়াকে ছাড়া আমি কিছুই ভাবতে পারি না। এখন যে করেই হোক প্রিয়াকে আমি আমার সারাজীবনেরর সঙ্গি হিসেবে করে নিতে হবে।

এরপর নবম দিনে গিয়ে প্রিয়ার দেখা পেলাম। এই আট দিন আমার কিভাবে গেছে আমি বলে বুঝাতে পারবো না। না পেরেছি প্রিয়ার সাথে দেখা করতে। না পেরেছি প্রিয়ার সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ করতে। কারণ প্রিয়া মোবাইল ফোন আর ফেসবুক সব অপ ছিলো।
৯তম দিনে আমি মন মরা হয়ে ক্লাসে বসে আছি। এমন সময় প্রিয়ার কথার আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমি ভাবলাম এমনিতে আমার ভাবনার কারণে শুনতেছি। হঠাৎ করে প্রিয়া আমার শরীর ধরে নাড়া দেওয়ার কারণে আমার ধ্যান ভাঙলো।

প্রিয়া : কিরে তুই এভাবে গালে হাত দিয়ে বসে আসিস কেন।
আমি : নিশ্চুপ।
প্রিয়া : ঐ কিরে।।।( জোরে ধাক্কা দিয়ে)
আমি : হহুুু ( থুতু মুতু খেয়ে)
প্রিয়া : কি হইছে। তোর।
আমি : তুই।।। ( অবাক হয়ে।)
প্রিয়া : হু আমিই…
আমি : আমি স্বপ্ন দেখতেছি না তো.?
প্রিয়া : না। তুই এখন দিনের বেলায় স্বপ্ন দেখতে যাবি কেন।
আমি আর কোন কথা না বলে প্রিয়ার হাত ধরে তাকে ক্লাস থেকে সোজা মাঠের এক কোণে চলে আসছি।
প্রিয়া : কিরে হাত ছাড়। আমি ব্যাথা পাচ্ছি তো।
আমি : রাখ তোর ব্যাথা। আগে এইটা বল এতদিন কোথায় ছিলি। আর আমার সাথে এতদিন যোগাযোগ কেন করিস নি।????(হাতটা ছেয়ে দিলাম)
প্রিয়া : ওপস এতো জোরে কেউ কারো হাত ধরে।
আমি : ঐ তুই কথা গুরাবি না। আমি যা জানতে চেয়েছি আাগে তা বল….
প্রিয়া : আসলে এতদিন আনি অসুস্থ ছিলাম তাই কলেজ আসতে পারি নি।
আমি : কিহহহ… তুই অসুস্থ ছিলি আর আমাকে একটি বার কল করে জানালিও না। বাহ ভাল তো ভাল না…..
প্রিয়া : আগে কথা টা তো শোন।
আমি : হুম…… বল
প্রিয়া : তোকে কল করার জন্য আমি ফোনটা হাতে নিলাম তখন আমার অসুখের কারণে হাত কাপছিলো তাই ফোনটা হাত থেকে পড়ে যায়। আর ফোনটার টাচ আর ডিসপ্লে দুটাই নস্ট হয়ে যায়। আর তোর পুরানো নাম্বারটা আমার মুখস্ত ছিলো। নতুনটা আমার জানা ছিলো না তাই তোকে আর অন্য কোন ফোন থেকে কল দিতে পারি নি। কারণ তোর পুরানো নাম্বার টা বন্ধ ছিলো। আর নতুন নাম্বার টা ফোনে ছিলো আমার মুখস্ত ছিলো না।( কথা গুলো বলার সময় প্রায় কেঁদে ফেলতোছিলো)
আমি : আমার কি মনে হয় জানস।
প্রিয়া : কি?
আমি : তুই কারো সাথে ডেটিংয়ে গিয়েছিলি ( ওকে হাসানোর জন্য)
প্রিয়া : হা হা হা। হাসাইলি। আমি আর প্রেম।
আমি : কেন?
প্রিয়া : দেখিস নাই। কতগুলা ছেলেকে আমি তোর সামনে রিজেক্ট করছি। আমার এসব ভাল লাগে না।
আমি : ওহ। তাই তো। কিন্তু একটা কথা।
প্রিয়া : কিহ?
আমি : তুই আর কখনো কিছু হলে আমাকে জানাবি।
প্রিয়া : কেন।
আমি : আরে তুই আসিস নাই বলে আমার কত কস্ট। মনে হইছে আমি তোকে হারাই ফেলছি।
প্রিয়া : আমার জন্য তোর কস্ট হবে কেন। আমি তোর কে?
আমি : আরে তুই আমার……..
প্রিয়া : আমি তোর কি বল না…
আমি : নাহ কিছু না।।। চল ক্লাসে।
সময় হয়ে গেছে ক্লাসে।( বলেই হাটা ধরলাম)
প্রিয়া : আরে ধারা। আমার কথার জবাব দিয়ে যা।
কে কে শুনে কার কথা। আমি তারাতারি করে ক্লাসে চলে আসলাম। কারণ আর কতক্ষণ ওর সামনে থাকলে ওও বুঝে যেত যে আমি তার প্রতি দুর্বল। আর আমি চাই না । ওও জানুক আমি ওর প্রতি দুর্বল। তাই তারাতারি চল আসছি। আমরা পাশাপাশি বসেই ক্লাস করছি কিন্তু তেমন একটা কথা বলি নি। কারণ আমার মনটা ভাল ছিল না তাই। তবে আমরা একসাথে বসে ক্লাস করলে কখনো চুপ থাকি না। পড়ার ছেয়ে কথাই বেশি বলি। তবে আজকে কথা কমই বলছি।

এভাবে ভাল যাচ্ছিলো আমাদের দিনকাল। দুস্টুমি পড়ালেখা আর খুনসুটিরর মধ্য দিয়ে। তবে একটা জিনিস লক্ষ করছি আমার সাথে কোন মেয়েকে মিশতে দেয় না প্রিয়া। কেন জানি কোন ছেলে কে প্রিয়ার পাশে দেখতে পারি না।

একদিন প্রিয়া মাঠে বসে আমি তার দিকেই যাচ্ছিলাম হঠাৎ লক্ষ করলাম একটা ছেলে একটা ফুলে তোয়া নিয়ে ঐ দিকে যাচ্ছে। কি বুঝে আমি ছেলেটিকে জিগাস করলে ছেলেটি বলল সে নাকি প্রিয়াককে প্রপোজ করবে। নিজে কে সামলাতে না ফেরে ছেলেটাকে থ্রেট দিয়ে পাঠাই দিছি । বলছি যদি ওও প্রিয়ার দিকে এক পা বাড়ায় আর তাহলে তার পা ভেঙ্গে হাতে ধরিয়ে দিবো। ছেলেটিকে পাঠিয়ে দিয়ে। তার ফুলের তোয়াটা নিয়ে নিয়েছি। আর সোজা চলে গেলাম প্রিয়ার কাছে।

আমি : কিরে কখন আসলি?
প্রিয়া : হুম তুই চলে আসচস।
আমি : হুম।
প্রিয়া :চল ক্লাসে যাবো।
আমি : ধারা প্রিয়া তোর সাথে কিছু কথা আছে। যদি একটু সময় দিতি।
প্রিয়া : হুম। বল। আর তুই আমার কথা বলার সময় কেন চাচ্চিস।
আমি : আসলে প্রিয়া তুই কথা গুলো তুই কিভাবে নিবি আমি জানি না।তবে কথা গুলো না বলে থাকতে পারবো না।
প্রিয়া : আরে দুর কি বলবি বল তো। আমি তোর কথা অন্য ভাবে নিবো কেন।
আমি : I Love You Priya…I many many love you priya…. আমি তোকে ছাড়া থাকতে পারবো না। কারণ আমি তোকে শুধু ভালবাসি না। তুই আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান একটা অংশ হয়ে গেছিস। যা ছাড়া আমি একদম অচল। জানি না তুই কথা গুলো কিভাবে নিচ্চিস। এতদিন বলিনি এই ভেবে যে। যদি তুই আমার সাথে Friendship টাই নস্ট করে দিস। কিন্তু আমি আর থাকতে পারছি না । তাই আজকে বলেই দিলাম। তবে তুই যদি আমাকে আজকে ফিরিয়ে ও দিস আমি এ বলে নিজেকে সান্তনা দিতে পারবো যে আমি আমার ভালবাসার কথা তোকে জানাতে পেরেছি। সত্যিই প্রিয়া আমি তোকে অনেক ভালবাসি। এখন তোর ইচ্ছা তুই কি আমাকে ফিরিয়ে দিবি নাকি নিজের করে নিবি। ( কথা গুলো অনেক কস্টে বললাম।)
প্রিয়া : এই তুই আমার সাথে ফান করচিস না তো।??
আমি : কথা গুলো শুনে কি তোর মজা করার কথা মনে হচ্ছে?
প্রিয়া : না তা তো মনে হচ্ছে না।
আমি : তাহলে বল।
প্রিয়া : শুন । তোকে একটা কথা বলি।
আমি : বল……… (হঠাৎ বুকের মাঝে মোছয় দিয়ে উঠলো এই বুঝি প্রিয়া আমাকে পিরিয়ে দিলো)
প্রিয়া : আমি তোকে সেই প্রথম দিন থেকেই ভালবাসি। তাইতো তোর সাথে এসে বন্ধুত্ব করি যাতে করে তোকে না হারাই। তোকে ভালবাসি বলেই তো সবগুলো প্রপোজ ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। আর জানিসই তো মেয়েদের বুক পাটে তবুও মুখ পাটে না । তাইতো এতদিন তোর প্রপোজের অপেক্ষায় ছিলাম। আর তুই কিনা ৩ টা বছর লাগিয়ে দিয়েছিস ভালবাসি কথা টা বলতে।
আমি : এই তুই আমায় সত্যিই ভালবাসিস।
প্রিয়া : হুম।
আমি : আরে আমি তো তোর সাথে মজা করছিলাম।…….( একটু বাজিয়ে দেখলাম কেমন লাগে)
প্রিয়া : নিশ্চুপ……. ( দেখি সাথে সাথে মুখটা মলিন হয়ে গেছে)
আমি : সাত পাচ না ভেবে ওকে বুকে টেনে নিলাম।
দেখলাম দুজনেই প্রায় ৩ মিনিট চুপ। এরপর ওও আমার বুকে মারা শুরু করে দিলো।
আমি : একি মারছো কেন ব্যাথা পাচ্ছি তো।
প্রিয়া : কুত্তা হারামি আমাকে কস্ট দিলি কেন।
আমি : হইছে আর কখনো কস্ট দিবো না কথা দিলাম।আমার জানটু।
প্রিয়া : হুম।
আমি : এখন চলো আমরা সারাদিন ঘুরবো।
প্রিয়া : নাহ কোন ঘুরাঘুরি চলবে না।
আমি : কেন?
প্রিয়া : সামনে সেমিস্টার পরিক্ষা। আর মাত্র একটা ইয়ার বাকি। ভাল করে না পড়লে ভাল রেসাল্ট হবে না। ভাল রেসাল্ট নাহলে ভাল চাকরি পাবি না। তাহলে সংসারে সুখি থাকতে পারবো না। তাই ভাল করে পড়ালেখা করতে হবে । বুঝলি।
আমি : হুম বুঝছি। চলো এখন ক্লাসে।
প্রিয়া : হুম। চল। ওয়েট ওয়েট। তুই আমাকে তুমি করে কেন বলতেচস।
আমি : কেন তুই না আমার গার্লফ্রেন্ড। আর গার্লফ্রেন্ড কে তুমি বলবো না তো কি বলবো।
প্রিয়া : নাহ। তুই আমায় তুমি বলতে পারবি না। তুই আমাকে তুই করে বলবি। গার্লফ্রেন্ড হইলে কি হইচে। কারণ আমরা সমবয়সি। আর সমবয়সি রা তুই করেই বলে। বুঝলি।
আমি : ওকে তোর যা ইচ্চা।
প্রিয়া : হুম। এখন চল ক্লাসে।
আমি : হুম চল।

এখান থেকেই শুরু হলো আমাদের সমবয়সি প্রেম। সব প্রেমিক-প্রেমিকারা বলে তুমি করে আর আমরা বলি তুই করে।
তবুও যাক গে তাতে কি আমি তো আমার ভালবাসা কে তো পেয়েছি। তাতেই হবে।

#সমাপ্ত

সম্পূর্ণ গল্প কাল্পনিক। কারো জীবন কাহিনি নয়।।

আর একটা কথা গল্পটি কেমন হইছে। তা কিন্তু জানাবেন। আপনাদের সাড়া ফেলে পরবর্তী গল্প লিখবো।

Please follow and like us:

Post Reads: 880 Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − 12 =